সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ৫২)

না মানুষের সংসদ

মনদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে শ্রোত্রিয় চলল বিমলা ঠাকুরমার বাড়িতে । সেখানে রয়েছে তেঁতুল জেঠু আর সঞ্জয় তান্ত্রিক । আসলে জেঠুর ছেলে সঞ্জয়দা । সে নাকি মন্ত্রবলে পুকুরের জ্যান্ত রুই-কাতলাকে শামুক বানিয়ে দিতে পারে । ইদানিং সে আর বাড়ি থাকে না । কামাখ্যাতে তন্ত্র সাধনার সিদ্ধি লাভের জন্য চলে গেছে ।
বিমলা ঠাকুরমার বয়স ১০০ পেরিয়েছে । চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ । শ্রোত্রিয় কাছে যেতেই গায়ের গন্ধে টের পেল । 
শত্তুর এয়েচিস বাপধন !
শ্রোত্রিয় উত্তর দিল,
হ্যাঁ, ঠাম্মা । 
আমার জন্য সাবান, তেল, গামছা এনেছিস বাপধন ।
মায়ের কাছ থেকে চেয়ে এনে কয়েকবার দিয়েছে শ্রোত্রিয় । কিন্তু ঠাকুরমা ভুলে যায় । 
আনব । 
আনিস বাপধন । কতোদিন মুখে সাবান দি-ইনি বাপধন । 
তেঁতুল জেঠা বলল,
এই শুরু হল । মরণকালে হরেকৃষ্ণ, হরেকৃষ্ণ করতে পারছ না !
বিমলা ঠাকুরমা বলে,
তেঁতুল – তুই আমাকে মরতে বলছিস বাপ !
কতো হল জানো !
বিমলা ঠাকুরমা যেন লজ্জা পেয়ে গেল, বলল – 
কতো আর হবে – তিন কুড়ি !
তেঁতুল জেঠা বলে,
১০০ পেরিয়েছ তুমি ।
অতো খোঁটা দিসনি বাপু তেঁতুল । মায়ের মরণ কামনা করতে নেই রে বাপ । 

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।