আমার মা ৺ শ্রীমতী সবিতা নন্দী। ক্যান্সারে আক্রান্ত। নার্সিং হোমে আছেন। সবাই দেখতে যাচ্ছে, যার যখন ইচ্ছা হচ্ছে। ডাক্তার সেদিন বলল, ” চব্বিশ ঘন্টা বড় জোর উনি আর আছেন। ” একথা আমার বোন সবাইকে জানালো। সবাই একত্রে এলো, শেষ দেখা দেখতে। মা বুঝলেন যে সবাই একসাথে এসেছে মানে তাঁর আর বেশী সময় নেই। কারণ, এর আগে তো সকলে একসাথে কোনদিন আসেনি। তখন তিনি সবাইকে বললেন, ” আমার মৃত্যুর পর কোনও শ্রাদ্ধ হবে না। এই আমার শেষ ইচ্ছা। সেই টাকায় গঙ্গার ধারে যেখানে আমার দাহ হবে, সেখানে গরীবদের ভোজন করানো হয় যেন। ” হ্যাঁ, উনি সারাজীবন সমাজের স্বার্থপরতা, লুটের প্রথা, নিয়মের বিরুদ্ধে নিজেই চলেছেন। আর মৃত্যুর পরও তাই করলেন। শেওড়াফুলি, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গের, হুগলী নদীর তীরে তাঁর শেষ ইচ্ছা সবাই পূরণ করলো। অনেকেই তারপর থেকে মৃত্যুর আগে আমার মায়ের মত শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করে চলেছে। সংস্কার হল শুদ্ধ বুদ্ধির প্রকাশ। আর তাকে কার্যকরী করা হল সমাজ সংস্কারের কাজ। আমার মা তাই করেছেন। আসুন আমারা নবরূপে সমাজকে গড়ি! তাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাই…….