বিশ্বাস আর ভালোবাসার পাতাগুলি হলুদ আর
জরাজীর্ণ হয়ে এসেছে
তবু এখনও ছিঁড়ে ফর্দাফাঁই হয়ে যায়নি
ওই পাতাগুলি যতদিন থাকবে আমিও ঠিক ততদিনই
আমার কত বিশ্বাস বখাটে লম্পট হয়ে গেছে
কত আনন্দসভা শোকসভা হয়ে গেছে
মিছিলের মুখ বদলে যেতে দেখছি
শীতে কাঁপতে থাকা ভিখারী এলাকা দখলে নেতা
বিষাদের দিন বড়ো বিষাদ খেলে বেড়ায় সর্বাঙ্গে
অনেকে ভাবে জীবনটা আরো ভালো হত….আরও ভালো
কি যে করলাম
কেউ কেউ খুশীতে উপচে যায় এক জীবনেই
হাঃ, হাঃ, হাঃ আমি প্রাণ খুলে হাসব
ভোরবেলা একটা পাখি জানলা দিয়ে ডাকছে
যাওয়ার সময় কাউকে খারাপ ভাবতে নেই……
অনির্বাণ চ্যাটার্জ্জী
অন্য জগৎ
নলেন গুড়ের পায়েস, ছানার ডালনায় মা মা গন্ধ /
বয়স যত বাড়ছে বাবার লেখা পোস্টকার্ড খুঁজি /
জন্মদিনে লুচি ভাজার গন্ধ, রসগোল্লার পায়েস /
বাংলা নতুন বছরে “হাসিখুশী”,”বাঁটুল দি গ্রেট”/
দোকানে দোকানে ক্যালেন্ডার আর মিষ্টির প্যাকেট /
##
দিনগুলো খুব সহজ আর নরম ছিলো
তখন /
বাংলাদেশের মাটিতে ছিলো বাউল গন্ধ/
রেডিওতে হেমন্ত মুখার্জির রানার, মহালয়ায় বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র /
বিয়েবাড়িতে ছ্যাঁচড়া, মাছের মাথা দিয়ে মুগডাল /
বাবাকে দেখতাম রাত্রি দশটায় পার্টি অফিস ফেরত /
একবার ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় কলকাতা ফেরত বাবা আমার জন্য /
কটি বই এনেছিলো/
তার একটি ছিলো ” স্ফুলিঙ্গ থেকে অগ্নিশিখা” “মনীষা গ্রন্থালয়ের”/
বাবা বললো, পড়ে দেখো/
শুরু করলাম, প্রচ্ছদে একটি লোক, দাড়িওলা, হাত তুলে শ্রমিকদের উদ্দেশ্য ভাষণ দিচ্ছেন /
” লেনিনের দাদাকে জারের সৈন্যরা ধরে নিয়ে গিয়ে মৃত্যুদন্ড দিচ্ছে… আর/
একজন বিপ্লবীর জন্ম হচ্ছে “/