মন চিত্রলেখার দিকে তাকিয়ে বলল,
মা বলেছে তোমাকে ‘স্যার’ বলে ডাকতে । আর ‘আপনি’ বলতে । সম্মান দিতে ।
হো হো করে হেসে উঠলেন খৈতান মৈত্র । কিন্তু বন্ধুকেও কেউ ‘আপনি’ বলে ।
মন বলল, না ।
এছাড়া তুমি আর আমিই তো পক্ষীরাজের পিঠে উঠব । তুমি যদি আমাকে ‘আপনি’ বলো পক্ষীরাজ তো রেগে যাবে ।
মন তখন উঠে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে বলল,
কৈলাস বোস লেনের দাদুও একই কথা বলে ।
চিত্রলেখা বলতে যাচ্ছিল যে মন একজন মৃত দাদুর স্বপ্ন দেখে । আর সেই লোকটার জীবন ছিল যাবতীয় আজগুবিতে ভরা । খৈতান মৈত্র চুপ করিয়ে দিলেন ।
সেই দাদুতো আমার বন্ধু ছিলেন । আমি জানি তো তাঁকে । কতো যে পক্ষীরাজ ছিল তাঁর ।
মন চোখ বড়ো বড়ো করে বলল –
অনেক পক্ষীরাজ ছিল, তুমি জানতে তাঁকে ।
তোমার মতন আমার সঙ্গেও তাঁর স্বপ্নে দেখা হয় ।
তারপর চিত্রলেখার দিকে তাকিয়ে বললেন,
ড. মন্মথ চৌধুরী ১০ নম্বর কৈলাস বোস লেনে থাকতেন । পৃথিবী – বিখ্যাত বিজ্ঞানী । আপনি তাঁকে খ্যাপাটে বলে জানেন এখনও অবধি আর আপনার মেয়ের কাছে তিনি স্বপ্ন – পূরণের আদর্শ ।
বিমান বলল,
আমার মায়ের ‘মামা’ ছিলেন তিনি । দূর সম্পর্কের । কয়েকদিন আমরা ছিলাম তাঁর কাছে । কিন্তু তিনি তো স্থাপত্যবিদ ছিলেন ।
খৈতান মৈত্র বললেন,
আপনার মেয়ে ব্রিলিয়েন্ট আর সাধারণ হচ্ছেন আপনারা । তাই ওকে বাধা দিচ্ছেন নিজের মতো করে স্বপ্ন দেখার । আর ড. চৌধুরী আই আই টি খড়গপুরের আর্কিটেক্ট নিয়ে পড়েন কিন্তু ওঁর মতো মানুষের কোন সীমারেখা হয়না ।