সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ৭৩)

না মানুষের সংসদ
পরিযায়ী পাখিরা কেউ কেউ তাকে পাহাড়ের দেশে দেখেছে । কার্সিয়াং শহরে ইদানিং সে বসবাস করছে । অশান্ত পাহাড়ে সে তার সহমর্মী কিছু দুষ্টু শেয়ালকে একত্রিত করেছে । যদিও পাহাড়ি শেয়ালেরা সমতলে আসতে আগ্রহী নয় ।
নন্দ-স্যার লাল বুলবুলির কাছ থেকে মন দিয়ে সমস্তটাই শুনেছেন । সেই বিদেশিনী আরো সুন্দরী হয়েছে । পলাশিপাড়ায় না-মানুষদের নাগরিকত্ব নেওয়ায় লাল বুলবুলির কোন আগ্রহ না থাকলেও ভোটপর্বের সময় সে থাকবে । তাকে নন্দ-স্যার নিরপেক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব দিলেন ।
নন্দ-স্যার কয়েকদিন স্থানীয় ব্লকের নির্বাচন দপ্তরেও গেলেন । সেখানে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের কাজ-কর্ম চলছে । আসন-সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল । তাই নন্দ-স্যার না-প্রাণিদের নির্বাচনে সংরক্ষণের বিষয়টি তুলে দিলেন ।
নন্দ-স্যারের হাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় আছে । কতো যে উড়ো খবর আসছে । ভেবেছিলেন সেই রাতেই ভোটপর্ব শুরু করবেন । প্রস্তুতির জন্য কয়েকটা দিন কেটে গেল । বিশেষভাবে ব্যালট-পেপার তৈরির কাজের জন্য ডাকা হল কালো ফুটকিকে । বাবুই পাখিরা তার কথা বলেছে । ব্যালট-বাক্স চমৎকার তৈরি করেছে বাবুই ।
কালো ফুটকির দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ফলতা থেকে উড়ে আসতে একদিন লাগল । পাখিটা দেখতে লালচে-পাটকিলে তবে তার ডানায় আর গায়ের ওপর কালো কালো দাগও রয়েছে । সে এসে নন্দ-স্যারের বারান্দায় বসল । মুখে আওয়াজ করতে থাকল ‘জিক্ জিক্’ । মুখ তুললেন নন্দ-স্যার । বাবুই সংক্ষেপে পরিচয় করাল ।
নন্দ-স্যার বললেন,
নমুনা কিছু এনেচ !
কালো ফুটকি তখন একটা ঘাসের বটুয়া বের করল । মাকড়সার সাদা জাল, সবুজ ঘাসের চওড়া পাতা দিয়ে তৈরি ।
নন্দ-স্যার বললেন,
দেখতে বেশ খাসা কিন্তু ব্যালট পেপারটা সকলকে একবার বোঝাতে হবে ।
এবারও নন্দ-স্যার গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন । এই বোটকা বাবুইয়ের বাসায় ফেলতে হবে কিন্তু কোন প্রতীক ছাড়া আলাদা করা যাবে না । মানুষের নির্বাচনে থাকে রাজনৈতিক দল । তাদের চিত্র-বিচিত্র প্রতীক । নন্দ-স্যার পলিটিক্স পছন্দ করেন না । ফলে ঠিক করলেন কোন দলের প্রতীক থাকবে না ।