ছোটদের জন্যে বড়দের লেখায় A.F.M Shebgatulla (পর্ব – ৮)

সাবির সুবীর আর মাতলা নদী

পর্ব – ৮

সাবির উচু মতন জায়গাটার পাশে আড়াল থেকে দেখলো আবছা ভাবে একটা গোঙানোর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আরো কয়েকজন লোকের চাপা স্বরের আওয়াজ , কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে লোক গুলো ফিশারিতে আলো ফেলছে না। মাঝে মাঝে ফেলছে! এই দৃশ্য দেখেই সাবির সংগে সংগে দেরি না করে কুটিরে ফিরে এসে টিংকু মামা আর সুবীরকে জাগিয়ে তুলল । ওরা ফল কাটা ছুরি, লাঠি , পড়ে থাকা সালতির হাল, মোবাইলের টর্চ নিয়ে লুকোতে লুকোতে এগোতে থাকে। এমন সময় ওরা পৌঁছলো যেখান থেকে গোঙানোর আওয়াজটা আসছে। পূর্ণিমার আবছা আলোয় ভালো না বোঝা গেলেও যিনি গোঙ্গাচ্ছিলেন তাকে যেনো চেনা চেনা মনে হলো! তাকে আষ্টেপৃষ্টে দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখে কাপড় বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। একটু দূরেই ওই লোক গুলো দূরে ফিশারিতে আছে। ওরা দেখলো পাহারাদার বাঁধা অবস্থায় গোঙাচ্ছে! সুবীর একটু সাহস নিয়ে এগিয়ে ফল কাটা চুরি নিয়ে এগুলো। পিছনে লাঠি হাতে টিংকু মামা আর সাবির। সুবীর নিমেষে পাহারাদারের শরীরে বাঁধা দড়ি কেটে ফেললো। এই দৃশ্য ওই লোক গুলোর মধ্যে এক জন দেখে ফেলতেই সে লাঠি নিয়ে সুবীরের পিঠে মারতে এলো। সাবির বিপদ আসছে দেখে ,লুকিয়ে থাকা অবস্থায় বের হয়ে লাঠি হাতে ওই লোকটার পিঠে আগে মেরে বসলো। হুলুস্থুলু কান্ড শুরু হয়ে গেলো।
এদিকে পাহারাদার ,সাবির ও সুবীর, ওদিকে ডাকাত দলের পাঁচ জন। সঙ্গে রাস্তার ভেড়ির কাছে ইঞ্জিন ভ্যান নিয়ে আর এক জন অপেক্ষায়! এই ডাকাতদের আসল উদ্দেশ্য হলো মাছ চুরি করা, বাগদা, মোচা বহু মূল্যের মাছ, ভেটকি তো আছেই। ডাকাত দল জানতো পাহারাদার একাই থাকে ফিশারিতে তাকে বেঁধে রেখে মাছ চুরি করলে কেল্লাফতে। ডাকাতেরা জানতো না সাবির সুবীর, টিংকু মামা আজ এখানেই রাত কাটাবেন।আর এক ডাকাত জল থেকে উঠে সাবিরকে মারতে গেল। এমন সময় সদ্য মুক্ত পাহারাদার ছুটে গেলো সাবিরকে বাঁচাতে। ডাকাত গুলোর সাথে ফিসারির মারপিট যখন তুঙ্গে টিংকু মামা আড়ালেই ছিল। ফোনের পর ফোন করেই যাচ্ছে তার আত্মীয়কে মাঝ রাত তাই ধরছেইনা। ফিশারির মালিকের ছেলে যে ওদের আত্মীয়র বন্ধু তাকেও ফোন করে চলেছে কিন্তু ফোন রিসিভ কেউ করছেই না। সাবির সুবীর ,টিংকু মামা বুঝে গেলো এবার আসল লড়াই শুরু! ফোন যখন কেউ ধরলনা। শেষ চেষ্টা করলো টিংকু মামা ভয়েস রেকর্ড করে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালো, ” আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি, তাড়া তাড়ি ফিশারিতে লোকজন নিয়ে চলে এসো” !
একজন ডাকাতের হাতে ছিল বন্দুক, ও সুবীরের দিকে তাক করতেই টিংকু মামা যে কিনা একটু আড়ালেই ছিল ফোন করার জন্য , হঠাৎ করে পড়ে থাকা শুকনো পলি দুই মুঠো ধরে ডাকাত টার চোখে ছুড়ে মারলো। ডাকত টা চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো! বন্দুকবাজ ডাকাত যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়লো তখন আর এক জন ডাকাত পড়ে থাকি বন্ধুক টা নিয়ে উপরে ফায়ার করলো! এবার যেনো সাবির সুবীর, টিংকু মামা আর পাহারাদার একটু ভীত হয়েগেলো! এক ডাকাত বললো ” সবাই এক জায়গায় আয় আর হাতের সব কিছু ফেলে দে, না হলে এক্ষুনি গুলি করবো “!

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।