সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ৫৩)

না মানুষের সংসদ
এমনি এমনি করচি – হেগে, মুতে একসা করচ তুমি ।
এই বলে তেঁতুল জেঠা আর দাঁড়াইলনা । হনহন করে বেরিয়ে গেল । শ্রোত্রিয় এসেছিল সঞ্জয় দাকে খুঁজতে । শব সাধনা করে সঞ্জয়দা । নন্দ-স্যারকে যদি বাণ মেরে ভালো করতে পারত সঞ্জয়দা । কোলকাতা থেকে এসে পাড়ার বাইরে এই বিমলা ঠাকুরমার বাড়িই চিনত শ্রোত্রিয় । পাশেই ছিল ওদের প্রাথমিক বিদ্যালয় । টিফিনের সময় এলে বিমলা ঠাকুরমা কামরাঙা, পেয়ারা, কখনও কখনও তিলের নাড়ু খাওয়াত । আর সঞ্জয়দা ছাদে ঘুড়ি ওড়াত । কখনও কখনও লাটাই ধরতে দিতো শ্রোত্রিয়কে ।
কুলুইতলার কাছে এসে ইন্দ্র দেখল বটগাছের ফাঁক দিয়ে চাঁদ ঝুলে রয়েছে । আপন মনে আসছে ইন্দ্র । হঠাৎ সে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল নন্দ মাস্টারকে দেখে । শুধু দেখা নয় নন্দ স্যার ইন্দ্রকে হাতের ইশারায় কাছে ডাকছেন । দৌড়ে পালিয়ে যাবে ভেবেও সে গেল শেষমেশ নন্দ স্যারের কাছে ।
ইন্দ্র, তোমাদের মুক্তধারা মঞ্চটা পাওয়া যাবে !
ইন্দ্র জানে নন্দ স্যার এখন মৌনব্রত পালন করছেন । তাই সে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল ।
পাওয়া যাবে !
নন্দ স্যার আবার বললেন ।
কি করবেন স্যার – নাটক !
মুখটা বিকৃত হয়ে উঠল নন্দ-স্যারের ।
সাহিত্য, শিল্প, গান – এসব অর্বাচীনের কম্মো । আমি ওজন্য চাইছি নে ।
খুব গায়ে লাগল ইন্দ্রের । সে নৃত্যের শিক্ষক ।
মুক্তধারা মঞ্চে কোন সরকারি অনুষ্ঠান হয় না । এই মঞ্চ সৃষ্টিশীলতার প্রাণকেন্দ্র ।
নন্দ–স্যার বলল,
সৃষ্টির তুমি কি বোঝো হে ছোকরা ! আর আমি তো সরকারি চাকর নই যে সরকারি অনুষ্ঠান করব !
ইন্দ্র বলল,
কি করবেন তবে !
না – মানুষদের নিয়ে ছদ্ম বিধান-সভা বা লোকসভা । সংসদ ।