নন্দী বুড়ির বগলে বেশিরভাগ সময়ই সিল্কের রুমাল জড়ানো গীতা থাকে। দৈনন্দিন কাজ করতে করতে দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় সেটা পড়ে। মধ্য রাতে সামান্য সময় একটু ঘুমোয়। সেই সময় ওটি বালিশের নীচে রেখে তার ওপরে মাথা রেখে শোয়।
রোজ খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে। নেয়েধুয়ে এসে গীতা পাঠ করে। রাস্তার ধারেই বাড়ি, তার দুয়ারে বসে। সামনের রাস্তা দিয়ে একে একে একে সবাই উঠে হেঁটে যায়।
সেদিন কেউই তাকে পড়তে দেখলো না। দুপুর গড়িয়ে গেল। তাও। বিকাল হল। তখন পাড়ার কয়েকজন মিলে বাড়ির ভেতরে উঁকি দিল। খোলা জানলা দিয়ে নন্দী বুড়িকে বিরাট পালঙ্কের ওপরে শোওয়া অবস্থায় দেখলো। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া মিলল না। এবার দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ওরা দেখলো যে নন্দী বুড়ি আর বেঁচে নেই। অনেকগুলি গীতা তার বিছানায় রাখা। ওরা খুলে দেখলো-পাতায় পাতায় পাতায় টাকার নোট রাখা। ওরা ওগুলি দিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করল। আর যা বাঁচলো তা দিয়ে নন্দী বুড়ির একটি স্ট্যাচু বানিয়ে তার দুয়ারে প্রতিষ্ঠা করল। তলায় বড় বড় করে লিখে দিল ” নন্দী গীতা বুড়ি। ”
কোন কুলে তার কেউই নেই। তাই পাড়ার সকলেই রোজ তার ওই স্যাচু সাফ করত। আর ওর বাড়িটি সকলের গীতা পড়ার জন্য ব্যবহৃত হল। গীতাগুলিও পঠিত হল ঠিক আগের মতোই, যেমন সে রোজ পাঠ করত, বেঁচে থাকতে।