ক্যাফে কাব্যে আকাশ কর্মকার

স্মরণে চারণকবি বৈদ্যনাথ

নামটি তাঁর বৈদ্যনাথ, ধাম রাঢ় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর,
ভাবনায় তিনি আকাশ ছুঁয়ে পার করেছেন সমুদ্দুর।
পিতা ছিলেন রামগতি, মা লীলাবতীর কনিষ্ঠ সন্তান,
কৈশোরেই শুনেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বান।
অরণ্যে আশ্রয়রত বিপ্লবীদের পৌঁছে দিতেন খাবার,
তখন থেকেই বুঝেছিলেন দেশ মানে বৃহৎ পরিবার।
সরকারের রোষানলে খোয়া গেল কেরানীর চাকরি,
বাঁকুড়া ছেড়ে কবি তখন কলকাতায় দিলেন পাড়ি।
আরও তীব্র হল বৈপ্লবিক প্রতিবাদী কবিতার ভাষা,
সমাজ জুড়ে সাম্যবাদ, এই তো ছিল কবির আশা।
আদ্যোপান্ত মার্কসবাদী, গণনাট্যের অন্যতম অঙ্গ,
বোহেমিয়ান সত্তাকে আঁকড়ে ধরে হয়েছিলেন বিহঙ্গ।
মা কালীর শরণে এসে তন্ত্রসাধানায় ব্রতী হলেন কবি,
চারণকবির পরিচয় দিতে লাগে না আজও পদবী।
চড়াই উতরাই ভরা জীবন সঁপেছিলেন কবিতার বুকে,
বিপ্লব থেকে প্রেম, কবিতাই রেখেছিল তাঁকে সুখে।
জমি দখলের কবিতা হতে নুপূর বোষ্টমীর দর্শনে,
প্রতিটা পঙক্তি তিনি এঁকেছেন মানবতার দর্পণে।
কবিতা মেলা উৎসব কবির কাছে ছিল বাঁচার রসদ,
চারণকবি বৈদ্যনাথ স্বয়ং মানবতাবাদী উপনিষদ।
মরণোত্তর সম্মানে কবির ভরছে এখন ঝুলি ঠিকই,
যন্ত্রণায় মোড়া জীবনে কবি শান্তি আর পেলেন কই
ঈশ্বর তো আজও ঝোলেন দেওয়ালে পেরকে গাঁথা,
কিছু মানুষের জীবন মানে অবাধ্য কোনো রূপকথা।
কবিকে যায় না ধরা সামান্য অক্ষরে, তিনি নিরাকার,
পৃথিবী জুড়ে তাই কবির কবিতাকে আজও দরকার।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।