T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় অয়ন ঘোষ

বৈষ্ণব সমাজ ও ভগবত আন্দোলন
শ্রীমদ্ভাগবতকে বৈষ্ণবগণ তাদের দীপশিখা বলে মনে করেন আর এই মহাগ্রন্থ অনুসরণ করে দেখা যায় বৈষ্ণবধর্ম বা বৈষ্ণবপন্থা অতীব প্রাচীন। মহাপ্রভুর অনেক অনেক আগে থেকে ভারতীয় সমাজে এঁদের অসীম গুরুত্ব ছিল। ত্রিদেবের অন্যতম শ্রীবিষ্ণু, যিনি বিষ্ণুর আরাধনা অথবা যজন করেন তিনিই বৈষ্ণব। ঋগবেদে বিষ্ণুর উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে আমরা বলতে পারি বৈদিক যুগেও বিষ্ণু আরাধনা ছিল বা বৈষ্ণবরা ছিলেন ( যদিও সেই সময় তারা বৈষ্ণব নামে পরিচিত হতেন না)। এর সাথে বিভিন্ন ব্রাহ্মণ গ্রন্থেও বিষ্ণুর মহিমা কীর্তন করা হয়েছে। প্রাচীন ও আধুনিক প্রায় ২৩৫ টি উপনিষদের অধিকাংশেই বিষ্ণুর শুধু উল্লেখ না তাঁর মহত্ব বর্ণন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি উপনিষদ – “অথর্ব্বশিরঃ” ও “ছান্দোগ্য” উপনিষদে আমরা “দেবকী পুত্র মধুসূদন” ও “দেবকীপুত্র কৃষ্ণ অঙ্গিরস” কথা দুটি পাই। তারপরেও বলতে হবে মহাভারতেই আমরা প্রথম কিছু বিবরণ পাই বৈষ্ণবদের সমন্ধে। মহাভারতের শান্তিপর্বে উপরিচর নামে এক রাজার কথা রয়েছে। তিনি নারায়নের পরম ভক্ত ও দেবরাজ ইন্দ্রের সখা ছিলেন। তিনিই প্রথম সূর্যদেব দ্বারা প্রচারিত “সাত্ত্বত” বিধির সাহায্যে পালনহার বিষ্ণুর ও স্রষ্টা ব্রহ্মার আরাধনা করেছিলেন। “সাত্ত্বত” শব্দের অর্থ সমাহিত হয়ে কাম্য ও নৈমিত্তিক যজ্ঞীয় ক্রিয়া নির্বাহ করা। এই প্রথা অনুসারে মুখ্য ব্রাহ্মণগণ পাঁচ রাত “ভগবৎপ্রোক্ত ভোজ্যাদি” গ্রহণ করতেন। অনেক পণ্ডিতের মতে বৈদিক যুগেও “সাত্ত্বত” বিধি ও পঞ্চরাত্র সম্প্রদায়ের কিছু কিছু অস্তিত্ব ছিল। মহাভারতের এই কথা অনুযায়ী মনে করা হয়
“সাত্ত্বত” বিধানই ছিল এই দেশে প্রচারিত প্রথম বৈষ্ণব ভাবনা। আমাদের বিখ্যাত সপ্তঋষিই – মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু ও বশিষ্ঠ হলেন “সাত্ত্বত” বিধির প্রবর্তক।
শ্রীমদ্ভাগবতে এই “সাত্ত্বত” বিধির যে অনুশীলন পথ তার ইতিহাস পাওয়া যায়। ভাগবত অনুযায়ী স্বয়ং শ্রী বিষ্ণু এই ধর্মের প্রকাশক। সচিদানন্দ স্বরূপ সেই বিষ্ণুই প্রথম এটি ব্রহ্মদেবকে শোনান। ব্রহ্মার থেকে এই শিক্ষা পেলেন নারদ মুনি, নারদ মুনির থেকে শ্রীকৃষ্ণ দ্বৈপায়ন, তাঁর থেকে পুত্র শুকদেব। তারপর অভিশাপগ্রস্ত রাজা পরীক্ষিৎকে শুকদেব এই তত্তকথা শোনান এবং এটি মানুষের মাঝে প্রচারিত হতে থাকে। এই জায়গায় একটি মত আমরা রাখতেই পারি যে, বৈষ্ণবধর্ম, সাত্ত্বতধর্ম, ভাগবতধর্ম ও পঞ্চরাত্রধর্ম বহিরঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত হলেও এরা অন্তরঙ্গে একই ও অভিন্ন। “পদ্মপুরাণ” অনুযায়ী বৈষ্ণবদের চারটি আদিতম সম্প্রদায় – শ্রী, ব্রহ্ম, রুদ্র ও সনক এবং একথাও বলা হয়েছে কলিযুগে এই চারটি সম্প্রদায় থেকে আরো চারটি সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে। এ কথা ধরে নিলে দেখা যাচ্ছে সকল বৈষ্ণবরা এই চারটি আদি সম্প্রদায় ভুক্ত, যদিও কলিযুগে আবির্ভূত হওয়া সিদ্ধাচার্যদের নামানুসারে পরবর্তী কালে সম্প্রদায়গুলির নামকরণ করা হয়েছে –
