শেয়াল নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল –
নদী নির্যাতিতা । নির্বিচারে বেআইনি মাটি কাটতে কাটতে পৃথিবীতে জল-সংকট দেখা দিতে পারে ।
সবাই বলে উঠল ঠিক, ঠিক ।
টিকটিকি নিশ্চুপ রইল ।
শেয়াল মহা সেয়ানা, সে তখন বলল –
সভাপতির অভিপ্রায় বুঝতে পারছি না ।
অগত্যা টিকিটিকি বলল –
আমি সম্মত কিন্তু ভেঙে বলো ভায়া ।
শেয়াল তখন বলল –
নদী কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে ফেলেছে কিন্তু তার গর্ভে তো জল রয়েছে । আর মহানদীদের কথা ভুলে গেলে তো চলবে না । বর্ষায় নদী আনবে প্লাবন । ঘর-বাড়ি ভাসিয়ে দেবে । অনেক নর-নারীর মৃত্যু হবে ।
টিকটিকি বলল –
অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা করে কথা বলো শেয়াল । আমাদের কি হাল হবে সেই বন্যায় !
পক্ষীকুলও কিচির মিচির করে বলে উঠল, সর্বনাশা বুদ্ধি ।
কিছুদিন আগে মানুষেরা কয়েকটা শেয়ালকে বেঁধে রেখে লেজ কেটে দিয়েছে ।
শেয়াল সংক্ষেপে সেই অপমানের কাহিনি পেশ করে বলল –
আমি মানুষজাতির নিধন চাই । তবে আবার ফিরে আসবে অরণ্য । আমাদের সুখের দিনও ফিরে আসবে ।
টিকটিকি তখন বলল –
এইভাবে হবে না । মানুষ বুদ্ধিমান জাতি । তাদের হাতে প্রযুক্তি রয়েছে । ওরা রক্ষা করবে নিজেদের – মরব আমরা ।
মা হংসী বলল,
তবে কি উপায় সভাপতি ! তুমি আমাদের সংসদের প্রধান ।