শ্রাবণ শেষ হতে না হতেই কোন এক আলোর বাঁশিওয়ালা এসে সব কালো মেঘগুলোকে নিয়ে উধাও হলো। খেলতে খেলতে পথের ধারে ঘুমিয়ে পড়েছিল দুই ছোট্ট ছোট্ট কালো মেঘের ছানা। চোখ খুলে দেখে চারপাশে কেউ চেনা নেই।
শরৎরানির এখন শুধু ছোটাছুটি। চারদিকে নজরদারি।
সাদা মেঘেরা ভেলা বানালো কিনা, কাশেরা ঠিকমত ঝকঝকে সাদা হলো কিনা, শিউলিরা ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে টুপটাপ ঝরল কিনা – কাজের কি শেষ আছে?
রাতের আঁধার কাটতে না কাটতেই কাজ শুরু। ওমা, কাণ্ড দেখো শিউলিদের! সূয্যিমামা কখন প্রথম কিরণের ঘন্টি বাজিয়েছেন, এখনো তারা শিশিরের কাঁথা গায়ে ঘুমঘুম।
“উঠে পড়, উঠে পড়, ঝরে পড় শিগগির!”
বলেই শরৎরানি চললেন সাদা মেঘেদের কাজকম্মো দেখতে। সেই কবে কালো মেঘগুলো বিদায় নেবার পরপরই আকাশ নীল রঙে ছুপিয়ে দিয়েছেন, এখনো অবধি একটা ভেলার দেখা নেই!
দৌড়ঝাঁপে সারাটা দিনই প্রায় কেটে গেল। বিকেলের নরম রোদ যখন গায়ে এসে লাগল, তখন রানি বড় ক্লান্ত। ধীরে ধীরে বাড়ির পথে চলছেন আর ভাবছেন, কত কাজ বাকি এখনো।
খাল, বিল, পুকুর, নদীর তো খবরই নেওয়া হলো না। পদ্ম, শালুকরা ঠিকঠাক কুঁড়ি মেলল কিনা কে জানে?
তাগাদা না দিলে ভুলেই যাবে হয়ত – দেরি করে ফেলবে ফুটতে। মায়ের বোধনের তো আর বেশি দেরী নেই।
ঋতুরাজের কাছ থেকে আবদার করে কত কষ্টে পেয়েছেন এই অকালবোধন। সব গৌরব রাজা নিয়ে নিলে চলে? তিনিও তো রানি! কিন্তু দায়িত্ব যা যেচে নিয়েছেন তার মান রাখতে হবে তো পুরোপুরি – কোন কাজে ত্রুটি যেন না থাকে।