রামানুজুং শ্রীঃ স্বীচক্রে মধ্বাচার্যাং চতুর্মুখঃ।
শ্রী বিষ্ণুস্বামিনাং রুদ্রো নিম্বাদিত্যং চতুঃসনঃ।।
এই শ্লোক অনুযায়ী লক্ষ্মীদেবী রামানুজচার্যকে, ব্রহ্মা মধ্বাচার্যকে, রুদ্র বিষ্ণুস্বামীকে, ও চারজন সনক ( সনক, সনন্দন, সনাতন ও সনৎকুমার) নিম্বার্কাচার্যকে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের গূঢ়জ্ঞান প্রদান করে আচার্যপদে অভিষিক্ত করেন। বৈষ্ণব পণ্ডিতরা চৈতন্যদেবের গুরু পরম্পরা অনুযায়ী তাঁকে মধ্বাচার্য সম্প্রদায় ভুক্ত আখ্যা দিয়ে থাকেন, যদিও এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক আছে। মধ্ব মতে হরিই পরমজ্ঞান। এই মত অনুযায়ী জগৎ ও তদগত ভেদ স্বীকৃত সত্য। এই জীবজগৎ হরির অনুচর। এদের সুখানুভূতিই হলো পরম মোক্ষ আর সেই মোক্ষ পেতে গেলে দরকার অমল ভক্তি, ” অমল ধবল পালে লেগেছে হাওয়া”। মাধ্বগণ যে গুরু পরম্পরা মেনে চলেন সেই অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণ এদের প্রথম গুরু, এরপর একে একে ব্রহ্মা, নারদ, বাদরায়ণ (কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন), শুকদেব ও মধ্বাচার্য। এর থেকে পঞ্চদশ গুরু পরম্পরায় এসে আমরা পাচ্ছি জয়ধর্মকে। এনার দুই শিষ্য যথাক্রমে বিষ্ণুপুরী ও পুরুষোত্তম। পুরুষোত্তমের শিষ্য “বিষ্ণু-সংহিতার” রচয়িতা ব্যাসতীর্থ। এনার শিষ্য লক্ষীপতি, লক্ষীপতির শিষ্য মাধবেন্দ্রপুরী, মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্য অদ্বৈতআচার্য, ঈশ্বরপুরী ও নিত্যানন্দপ্রভু। ঈশ্বরপুরীর শিষ্য আমাদের গোরাচাঁদ। সেই হিসেবে অদ্বৈতআচার্য ও নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর গুরুভাই।
ভারতবর্ষে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে দক্ষিণ ভারতকেই অগ্রগণ্য ধরা হয়। পণ্ডিতরা মনে দক্ষিণদেশ থেকেই এই ভগবত তত্ত্ব সারা ভারতে প্রবহমান হয়েছিল। কালক্রমে সেই বিমল অনুভূতির মধ্যেও অনাচারের কালো পর্দা নেমে এসে এর জোয়ার স্তিমিত করে দিয়েছিল। এর কারণ হিসেবে উপধর্ম, কুপ্রথার প্রভাব ও ভাগবত বিমুখতাই ছিল মুখ্য। এরই উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদ ক্রমাগত পীড়ন ও পেষণ করে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল মানুষের জীবন। হা-ক্লান্ত মানুষ এই সময়ে করুণার প্রত্যাশী হয়ে উঠেছিলেন। সেই সময় বিগলিত করুণা, জাহ্নবীর তীরভূমিতে পতিত উদ্ধারের হেতু শচীমায়ের কোলে এলেন আমাদের গৌরসুন্দর, সাথে করে নিয়ে এলেন প্রেমের মহামন্ত্র:
