ক্যাফে কাব্যে অরুণাভ চক্রবর্তী

খালি নিয়ে কথকতা
খালি খালি দিওনা গালি
করোনা মুখ খারাপ,
তোমার কথায় প্রকাশ হয়
তোমার চরিত্র বাপ।
হাত খালি পেট খালি
পকেট হলে খালি,
পথে বসে বাজাবো কি
সোনার এক থালি?
খালি গায়ে ও গামছাটি পরে
ধরে মাছ কেউ ঘোলা জলে,
একে বলে প্রবাদ নষ্ট করা গো
সরস্বতী মা যে আমায় বলে।
গিন্নী বা কর্তা না থাকলে বাড়ি
কার হয় লাভ কার চোখে বালি,
এটা হয় ফল্গু ইচ্ছাপূরণে মতি
দোষারোপ দিওনা খালি খালি।
ভোরে উঠে খালি পেটে খাও
এক গ্লাস উষ্ণ জল,
এটা শরীরের পক্ষে খুব ভালো
পাবে অবশ্য সুফল।
খালি হাতে বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ
রক্ষা করে খুব হয় বলি আনন্দ,
‘উপহারে নয় আশীর্বাদ কাম্য’
কথাটায় উৎসাহিত এ নয় মন্দ।
বাজারে গেলাম যে খালি হাতে
টাকা থলিতে নিতে হলো ভুল,
কি করবো এখন কি উপায় হবে
ভেবে ভেবে হলাম যে আকুল।
হরিবোল শব্দটা হরিবেল হরহর হলে
মনে হয় ছুটে যাই ভয়ে মায়ের কোলে,
মায়ের কোল খালি দেখে মনে যে দুঃখ
এযুগে শিশুরা দেখিনা দোলায় দোলে।
রাম নাম সত্য হ্যায় ও হরিবোল ধ্বনি
মরার খাট, খই ছড়ানোয় গুনি প্রমাদ,
খালি খালি মরার মুখ ভাসে সকালে
মনে হয় শরীর থেকে প্রাণ হলো বাদ।
ক্ষমতার কুর্সি খালি হলে পরে
ছোটেন কতো না ক্ষমতাবান,
যেনতেন প্রকারে কুর্সিতে বসবে
মান সসম্মান চুলায় যাক চান।
খালি কলসি বাজে বেশি যে কানে
খালি হাতে শেরের সাথে নয় লড়াই,
খালি করো কেন বিদ্যা বুদ্ধির বড়াই
খালি মনোবলটি বুকেতে রাখা চাই।
খালিপেটে ধর্ম হয় না একথা
বলেছিলেন নরেন্দ্রনাথ জানি,
খালি পেটে থাকা মানুষের হয়
পূর্ণিমার চাঁদ যেন রুটি মানি।
খালি হাতে পুলিশরা ফেরে যে
থানায় অপরাধী ডেরায় নাই,
আগে থেকে খবর পেয়ে উধাও
আবার নতুন যে খবর চাই।
রাজনীতির দখলদারিতে খালি
থাকেনা লোকসভা বিধানসভার
কোনোদিন আসন বলি ভাই
আরো টাকা কামাবার জনপ্রিয়
রাস্তা এরচেয়ে ভালো নাই।
শালা শালি সময় খোঁজে করবে
জামাইবাবুর পকেট খালি,
জামাইবাবু করবে কিভাবে যে
এর উশুল বলো বনমালি?
এক ফুল দুই মালি হলে হয় মনোকষ্ট
দুই ফুল এক মালি হলে কি আনন্দ!
খালি খালি উদ্ভব চিন্তা কেন যে হয়
তবে দু’টোতে আনন্দ হয় নয় মন্দ!
যন্ত্র সঙ্গীত ছাড়া খালি গলায
রবীন্দ্র স়ঙ্গীত গায় সে ভালো,
খালি গলায় উদাত্ত কন্ঠে গান
শুনে দেখি জগতের আলো।
কর্মখালি দেখে দেখে বেকাররা
আবেদন করে যে কত,
ঘুষ না দিলে চাকরি হয়না হায়
দুর্নীতি দেখে আশাহত।