হৈচৈ ছড়ায় অঞ্জলি দে নন্দী, মম

টাকা ও টাক
কয়েক কোটি টাকা।
মাথা তার ফাঁকা।
একটিও নেই কেশ।
টাক চকচক করে।
নাম তার লোকেশ।
হরেক টুপি সাজানো তার ঘরে।
ঘন্টায় ঘন্টায় ঘন্টায়
বদলে বদলে বদলে টুপি পরে।
তবুও খচ খচ খচ করে মনটায়।
দুঃখের ছাপটা তার ওঠে মুখে ফুটে।
কেন যে চুল সব গেল উঠে!
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বদলায় টুপি।
সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা আছে টুপি বহু।
একের পর এক মাথায় পরে
আবার খোলে এক এক এক করে,
দরজা বন্ধ করে,
কুকুটিকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে।
ভয়ে ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি চুপি।
কিছুতেই পছন্দ হয় না আর।
কোনোটাই মানাচ্ছে টাকে তার।
হঠাৎ কান্ড দেখে ফেলে
রেগে জ্বলে ওঠে তার বৌ।
বৌয়ের নাম মৌ।
লোকেশ ভয়ে ঢোঁক গেলে।
এরপরে পোষা কুকুরের মত নেয়।
নাম ওর গুপি।
গুপিই একটি টুপি বেছে দেয়।
লোকেশ সেটি টাকে পরে নেয়।
কুকুরটি ডাকে তখন, ভৌ ভৌ ভৌ।
লোকেশ বোঝে ওর ভাষা।
ও বলে, মানিয়েছে খাসা!
বৌয়ের নয় ও পেয়েছে কুকুরের ভালোবাসা।
মাঝে মাঝেই তার যমজ দু নাতী
ঠাকুরদার টাকে তবলা বাজায়।
তারা তার প্রিয় সাথী।
কখনও বা ওরা রঙে টাক সাজায়।
আঁকি বুঁকি – হিজিবিজি আঁকে,
মসৃন, খোলা, বড় টাকে;
দুজনে বসে দুপাশে,
আর বেদম জোরে হাসে।
লোকেশ তখন খক খক খক কাশে।
পতির রঙিন টাক দেখে
পত্নী – মৌ মুচকি হাসে।
ওর মাথার সব চুল গেছে পেকে।
বৌমা তেড়ে আসে।
যমজ ছেলে দুটোকে নেয় ডেকে।
তোয়ালে ভিজিয়ে জলে,
মৌ মুছে দেয় লোকেশের টাক।
আদরে লোকেশ বলে,
“আই লাভ ইউ মৌচাক!”