সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ৩৫)

না মানুষের সংসদ

টিকটিকি একটা পোকা ধরে খেল । পেটটা খানিকটা ফুলে উঠল । টিকটিকির মলও খানিকটা নির্গত হল ।
শেয়াল বলল,
তুমি এতো পেটরোগা কেন বুঝতে পারি না । সামান্য একটা পোকা খেয়ে এমন করছ যে বাদশাহি মুর্গ মশালা খেয়েছ ।
টিকটিকি বলল,
শেয়াল ভায়া – সেই কিসমত আমার এই জীবনে হল না । পরের জন্মে রসনার তৃপ্তি যাতে হয় ওরকম পাকস্থলী নিয়ে জন্মাব । আর আমি মিতাহারি । রাতের খাবার হয়ে গেল ।
কিন্তু তুমি বড্ডো ব্যভিচারী মানে রসনার বিষয়ে ।
শেয়াল প্রতিবাদ করল না । দুঃখ তারও কি নেই । মানুষ জঙ্গল কেটে বসতি গড়ছে । কলকাতায় নাকি পাতাল রেলও হয়েছে । একদিন তো এই শৃগাল প্রজাতিও সভ্যতা থেকে পুরোপুরি অবলুপ্ত হবে ।
শেয়াল এবার বলল,
টিকটিকি, তুমি খুব দাম্ভিক এবং নিজের জানাকে শেষ পরিণাম বলে মনে করো ।
এইসময় একজন দাঁড়কাককে দেখা গেল । দাঁড়কাক খুব একটা দেখা যায় না কিন্তু পলাশিপাড়াতেই একজোড়া দাঁড়কাক রয়েছে । ওরা খুব বন্ধু, সহজে কেউ কাউকে ছেড়ে যায় না । এই গম্ভীর আলোচনা শুনতে তাদেরও বুঝি ভালো লাগছে ।
টিকটিকি বলল –
এবার আসল কথা বলো ।
শেয়াল বলল – বলছি ।
বলেই সে একটু দম নিলো ।
মানুষ ভোটকর্মীদের দুজনকে দেখলাম খাওয়া-দাওয়ার পর দুজনে বসে গল্প করছে, অন্যরা ঘুমুচ্ছিল । আমি ওদের ফেলে দেওয়া মাছ, মাংসের অবশিষ্ট খুঁটে খুঁটেই খাচ্ছিলাম । যে দুজন গল্প করছিল সেদুজন কখন যে আমার কাছে উঠে এসেছিল টের পাইনি ।
টিকটিকি বলল –
তারপর ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।