তাই দেখে ‘টোপর’ ফিক করে হেসে দিল । গায়ে জলুনি ধরলেও শেয়াল সভার মাঝখানে নিজের ক্রোধকে সংযএক্সত রাখল ।
মঞ্চ সঞ্চালনায় এলো হুলো বেড়াল । তার গলায় বেশ তেজ । একে একে উঠলেন সম্পাদক শেয়াল পণ্ডিত, সভাপতি টিকটিকি, বিশেষ অতিথি কড়ুইঝুঁটি এবং নিপীড়িত দলের প্রতিনিধি এক রাণি মৌমাছি ।
দর্শকের আসনের সর্বাগ্রে বসল শ্রমিক মৌমাছির দল । স্বজন – হারানোর ব্যথা তাদের চোখেমুখে । একদম শেষে দাঁড়িয়ে রইল বুধু ঘোড়া এবং তার পীঠে বসে রইল গুটিকয়েক যুবক যুবতী সাদা, কালো, ধূসর বর্ণের পায়রার দল ।
হুলো গলা ঝেড়ে নিয়ে সঞ্চালনা শুরু করতে যাবে এমনসময় অনাহূত দুটো কোকিল মঞ্চে এসে হাজির হল । একজন পুরুষ, একজন স্ত্রী কোকিল ।
স্ত্রী কোকিল সভাপতি টিকটিকির দিকে তাকিয়ে বলল,
‘ও’ গাইবে । রাগ খাম্বাজ ।
সচিব শেয়াল বলে উঠল,
এতো বেলায় খাম্বাজ ।
এই রাগটা ‘ও’ নতুন শিখেছে । না – মানুষের সংসদের গুণিদের সামনে পেশ করতে চাইছে ।
সভাপতি টিকটিকি বলল –
কিন্তু এ – যে একরকমের লোকসভা । যদিও আমাদের সংবিধানে নেই, গণতন্ত্রও মানুষের মতো প্রতিষ্ঠা হয়নি, তবুও . . . .
তখন নাছোড়বান্দা স্ত্রী-কোকিল বলল,
এক মিনিট নীরবতা পালনের পর না হয় গাইবে ।
শ্রমিক মৌমাছিদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল । সভার গাম্ভীর্য নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে । প্রথম থেকেই লঘু ছন্দে শুরু হবে ।
কোকিল-দ্বয় আসাতে পাখির ঝাঁক সভায় এসে হাজির হল । দোয়েল, ময়না, শ্যামা, টিয়া, ফিঙে । তারা সকলেই একযোগে কিচির-মিচির করে বলে উঠল,
গান গান । রাগ খাম্বাজ ।