ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে এ এফ এম সেবগাতুল্লা (পর্ব – ১১)

সাবির সুবীর আর মাতলা নদী
( বহু পূর্বে গল্পের আগের পর্ব গুলি প্রকাশ পেয়েছিল। সাবির – সুবীর বেড়াতে যায় ক্যানিং টাউন পেরিয়ে ফুলবাড়ি গ্রামে।সেখানে নিকটবর্তী আমঝাড়া গ্রামে তারা রাজা প্রতাপাদিত্য প্রতিষ্ঠিত দূর্গ খুঁজতে যায়। মাঝে ফিসারিতে রাত কাটাতে গিয়ে ডাকাত দলের সম্মুখীন হয়। কিন্তু তারা নিজেদের অজান্তেই অনেক ঝক্কি ঝামেলা সয়ে ফিসারিতে জাহাজ, নৌকা আর এক জোড়া কঙ্কাল আবিষ্কার করে ফেলে)
টিঙ্কু মামা একটু সতর্ক মানুষ ,উনি এই খবরটা গ্রামে ছড়িয়ে দিতে চান না। মামা ঠিক করল পুলিশের ঘেরাটোপে থাকুক এই জাহাজের কাহিনী। পরে না হয় মানুষ জন জানবেখন । শুধু মালিকের ছেলেই না হয় জানুক।
সাবির সুবীরের সাথে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যলয়ের মাস্টারমশাইদের বহু আগে থেকেই আলাপ।ওরা ভাবলো আমরা মাটি খুঁড়তে থাকি ইতিমধ্যে ফোন করে নেবখন।
এদিকে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে হঠাৎ মনে হল আর একটা নতুন কাঠামো এই জাহাজ টির গায়ে লেগে আছে। খুঁড়তে খুঁড়তে মনে হল এটা একটা নৌকার মত। সাবির সুবীর আর টিঙ্কু মামা তো উত্তেজনায় ফুটছে। তবে জাহাজের উপর অজাচিত ভাবে নৌকাটি এসে পড়ায় জাহাজের খনন কাজে একটু অসুবিধা হচ্ছে বৈকি। এমন ভাবেই হঠাৎ ওরা একটা কঙ্কাল দেখতে পেল , এই কঙ্কালটা বিশেষ হৃষ্ট পুষ্ট বলে মনে হলোনা। আরো একটু পর খোঁড়ার পর মনে হল এই কঙ্কালটাকে জড়িয়ে ধরে আছে আর একটা কঙ্কাল বহু মাটির নিচে নৌকার পাটাতনের উপর ।মনে হচ্ছে যেন আলিঙ্গন রত দুই কঙ্কালl নৌকাতে আর কোন কঙ্কাল ছিল না। এমন শান্ত হয়ে যাওয়া নদী, সেখানে আবার ক একশো বছরের পুরাতন জাহাজের ধংসাবশেষ উদ্ধার, তার গায়ে স্থানীয় নৌকা আর কঙ্কাল রহস্য বিষয়টিকে আরো ভারী করে তুললো। সব থেকে চিন্তার বিষয় ছিল এই দুটি কঙ্কাল!
এর পর সাবির সুবীর, টিঙ্কু মামা আর মালিকের ছেলে ঠিক করলো , স্থানীয় থানা ,প্রশাসনকে খবরটা দেওয়ায় হোক। তার সাথে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কে খবরটা জানানো। এর পর থেকেই পুরো গ্রাম জুড়ে খবরটা রটে গেলো। ফিসারীর কাছে নাকি জাহাজ ,কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। এমনিতেই টিঙ্কু মামারা জানতো ছেলেবেলা থেকেই আমঝাড়ার নৌকা বেশি নৌকাডুবির কবলে পড়ত।
এদিকে ওদের দিব্যেন্দু কাকা খবর পেয়ে সাবির ,সুবীরকে ফোন করল। দিব্যেন্দু কাকার বই এর দোকান আছে কলেজ স্ট্রীটে। দিব্যেন্দু কাকা নিজেও ক্যানিং এর ইতিহাস নিয়ে লেখা লিখি করেছেন। নৌকার ইতিহাস নিয়েও তার
বিস্তর আগ্রহ। দিব্যেন্দু কাকাও সাবির – সুবীর , টিঙ্কু মামার সাথে যোগদান করবে বলে জানাল।
তবে কঙ্কালের রহস্য তাদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। টিঙ্কু মামা, দিব্যেন্দু কাকা ইতিহাসের অনেক অজানা ঘটনা জানেন। দিব্যেন্দু কাকার কাছে অনেক পুরাতন দুস্প্রাপ্য বইয়ের সংগ্রহ আছে উনিও পুরাতন বইপত্তর ঘেঁটে জানার চেষ্টা করছেন আমঝাড়ায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল কিনা !
অবশেষে জানা গেলো পঞ্চাসের দশকে ক্যানিং তথা দক্ষিণবঙ্গে একটা ভয়াবহ ঝড় বয়ে যায়। সেই ঝড়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ঘটে যায়। এখন এই জায়গায় যেহেতু একটা জাহাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তাই প্রশাসন সর্বেক্ষনের জন্য পুলিসের পাহারার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। আপাতত সাবির – সুবীর টিঙ্কু মামা কালিকাপুরে ফিরেগেলেন। এদিকে কালিকাপুর স্টেশনে আসতেই সাবির – সুবীরের বন্ধুবান্ধব ওদের পাড়ার লোকজন ওদের ঘিরে ধরে।তবে এরা পুলিস প্রশাসনকে জানিয়ে দিল যে তারা আবার আসবে।
চলবে