মনে মনে ভাবল – বাঃ এতো মেঘ না চাইতেই জল । চশমাপাখি ছাড়া পেঁচা লিখবে কি করে ! তার তো আবার দৃষ্টিশক্তির সমস্যা রয়েছে ।
টিকটিকি চশমা পাখিকে বলল –
তুমি কি সেদিনের সভায় ছিলে !
চশমা পাখি হেসে বলল –
না হলে – তুমি যে আমাদের সভাপতি জানলুম কি করে !
টিকটিকি লজ্জা পেল । তাই তো – চশমা পাখি প্রথমেই তাকে ‘সভাপতি’ বলেই সম্বোধন করেছে ।
তুমি ছিলে তাহলে ।
চশমা পাখি এবার সম্মান দেখিয়ে বলল –
হ্যাঁ মহাত্মন ।
এই সম্বোধনে বিগলিত হয়ে পড়ল টিকটিকি । চোখে তার প্রায় জল চলে এলো । এতোদিনে তার জ্ঞানের সমাদর হতে চলেছে । ক্ষমতা লিপ্সু শেয়ালকে এই সম্মান কেউ করবে না ।
টিকটিকি সরাসরি বলল –
ভাবছি জ্ঞানী পেঁচাকে দায়িত্ব দেবো কীটপতঙ্গ এবং আমাদের ইতর প্রাণিকুলের সংবিধান রচনার ।
উত্তম প্রস্তাব ।
টিকটিকি বলল – পেঁচার দৃষ্টিশক্তি ভালো নয় । তোমাকে লিখনের ব্যাপারে সাহায্য করতে হবে ।
চশমা পাখি বলল,
আপনার আদেশ পালন করব মহাত্মন । আপনি ইতর প্রাণিদের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করলেন । তবে আমি তো কখনও মানুষের সংবিধান চোখে দেখিনি ।
নন্দ-মাস্টার প্রাতঃ ভ্রমণ থেকে ফিরে যাচ্ছে দেখে টিকটিকি বলল, তোমার সঙ্গে পরে কথা বলব । আজ রাত জাগতে হবে । পেঁচাকে তো রাতে ছাড়া পাওয়া যাবে না ।
চশমা পাখি বলল, ঠিক আছে – যখনই প্রয়োজন হবে, আমায় ডাকবেন । ভোরবেলা আমবাগানে এলে আমায় পাবেন ।