T3 || Valentine’s Day Special || সংখ্যায় অঞ্জলি দে

বাস্তব জীবনে ভালোবাসা
বাস্তব জীবনে ভালোবাসা।
উদাহরণ সব খাসা…
মাকে ভালোবেসে তার সন্তুষ্টির তরে
ছেলে তার বিয়ে করা বৌয়ের গলা টিপে ধরে।
বোনকে ভালোবেসে তাকে তৃপ্তির হাসি দিতে
দাদা তার স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে চায় মেরে দিতে।
বাবাকে যে শ্বশুরের থেকে হবে ধনী বানতে;
ছেলে চাবকে তাই বাধ্য করে পত্নীকে তার বাবার ধন আনতে।
অসংখ্য পরনারী চাই নিত্য নিত্য রাতে বরের।
বউয়ের অধিকার নাই তাই তার বরের ঘরের।
যদিও বিয়ে করা সঙ্গী সে, তবুও সে চির পরের।
স্বামীর তো ফুর্তির প্রাণ।
স্ত্রী তো ভুলেই গেছে পতির মিলন-ঘ্রাণ।
সদাই বাইরে উরু উরু উরু মন তার।
পত্নী তো শুধুই ভারী করে পতির ঘাড়।
স্বামী বলে, ‘ওঃ স্ত্রীর থেকে নাই কি আমার পরিত্রাণ?’
স্ত্রী তো স্বামীর অসহ্য বোঝা-ভার।
তাই বিদ্ধ করে পতি পত্নীকে তীক্ষ্ণ কটু বাক্য বাণে,
অশ্রু সিক্ত করে তাকে অযথা অকারণ অপমানে।
সবাই মিলে একসঙ্গে
কঠোর নিষ্ঠুর আঘাত হানে
বউয়ের মন, হৃদয় অঙ্গে।
রমণীর জীবন কাটে আশা, ভালোবাসা ভঙ্গে।
আর অত্যাচারী, নির্যাতনকারী হাসে কতই রঙ্গে।
ক্যানো বর খেটে করবে রোজগার বৌ পালনের তরে?
তাই বউকে বাঁচতে হয় তার বাপের বাড়ির দানে।
শ্বশুর বাড়ির সবার জন্যই বাপের বাড়ি থেকে সবই সে আনে।
অথচ বধূ সারাদিন খেটে স্বামীর বাড়ির সবার সেবা করে।
তারপর যখন অসুখে পরে,
ধরে দিয়ে আসে পতি পত্নীকে বাপের বাড়ি।
বৌকে সুস্থ করা তার দায় ভারী!
হায়! হায়! সাত পাকে ঘোরার মানে আজ ভিন্ন।
শুভ দৃষ্টি আজ ঘৃণ্য।
মালা বদলের মালা আজ ছিন্নভিন্ন।