নদীয়া উদয় গিরি পূর্নচন্দ্র গৌরহরি
কৃপা করি হইল উদয়।
পাপতমো হইল নাশ ত্রিজগতের উল্লাস
জগ ভরি হরিধ্বনি হয়।।
(শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত)
স্বীয় প্রভাবে ও ঐশ্বরিক চেতনায় মহাপ্রভু মৃতপ্রায় বৈষ্ণব আন্দোলনকে জাগাতে শুরু করলেন নতুন করে। তিনিই প্রথম বৈষ্ণব ধর্মকে একটি আন্তর্জাতিক চেতনা দিয়েছিলেন হরিনাম মন্ত্রে। এই যুগযাত্রায় তাঁর সহায় ও সঙ্গী ছিলেন অদ্বৈত আচার্য ও নিত্যানন্দ ঠাকুর। মহাপ্রভুর সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবরা গৌড়ীয় বৈষ্ণব হিসেবে স্বীকৃত। এই সম্প্রদায়ে উচ্চ-নীচ, আপন-পর, রাজা থেকে ভিখারী কারো মধ্যে কোন ভেদভাব নেই। যদিও এখনকার গোঁসাইদের মধ্যে ভক্তির থেকে সংস্কার ও গোঁড়ামির প্রাদুর্ভাব বেশি। এরা বর্তমানে আচন্ডালে কোল দেওয়া তো দূর, বরং তাদের মধ্যে ভেদ-ভাব তৈরি করতে সিদ্ধহস্ত, আর মানুষকে ভুল ব্যাখ্যা দিতে এদের জুড়ি মেলা ভার। গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা মহাপ্রভুকে রাধা স্বরূপ হ্লাদিণী শক্তি বলে মানেন। তাদের ধারণা অনুযায়ী অদ্বৈত আচার্যের ডাকে ভগবান শ্রীবিষ্ণু মানবরূপ ধরে গৌরাঙ্গ কায়ায় এই ধরাধামে আবির্ভূত হন। অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভক্তরা নিজেদের আচার্যদের অবতার বলে মানেন কিন্তু গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা মহাপ্রভুকে স্বয়ং বিষ্ণু মনে করেন। এরসাথে অদ্বৈত আচার্য ও নিত্যানন্দ ছিলেন তার ভাব প্রচারের মুখ্য কারিগর, সুহৃদ ও তার অংশ স্বরূপ। এই মত অনুযায়ী অদ্বৈত আচার্য সদাশিব, নিত্যানন্দ বলভদ্র, আর শ্রীবাস আচার্য ও গদাধর ভগবত ভাবনা ও শক্তি। শ্রীগৌরাঙ্গ, নিত্যানন্দ, অদ্বৈত আচার্য, গদাধর পণ্ডিত, ও শ্রীবাস আচার্য মিলে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের পঞ্চতত্ত্ব। এর সাথে ষড় গোস্বামী হলেন – শ্রীরূপ, শ্রীসনাতন, শ্রীরঘুনাথ ভট্ট, শ্রীজীব, শ্রীগোপাল ভট্ট ও শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামী। এনারাই আমাদের মহাপ্রভুর ডাকে ও প্রেরণায় লুপ্ত ব্রজধামকে পুনরায় প্রকট করেছিলেন:
শ্রীরূপ শ্রীসনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ।।
এই ছয় গোঁসাই যবে ব্রজে কৈলা বাস।
রাধাকৃষ্ণ নিত্য লীলা করিলেন প্রকাশ।।
এই ছয় গোঁসাইয়ের করি চরণ বন্দন।
যাহা হইতে বিঘ্ননাশ অভীষ্ট পূরণ।।
