গদ্য কবিতায় অদিতি ঘটক

একটি দৃশ্য
একটি দুধের শিশু, সবে এক আধটা দুধ দাঁত দেখা দিয়েছে তার কচি মুখগহ্বরে
সকালের সোনালি রোদ গায়ে মেখে হাসছে
আধোবুলিতে হয়ত প্রকাশ করছে আনন্দ।
বড় স্বর্গীয় সে দৃশ্য।
সূর্যদেব তাকে সামান্য উত্তপ্ত করতে পেরে ধন্য ও কৃতজ্ঞ
রাত্রে ওম দিয়ে গরম রাখতে না পারার জন্য হয়ত কিঞ্চিৎ লজ্জিত
সারা রাত শিশুটি হিম মেখে নক্ষত্রের চাঁদোয়ার নীচে
ধরিত্রীর শীতল আঁচলে গড়াগড়ি খেয়েছে।
দুর্বোধ্য ভাষায় আঙ্গুল চুষতে চুষতে একফালি চাঁদের সঙ্গে গড়েছে সখ্যতার সেতু
ঘন কালো আকাশে তারাদের দেখে ভেবেছে মায়ের রাত পোশাকের নকশা
নতুন শীত পোশাকটি তার ছেঁড়াখোঁড়া।
গায়ে মুখে পোড়া কালির দাগ
শিশুটি সোনালী রোদ মেখে উজ্জ্বল হয়ে
তার ছোট্ট নরম কচি হাত দুটো দিয়ে ডেকে চলেছে তার মাকে
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকা পোড়া মাংসের এক দলা’কে
আশেপাশে তার কেউ নেই,
উঁহু ভুল বলা হল, আছে- ভারী বুট,
আছে অত্যাধুনিক বন্দুক, গ্রেনেডের টুকরো, শ্বাসরোধী ধোঁয়া, পোড়া গন্ধযুক্ত কটু বাতাস।
তার পরিচিত কোনো স্নেহ স্পর্শের অবশেষ আর নেই ধারেকাছে
নেই কোনো ভরসার আঙ্গুল
নেই কোনো ঘনিষ্ট পরিচিত আপন কোল
তার বোধের আগেই ধ্বংস হয়ে গেল তার সদ্য চিনতে শেখা পৃথিবী
তারই মধ্যে কোনো ভারী বুট আপাদমস্তক মারণ আয়ুধে সজ্জিত হয়ে
ঘাড় ঘুরিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে চোখের জল সংবরণ করে কর্তব্যে অবিচল থাকার
ঠোঁটের ফাঁক গলে বেরতে থাকা দীর্ঘশ্বাসের সাথে ঝরে পড়ছে অব্যক্ত খেদোক্তি–
যুগ যুগ ধরে একমাত্র মানুষ-ই পারে তুচ্ছ কারনে বা অকারনে মানুষ মারতে।