ইন্দ্র স্যার বললেন,
এটা আমাদের শেষ রিহার্সাল । কাল আমাদের এই মঞ্চে আসল নাটক – বসন্তে ব্যাকুল স্বার্থপর দৈত্য ।
চিত্রলেখা বলল –
মন কি পারবে ! ‘ও’ তো এর আগে রিহার্সাল দেয়নি ।
ইন্দ্র বললেন,
খুব পারবে । মনের তো পক্ষীরাজ ঘোড়া আছে – সে-ই মনকে শিখিয়ে দেবে । পারবে তো মন!
মন মায়ের আঁচলের মধ্যে এতোক্ষণ মুখ লুকিয়ে ছিল । এবার সে খানিকটা বেরিয়ে এলো ।
ইন্দ্র স্যার বললেন – তুমি হচ্ছো মন – সেই দেব শিশু । তুমি দেখতে থাকো – আমি তোমায় ডেকে নেব ।
ফাইনাল রিহার্সাল শুরু হল । প্রথমে ছোট ছোট শিশুরা বাগানে খেলছিল । মনও খেলছিল । হঠাৎ সেই দৈত্য এলো । এতোদিন সে গেছিল মাসির বাড়ি ।
কারা তোরা, কারা তোরা ! পাজি, ছুঁচো সব হতচ্ছাড়া । পালা, পালা – দেখলে তোদের ধরে জ্বালা ।
দৈত্যের হুংকারে সকলেই পালিয়ে গেল । তখন দৈত্য একটা কাগজে লিখল –
এই বাগানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ ।
আর সে জোরে জোরে বলতে থাকল –
আমার বাগান – এই বাগান শুধু আমারই ।
তারপর সেই দেশের সব বাগানে বসন্ত এলো শুধু দৈত্যের বাগানে এলো না । তার বদলে এলো চির শীত । তুফান, ঝঞ্ঝা । তুফানকে চেনে ‘মন’ । তার বান্ধবী – সোনালি ।
তুফান স্টেজে উঠে বইতে থাকল । ইন্দ্র – স্যার ওকে নাচ শেখায় । ওকে দেখে মনের খুব সাহস হল । সে ভাবল, সেও তো পারবে । ইতিমধ্যে ইন্দ্র – স্যার বলেও দিয়েছেন তাকে কি করতে হবে ।
দৈত্য বলল –
এখানে আছ তো বেশ খাসা । যাওয়ার নামটিও নেই ।
শীত বলল,
আপনার ইচ্ছেয় হুজুর ।