সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে অনিরুদ্ধ গোস্বামী (পর্ব – ৯)

অদৃশ্য প্রজাপতি

সূর্যের তাপ একেবারে নেই বাম দিক সমুদ্রের থেকে হালকা হাওয়া দিচ্ছে। তার নরম কোঁকড়ানো কেশরাশি আমার মুখের ওপর পড়ছে। হালকা একটা সুগন্ধ আসছে। স্বর্গ কি অন্য কোথাও আমার জানা নেই। কি একটা হলো তার হাত দুটো ধরে বললাম (কবি নির্মলেন্দু গুন্ এর থেকে নিয়ে )
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
ঐ আনন্দে কেটে যাবে সহস্র জীবন।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অহংকারে মুছে যাবে সকল দীনতা।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
স্পর্শসুখে লিখা হবে অজস্র কবিতা।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
শুধু একবার পেতে চাই অমৃত আস্বাদ।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অমরত্ব বন্দী হবে হাতের মুঠোয়।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
তারপর হব ইতিহাস।
আথিরা কি বুঝলো কে জানে !বোধহয় হৃদয় যখন হৃদয়ের সাথে কথা বলে তখন বাইরের শব্দ গুলো নিঃশব্দ হয়ে যোগাযোগ স্থাপন করে। আথিরা আমারদুটো শোর কাছে এগিয়ে এলো আর মুখটা আমার মুখের কাছে তুলে ধরল। চোখ দুটো বন্ধ আর ঠোঁট দুটো ঈষৎ খোলা। সূর্যের আলো
কপালের ঘামে ঠিকরাছে। মনে হচ্ছে দেহের সব রক্ত মুখে ছুটে এসে জমা হয়েচে। লাল একটা আভা। দুহাত দিয়ে আলতো করে মুখটা তুলে ধরলাম। আমার ঠোঁট ছুলো তার কপাল আর আয়ত দুটি চোখের পাতাকে । আমাকে জড়িয়ে ধরে বিকে মাথা রাখলো পরম নির্ভরতায়।
আথিরা ,আই ফাউন্ড মাই “পার্বতী “।

এরপর আথিরা কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেলো। কিছু যেন গভীর ভাবে ভাবছে। লাঞ্চ এ যথারীতি কেরালীয়ান ফিশ কারি মিল নিলাম । কলাপাতায় পরিবেশন করলো। কলা ভাজা , বাঁধাকপি -গাজর কালো জীরে দিয়ে ভাজা সেদ্ধ , আভিয়াল চেরায়াম পরিপ্পু ,কেরালা সাম্বার ,থাক্কালি কারি ,কারি মিন ফ্রাই। ফিশ কারি (সব ই নারকেল তেল দিয়ে তৈরী) । তার সাথে “কারিঙালি ভেল্লাম”(হার্ব মেশানো পানীয় জল,হালকা লাল রং )।
আথিরা খুব ভালো করে খেলো না। যতই চেষ্টা করুক মনের মধ্যে কিছু একটা ঝড় চলছে যেটা চাপা দিতে চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না । অবশ্য মেয়েদের মনের তল কেই বা জানতে পারে !
জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে ?কিছু না বললে শুধু চেয়ে রইলো আমার দিকে সনয়নে। হাত তা শুধু ধরে রইলো সবসময়।
ফেরার সময় হালকা একটা স্যাক্সোফোন জ্যাজ মিউজিক চালিয়ে দিলাম। পাশে সিট তা নামিয়ে আথিরা ঘুমিয়ে পড়লো। হাত গুলো বুকের কাছে জড়ো করে পা গুটিয়ে শুয়ে আছে। মাথা টা বাম দিকে হেলানো।ঘাগড়ার ধার গুলো এখনো ভিজে তাতে বালি লেগে আছে ,সোনার নুপুর ধব ধবে সাদা পায়ে গোড়ালির কাছে ঝুলে আছে ।গাড়ি টা পাশে দাঁড় করলাম। সিট বেল্ট টা ঠিক আছে কিনা দেখে নিয়ে একটা বালিশ মাথার কাছে দিয়ে দিলাম। পেছনের সিট থেকে পাতলা একটা চাদর এনে ঢেকে দিলাম।
আমার এপার্টমেন্ট এ ফিরে আথিরা ফ্রেশ হয়ে নিলো। তার নীরবতা দেখে থাকতে না পেরে জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম ” আথিরা ডিড আই হার্ট ইউ ?
আথিরা : নো নীল । আবার নীরব। কিছু একটা বলতে গিয়ে যেন থেমে গেল। আর বললো ” আই বিল কাম সুন নীল “গলাটা তার কেঁপে গেল কি। দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজার নব টা ঘুরিয়ে আবারো থেমে গেল। আর পারলো না। নীল ….বলে ছুটে এসে বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো। শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ রেখেছে । পিঠটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। আমার বুকে তার চোখের উষ্ণ প্রস্রবণ। একটু সামলে নিয়ে মুখ তুলে বললো “প্রমিস মি নীল ইউ বিল নেভার লিভ মি “।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।