T3 || স্তুতি || শারদ বিশেষ সংখ্যায় আমিনুল ইসলাম

আজকের লেখা
এক
অন্ততপক্ষে একটু হলেও রাখা যেত মন্তব্যের পালক
হাতির চামড়ায় ঘোড়ার আস্তাবলে
অনেকগুলো নক্ষত্রের মলমাস
দেহঘড়ির সম্মুখীন— চটিহীন উলঙ্গ রাস্তা
শিরদাঁড়াভাঙা মোজা
রংচটা শার্টের পিরামিড
পর্বতের পাজামা
তৎসহ এক অনিন্দ্য সুন্দরের নান্দনিকতা
দুই
গুটিয়ে নেননি বলেই
হাড়জিরজিরে দেব-দেবী-ফেরেস্তা
উপাসনালয়ের বাইরে ছবির গ্রাস হয়ে ফুটছে
নিভন্ত ফুলটির নিয়ন্ত্রণ
নিবন্ধিত বিজ্ঞাপনে দেখানো হচ্ছে যার আঙ্গিক
চপবেগুনিঅলা চাঅলা ঝালমুড়িঅলা জলঅলা
ট্রেনের কামরায়
ফুলদানির তলপেটে হাসিগুলোর সেলাই
কতকিছুই পাল্টে দিচ্ছেন ডাক্তার-ভগবান
সময়ের ছন্দে আচমকা দুলছে ডিসেম্বর-জানুয়ারি
জুন মার্চের কোটায় একটা চুমু খেয়ে বসে আছেন মহারাজের অপেক্ষায়
তিন
যদি আমার নাম ভগবান রাখা হত
যদি আমাকে কেউ কুকুর বলেও সম্বোধন করে
যদি আমি ক্রিম মেখে ফর্সা হয়ে যায়…
আঃ এই গনগনে মধ্যযাম
মিহিদানার আদরে
আদর্শকে বেচে
সিঁড়ি ভাঙা ভুখা-চিরুনি
বস্তা বস্তা মাছি-মশা-উকুন-কীট শরীরে জন্মাচ্ছে
চার
আজকাল দেবতার চেম্বারে
দিদিকে নিয়ে
একবস্তা অপেক্ষাদের পাশে বসিয়ে
খুব ক্লান্ত অবসন্নতা ভুলেই গিয়েছিলাম
ওঁদের নিজেদের কোন ভোটব্যাংক
না-থাকায় রাজনীতিও না
তবে ছবিটি একেবারেই অরাজনৈতিক
এমন কাতর ভঙ্গিমাও বাতাসে হতাশা বোলাবে
পায়ে পা এঁকে রাত দখলের খিদে
একদিন এই গাছগুলোই ডালপালা ছড়াবে
জানলা ভর্তি অক্সিজেন টুকে নেবে ভবিষ্যতের
পাঁচ
একমুঠো ভুঁষোকালি সূর্যের মুখে ছড়ালেই
অন্ধকার মনে হয় না
একমাত্র সন্ধ্যা— ডুবোতে জানে তার বিপন্নতা
প্রভুর মঙ্গলে রাস্তা ফর্সা দুধের উতলা নক্ষত্রের রঙিন
ছবির হাঁ-মুখে অসংখ্য লণ্ঠনের জমায়েত
ছয়
মনসামঙ্গল থেকে গণেশ বেরিয়ে আসছেন
আঃ প্রণাম নয়; ছবির ভাষাও তাঁর ইঙ্গিতেই
চোখের অন্ধকারে এতসব চলচ্ছবির ফুরফুরে
একটা স্পেসবারেই পৃথক তলের অবতরণ
মাটি = ইটকাঠ নুড়িপাথর ধুলোবালি ইত্যাদি ইত্যাদি কসমিক আকাশগঙ্গা