সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ১১)

না – মানুষের সংসদ

১১
মা হংসী সপরিবারে প্যাঁক প্যাঁক করে উঠল । শেয়াল একবার প্রতিহিংসার চোখ দুটোতে আগুন জ্বেলে দেখে নিল হুলোকে ।
বটগাছ সমাহিত দৃষ্টিতে এদের কাণ্ড-কারখানা দেখছিল । সামান্য বাতাস বইল তখন । বৃষ্টি হয়েছে একচোট । তবে কেউ ভেজেনি । বটগাছ সকলকে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করেছে । বৃষ্টির পর মাটি ভিজে হলে পিঁপড়ের দল সারিবদ্ধ ভাবে এসে সভায় যোগ দিল । মৌচাকের মধু তাদের প্রিয় খাদ্য ।
এবার স্ত্রী – কোকিল বলল –
অন্যায় মানুষ করেই চলবে এর কী কোন প্রতিকার নেই ?
সকলেই একযোগে বলল –
সত্যিই তাই ।
রাণি মৌমাছি বলল –
কিন্তু আমরা আত্মরক্ষা কি করে করব !
টিকটিকি বলল –
আগে ওরা কোদাল দিয়ে মাটি কাটত – এখন অতিকায় যন্ত্র বিকট শব্দ করে মাটি কাটছে, ধ্বংস হচ্ছে অগুণতি প্রাণি, উদ্ভিদ ।
এবার বটগাছ চুপ করে থাকতে পারল না, বলল –
এমন কিছু করতে হবে যাতে ওরা তোমাদের প্রয়োজন বুঝতে পারে ।
এই সময় বটগাছের ডালে ডালে অনেকগুলি হনুমান চলে এসেছিল । তারা হুম হুম শব্দ করতে থাকল ।
বটগাছ ওদের জিজ্ঞেস করল –
কি বলছ তোমরা !
মুখপোড়া হনুর দলের সর্দার বলল –
আক্রমণ । মানুষদের সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ রতে হবে । ওদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে হবে ।
পাখির দল সায় দিল না । তারা শান্তিপ্রিয়, দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ায় ।
তখন শেয়াল পণ্ডিত বলল,
তোমরা যে অসংখ্য চড়াইয়ের মৃত্যু দেখলে – সেই স্মৃতি এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে !

(চলবে)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।