কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে আবু আফজাল সালেহ

আমার চুয়াডাঙ্গায় আসবে না?
মুক্তিযুদ্ধের আঁতুড়ঘর, অবারিত সোনালি খেত
খেজুরের নলেন গুড়, পানের পাতা
পা ধুঁইয়ে দেবে মাথাভাঙ্গার জল–
(মাথাভাঙ্গা যে আমাদের রাইন)
তবু তুমি আসবে না?
এখানের শিমুলবাগানে ঘুঘুর ডাক
শীতে সবুজখেতে অলি ওড়ে, পাটালির গন্ধ
ভাদরে ভৈরব, মাথাভাঙ্গা নারীর মতো কথা বলে
দর্শনার দেশের প্রথম রেলপথে বসে পাশের
কেরু-কোম্পানির চিনির একটুও লোভ হবে না তোমার?
প্রথম ডাকঘর, রেলস্টেশন স্মৃতি
দিগন্তবিস্তৃত নীল আকাশ, নাটুদার হাজারদুয়ারি ঘর
সবুজ আম বাগান যেন প্রেমিকার বিছানো শাড়ির আঁচল
বিচিত্র তারার ঝিলিমিলি, কোজাগরী জোৎস্না
ক্লান্ত কৃষকের বটের ছায়ায় ঘুম
খেজুরের রস, শীতের পিঠা, লাভলী চানাচুর
নজরুলের আটচালা ঘর
ঘোলদাড়ি মসজিদ, আলমডাঙ্গার দ্বিতল রেলস্টেশন
কাশিপুরে শরৎ-বাড়ি
উপভোগ করবে না একটুও ?
একাত্তরের ১০ এপ্রিল শপথ নেওয়ার ইঙ্গিত
খোদাবক্স সাঁই, অনন্তহরি মিত্রের এই চুয়াডাঙ্গায়
আসহাব জোয়ার্দাররা মুক্ত করেন ৭ ডিসেম্বর
যদিও ক্ষতচিহ্ন লালব্রিজে
নাটুদা, ধোপাখালী, মদনায়–
সমগ্র চুয়াডাঙ্গা একাত্তরের ‘টর্চার সেল’।
আমার চুয়াডাঙ্গায় তুমি আসবে না?
খুব দরকার তোমার আমার চুয়াডাঙ্গায়।