সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে অনিরুদ্ধ গোস্বামী (পর্ব – ২১)

অদৃশ্য প্রজাপতি

স্টেট অফ মাইন্ড
“ডার্কনেস ইস রিলাক্সেশন ,টোটাল রিলাক্সেশন,”
অন্ধকারেই শান্তি কারণ অন্ধকার শাশ্বত। আলো তো আসে আর যায়,অন্ধকার থেকে যায়।
বাড়ি ফিরে মিউজিক সিস্টেম এ স্যাক্সোফোন এ হালকা জ্যাজ চালিয়ে দিলাম। ফ্রিজ থেকে কোক নিয়ে পুরো ঘর এর আলো বন্ধ করে ব্যালকনি তে বসলাম। ব্যাক ওয়াটার এর দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া মনকে শান্ত করতে পারছে না । ব্যাক ওয়াটার এর জল কালো জল কি সত্যিই শান্ত না কালো রং টাই শান্ত ভাব। কালো কে আমরা ভয় পাই । চোখ বন্ধ করে নিজের ভেতরে যাবার চেষ্টা করতে থাকলাম। যত এগোতে থাকলাম তত যেন এক ভয় গ্রাস করতে লাগলে ,একা হবার ভয়। কিছক্ষন পর মন সত্যি আর থাকলো না বা শান্ত হতে শুরু করলো।
কতক্ষন বসে ছিলাম জানি না। রাত তখন একটা।কি করতে হবে এই প্রজেক্ট এ আমার এ নিয়ে আর কোনো সংশয় আর থাকলো না। এক অদ্ভুত ভাবে মন আমার শান্ত। ভেতরেই সমাধান (ওশো)। ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম আর আমার সিদ্ধান্ত গুলো নোট করে নিলাম।
১ ]আমরা মার্কেট এ লঞ্চ এর দিন এগিয়ে এনে পরের সপ্তাহে বুধবার করবো । হাতে আর সাত দিন সময় আছে।
২] কোনো ট্রেড অফার মার্কেট এ দেব না।
3] প্রতিটি এম্পুলের এর দাম অপরবর্তনীয় রাখা হবে
৪] প্রতিটি এম্পুলের এর সাথে ইনজেকশন সিরিঞ্জ ফ্রি দেওয়া হবে।
পরের তিন দিন ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক কি ভাবে কাজ করলে কোম্পানি থেকে ডিস্ট্রিবিউটার আর ওষুধের দোকানে প্রোডাক্ট পৌঁছে যাবে তার একটা রূপরেখা তৈরী করে নিলাম। সেলস টীম এর ভালো সাপোর্ট চাই। সে মতো কুটটি র কে জানিয়ে একটা মেইল করে দিলাম।
পুরো ব্যাপার তা সম্পূর্ণ করার পর মনে হলো চারিদিকে কোলাহলের মাঝে ভেতরেই শান্তি আর সমাধান।
সকালে ভিডিও কনফারেন্স এ প্রজেক্ট প্রোগ্রেশন নিয়ে ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর সাথে কথা হল। একটাই কমেন্ট করলেন “নীল ইওর ফ্রি সিরিঞ্জ কনসেপ্ট উইল ক্রাশ দি কম্পিটিটর ”
সিরিঞ্জ এর পুরোটা আসবে আমাদের কোম্পানির অন্য একটি ডিভিশন এর থেকে। এতে আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন এর কোনো সমস্যা থাকবে না। ফ্রি সিরিঞ্জ প্রোডাক্ট এর সাথেই পৌঁছে যাবে।
পুরো দিন টা গেল সেলস হেড ,ডিস্ট্রিবিউশন,স্টকিস্ট এর সাথে মিটিং এ। সেলস হেড পুরো ব্যাপার টা সেলস টীম কে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্রিফ করল। আমি জোর দিলাম দুটো ব্যাপার এ
এক ডিস্ট্রিবিউটের আর ওষুধের দোকানে শনিবার এর মধ্যে যেন আমাদের প্রোডাক্ট টি পৌঁছে যায় ফ্রি সিরিঞ্জ সহ। বিন্সি সিরিঞ্জ এর প্রয়োজন কতটা হবে তার একটা প্রজেকশন এর মধ্যে তৈরী করে হেড অফিস এ জানিয়ে দিলো।
ব্যস্ত তম দিনের শেষে কুটটি, আমি আর বিন্সি ডিনার এ বেরোলাম ” আরাবিয়ান নাইটস ” রেস্টুরেন্ট এর উদ্দেশে। কালুর – কাদাবানথার রোড এর কাছে এটার স্পেশালিটি হচ্ছে মিডল ইস্ট এর খাবার , তার সাথে সি ফুড। ডিসপ্লে তে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ রাখা থাকে। যেটা অর্ডার করা হবে সেটা সুন্দর ভাবে গ্রিল করে সার্ভ করবে। আফগানী চিকেন এখানকার বিশেষ মেনু।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।