জন্মাষ্টমী স্পেশাল এ অভীককুমার দে

চিরজাগ্রত প্রাণ রঙ ঢালে জীবনের
এই সৃষ্টির প্রকৃত সাধক প্রাণ। প্রাণকে অনুভূতির স্পর্শ ছাড়া কিছুতেই ছোঁয়া যায় না। অনুভবের স্পর্শের জন্য প্রাণ নিজেই অবস্থান করে ভাবুক হৃদয়ে। আবার এই প্রাণ জেগে থাকে আর জাগিয়ে রাখে চেতন পঙ্খীরাজ। অর্থাৎ, প্রাণ মুক্তময়।
চিরজাগ্রত প্রাণ রঙ ঢালে জীবনের। জীবনের রঙ প্রকৃতির গর্ভ-ঘরে প্রবাহিত চোরা নদী। বাঁকা পথে ধরা দেয় রূপ। রূপের ভেতর প্রাণ নিজেই প্রাণী হয়ে ওঠে। প্রাণী হয়ে প্রাণে প্রাণে নিজেই স্থাপিত হয়, আর স্থাপন করে সাধনার পটভূমি। এত এত মাটি নিয়েও এই পৃথিবী যেমন, ভূমিহীন; হন্যে হয়ে ঘোরে। কোথায় কার শূন্য বুকের অতল, কে ডুবেছে বায়ুর ছলে ?
এই পৃথিবীজুড়েই প্রাণের রকমারি আয়োজন। আবার প্রতিটি প্রাণীর ভেতরেই একেকটি পৃথিবী। পৃথিবী ও প্রাণী একে অন্যের হৃদয় ছুঁয়ে খুঁজতে থাকে প্রাণের হৃদয়কথা। কার কাছে, কার দোকান, কে খোলে ? নিজেকে নিজের কাছে উপস্থাপন করে সামগ্রীর মত। দর-দামের পর বেচাকেনা। মূল্য যার প্রকাশ পায় খুশি আর বেদনায়।
খুশির যাবতীয় প্রকাশ ভঙ্গিমা হাসি। যেহেতু প্রাণ সৃষ্টির একমাত্র প্রকৃত সাধন সেহেতু, হাসি ফোটানোই শ্রেষ্ঠ সাধনা। কঠিন সাধনায় যদি প্রাণীর প্রাণে আনন্দ জাগে তবে, হাসি ফোটে। হাসির ফলে উভয়মুখী তরঙ্গ প্রবাহিত হয় বাইরে ও ভেতরে। তরঙ্গ থেকে জেগে ওঠে ঘোরলাগা শব্দ। প্রবাহের পিঠে প্রাণের শব্দ শব্দভুবনেই মিশে যায় বাইরে। ভেতরে তার উপভোগের প্রণাম সিঁড়ি বেয়ে নামে। যতই অন্দরে যায়, ততই জড়িয়ে ধরে মুহূর্তের শান্তি। বাকি সব অভিযোগ, অভিমান হয়ে ঘোরে অসুখের তল্লাটে।
এক পৃথিবীর মানুষ, আমরা। প্রতি মুহূর্তেই প্রকাশ করি মনে অগণিত ইচ্ছে। তার ভেতর শান্তিময় মুহূর্তগুলো বাদ দিলে পড়ে থাকে বিস্তীর্ণ মরুভূমি বুক। সেখানেও জেগে ওঠে ঘোরলাগা শব্দ। বেদনার বালুঝড় গতিশীল হলে কান্নার ঢেউ, উত্তাপ ছড়ায় বাইরে ও ভেতরে। বাইরে যার ভারবাহী কতিপয় অনুসরন। ভেতরে ভারাক্রান্ত খরাভূমি।
আমরা যা পাই না, তা পাবার জন্য লড়াই করি নিজের সাথেই। সাধক প্রাণ প্রদর্শন শেষে মুক্ত হয়ে যায়।