যদিও বলছি বাংলায় বৈষ্ণব আন্দোলন নবদিশা পেয়েছিল মহাপ্রভুর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে, তা স্বত্বেও এটা স্বীকার করে নিতে কোনো বাধা নেই যে মহাপ্রভুর আগেও এখানে বৈষ্ণব প্রভাব যথেষ্টই ছিল ও এখানের বৈষ্ণবরা কৌলিন্যেরের দিক থেকে কমতি ছিলেন না। জয়দেবের “গীতগোবিন্দ” ও চণ্ডীদাসের “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন” বাঙালিকে বৈষ্ণব গাথা ও রাধাকৃষ্ণের রাগানুগা প্রেমের সঙ্গে পরিচিত করিয়েছিল। “গীতগোবিন্দ” একটি অনন্য রচনা। বারোটি সর্গের – সামোদ দামোদর, অক্লেশ কেশব, মুগ্ধ মধুসূদন, স্নিগ্ধ মধুসূদন, সাকাঙ্খ পুণ্ডরীকাক্ষ, ধৃষ্ট বৈকুণ্ঠ, নাগর নারায়ণ, বিলক্ষ লক্ষ্মীপতি, মুগ্ধ – মুকুন্দ, এই কাব্য স্বচ্ছতোয়া প্রেমানুভূতির ঈশ্বরীয় প্রকাশ। তারপর এই বাংলাতেই মহাপ্রভু আনলেন বৈষ্ণব সংকীর্তনের জোয়ার। সেই জোয়ারে শান্তিপুর ডুবু ডুবু হলো আর নদে একেবারে ভেসে গেলো, ভেসে আপমর বাংলার জনজীবন। নিমাই ধরলেন আমাদের কায়া। যত যত সম্প্রদায় ছিল বৈষ্ণবদের মধ্যে, মহাপ্রভুর আজানুলম্বিত বাহু দ্বয়ের আহ্বানে এক হয়ে তারা শুরু করলেন সংকীর্তন বিপ্লব। তার মহা অন্তর্ধানের পর আবার বাংলার কীর্তন সমাজ ভেঙে গিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা গোষ্ঠী। তাদের কেউ বা অদ্বৈত আচার্যের গোষ্ঠী, কেউ নিত্যানন্দের অনুগামী, শ্রীখন্ডের গৌরনাগরবাদী গোষ্ঠী, গদাধর পণ্ডিতের অনুগামী গদাই – গৌরাঙ্গ গোষ্ঠী, বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর ভক্ত গোষ্ঠী, বৃন্দাবনের বৈষ্ণব সম্প্রদায়, গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধারা, সহজিয়া বৈষ্ণব আরো কত কি! বাংলার কীর্তনের প্রধান পাঁচটি ঘরানা তৈরি হলো – গড়াণহাটি, মনোহরসাই, রেনেটি, মন্দারণী, ও ঝাড়খণ্ডী। কিন্তু এর ফলে যা হলো বাংলার কীর্তনের মূল যে অন্ত্যমিলখানা ছিল তার মূলে আঘাত লাগলো। তখন নরোত্তম ঠাকুর যিনি ধ্রুপদী গড়াণহাটি কীর্তন ঘরানার স্রষ্টা, তিনি চেষ্টা করলেন বাংলার কীর্তনকে আবার একই অঙ্গে ফিরিয়ে আনতে। তিনি ছিলেন খেতুরির জমিদার সন্তান। আজন্ম চৈতন্য অনুরাগী নরোত্তম ঠাকুর কুড়ি বছর বয়সে গৃহ ত্যাগ করে পৌঁছলেন বৃন্দাবন। সেখানে তিনি হরিদাস স্বামীর কাছে নাড়া বাঁধলেন। এই হরিদাস স্বামীর আরো এক বিখ্যাত শিষ্য হলেন গায়ক তানসেন। ইনি ১৫৮১ সালে নিজের জন্মস্থান খেতুরিতে ফাল্গুনী পূর্ণিমায় শ্রীগৌরাঙ্গ, শ্রীবল্লভীকান্ত, শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীব্রজমধু, শ্রীরাধারমন ও শ্রীরাধাকান্ত এই ছয় বিগ্রহ সমাহারে এক বৈষ্ণব মহাসম্মেলনের সূচনা করলেন। এটিকে বলা হয় বাংলার বৈষ্ণব গোষ্ঠীগুলোর প্রথম মহাসম্মেলন। গড়াণহাটিকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের বা বরেন্দ্র কীর্তন ঘরানা, তেমনই মনোহরসাই হলো রাঢ়বঙ্গের কীর্তন ঘরানা। রাঢ়বাংলা ছিল কীর্তনের পীঠস্থান। এখানের কীর্তনের প্রধান তিনটি কেন্দ্র ছিল – শ্রীখন্ড, কান্দরা ও ময়নাডাল। খেতুরির সম্মেলন থেকে ফিরে জ্ঞানদাস, মনোহর, কান্দারার বিখ্যাত বদন ঠাকুর, শ্রীখন্ডের রঘুনন্দন ও ময়নাডালের নৃসিংহ মিত্র মিলেমিশে রাঢ়ের কীর্তন সংস্কার করে নাম দেন মনোহরসাই।