|| বাইশের বাইশে শ্রাবণ একটু অন্যরকম || বিশেষ সংখ্যায় অভীককুমার দে

রবিসৃষ্টিতে যাপনের অনুলিপি বিষয়ক চিঠি
প্রিয়
রবিদা,
জানো, আজ হোসেন ভাই এক অদ্ভুত কথা বলেছেন-
‘দেনাপাওনা’ আর ‘ঘাটের কথা’ সব নিয়েই তুমি রবি ঠাকুরের ‘ফেরীওয়ালা’-
কবির চিঠি এক নিরুপমা…
আচ্ছা তুমিই বলো-
তোমার ফেরিওয়ালা হতে পারলে আর কিছু কি চাওয়ার আছে ?
তোমার ‘ঘাটের কথা’ শুনে শুনেই ভুলে যেতাম যতসব ‘দেনাপাওনা’।
তুমি তো জানো না-
আজকাল এখানে ‘চোরাই ধন’ ‘শেষ কথা’।
‘একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প’ আবার ‘সমাপ্তি’ থেকে ‘মধ্যবর্তিনী’,
‘রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা’ বলে চালিয়ে দিতে পারলেই
‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ এবং
‘ত্যাগ’ ‘মুক্তির উপায়’ এসব ‘এক আষাঢ়ে গল্প’…
‘রাসমণির ছেলে’ ঠিক জানে, ‘হৈমন্তী’ এ দেশে ‘বৈষ্টমী’ নয়,
‘মাল্যদান’ ‘শুভদৃষ্টি’ এসব বাদ দিয়েই
‘গুপ্তধন’ ‘পয়লা নম্বর’, ‘পুত্রযজ্ঞ’…
‘রীতিমত নভেল’, তারপর-
‘সংস্কার’ ‘করুণা’ এসব ‘পণরক্ষা’ মাত্র,
‘স্ত্রীর পত্র’ ‘নিশীথে’ অন্য এক ‘ল্যাবরেটরি’; অথচ
‘বিচারক’ বলছেন, ‘অসম্ভব কথা’!
‘দিদি’ দেখছেন-
‘অতিথি’ সবাই, নিজের ‘দৃষ্টিদান’ করে ‘মুক্তির উপায়’ খোঁজে, আর
দিল্লির তিনি ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করেও ‘ফেল’ !
‘মেঘ ও রৌদ্র’ মেখে এই যে ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ মানুষ,
এই যে ‘সদর ও অন্দর’ থেকে ‘ডিটেকটিভ’ ‘আপদ’
‘অনধিকার প্রবেশ’ বলে প্রতিহিংসার ‘মুসলমানীর গল্প’…
এই বুঝি ‘মুকুট’ ? এটাই কি ‘শেষ পুরস্কার’ ?
এ সময়ের ‘রাজপথের কথা’ তুমি তো জানো না,
‘স্বর্ণমৃগ’ খুঁজে ‘জীবিত ও মৃত’ মিছিলে ‘মহামায়া’,
‘সমস্যাপূরণ’ না হলেও ‘উলুখড়ের বিপদ’,
নাগরিকের ‘খাতা’ ‘কাবুলিওয়ালা’র মতই ‘সম্পত্তি- সমর্পণ’,
এসব কোনো ‘তারাপ্রসন্নের কীর্তি’নয়;
‘কঙ্কাল’ মানুষ হাঁটছে বছরের পর বছর,
‘রাজটিকা’ লাগিয়ে মা ‘অপরিচিতা’, ‘ভিখারিণী’ !
‘জয়পরাজয়’ কার ?
এ কেমন ‘কর্মফল’ ! এ কেমন ‘নষ্টনীড়’ ?
ইতি-
তোমার বাসুদেব।