অথ শ্রী উপন্যাস কথায় আরণ্যক বসু (পর্ব – ২২)

শালজঙ্গলে বারোমাস ছয়ঋতু

না গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাতাঝরা দিন ,
ভালোবাসি–বলে কাঁদে ফাল্গুনের বেলা ,
মাঘের সংক্রান্তি ঘিরে বেড়ে ওঠে ঋণ ,
চৈত্র শেষে ঝড় নামে,শেষ হয় খেলা।

পয়লা ফাল্গুন পার হয়ে গেলেই , ভ্যালেনটাইস ডে’র হুল্লোড় শেষে সত্যিকারের ফাগুন মাস , আমের শাখায় যেন পঞ্চম সুর হয়ে এসে বসে।ক্যালেন্ডার নেই, স্মার্টফোন নেই,অথচ কোকিল কিভাবে টের পায় — আমের শাখায় ফাগুন এসেছে ! সদ্য পাটভাঙা ফাল্গুনের প্রথম সপ্তাহে , শুক্রবারের ব্যস্ত দিনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে , গ্রামের পল্লীসমাজ ছুঁয়ে ছুঁয়ে বাজারের দিকে হাঁটা লাগাতেই , সাংবাদিক অমলেন্দুর একটু হালকা হয়ে আসা চুলে আদর করে গেল প্রথম বসন্ত ছোঁয়া বাতাস। অমলেন্দু কিছুতেই বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালীর পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা থেকে এই বুড়ো বয়সেও মন তুলে আনতে পারেনি । সত্যজিৎ রায়ের ছায়াছবি আর পথের কবির মহাকাব্যিক পথের পাঁচালী ওর বেলা অবেলা কালবেলায় ও শালজঙ্গলের বারোমাস্যায় যেন কী মায়া বাঁধনে বেঁধে রাখে ! বসন্ত তুমি কার ? ছয়ঋতু, তুমি কার ? ও বারোমাস,তুমি কার ? ও দূরের টিলা , ও শালজঙ্গল , তুমি কার ? রাণী-প্রকৃতি যেন ওর দিকে একমুঠো লজ্জা-আবির ছুঁড়ে খুব নম্র কণ্ঠে বললো–যে দেখে তার , যে অনুভব করে তার,আর যে অনুভবের অতলেরও অতলান্তে হারিয়ে গিয়ে ভালোবাসার কথা আঁকে খাতার পাতায় , নকসি কাঁথায় আর ক্যানভাসে ; আমি তার কাছে আমার বুকের আঁচল খুলে ভরা জ্যোৎস্না দেখাই । ভোরের নদী দেখাই , আমগাছের শীর্ষ ডালে কোকিলের কুহুধ্বনি শোনাই । আমি তখন জীবনকে কবিতা হয়ে উঠতে শেখাই ‌। পাগল অমলেন্দুর চোখে জল আসে। আকুল হয়ে মহাশূন্যতাকে জিজ্ঞাসা করে ,তাহলে এত হলাহল কেন ? এত রক্তপাত,এত হানাহানি কেন ? কেন এত লোভ ও লালসা ? আমার খাতা কলম ল্যাপটপ প্রবলভাবে মাথা নেড়ে বলে–লিখো না , লিখো না । এই মর্মান্তিক সত্য থেকে অরণ্য সভ্যতার গভীরে গিয়ে বাঁচো। অমলেন্দুর ঝাপসা হয়ে আসা চশমার কাচ যেখানে তাকে দাঁড় করায়,সেখানেই আকাশ হয়ে জড়িয়ে ধরে পাগলা বিন্দাসের আলিঙ্গন । বিরতিহীন আনন্দে থাকা বিন্দাস ওর চোখের জল মুছিয়ে বলে–গুরু , তুমি সিওর কপালকুণ্ডলার নবকুমারের মতো পথ হারাইয়াছো। কী হয়েছে গুরু তোমার ? কে তোমাকে দুঃখ দিয়েছে ? কোন শালার ব্যাটা শালা ? অমলেন্দু ম্লান হেসে বলে,ও তুই বুঝবিনা। বিন্দাস পাল্টা হাসি ফিরিয়ে দিয়ে বলে–বুঝি বুঝি। তোমার মতো পাথরের বুকে জল যদি কেউ বইয়ে দিয়ে থাকে,তাহলে সে নিশ্চয়ই ফাগুনের সারারাত ডেকে ডেকে যাওয়া নরম মনের কেউ। কি গুরু ? ঠিক বলেছি তো ? চলো আজকে তোমাকে আমি চা খাওয়াবো। প্রতিদিন তোমার মেরে খেতে ভালো লাগে না গো ! টানতে টানতে নিয়ে এলো চায়ের দোকানে। সেখানে তখন রেডিওর এফ এম – এ বাজছিলো–
ও মেরে হামরাহি মেরি বাঁ হাথো মে চলনা…বদলে দুনিয়া সারি,তু না বদল না…
অমলেন্দু চায়ের দোকানে ঢুকতেই রেডিওটা আপনা আপনিই যেন বন্ধ হয়ে গেল। কোনো কথা না বলে ল্যাপটপ খুলে বসতেই বিন্দাস একই সঙ্গে চা-লেড়ো বিস্কুট আর লম্বা একটা বিড়ি এগিয়ে দিয়ে বললো–নাও গুরু একটু সেবা করো। তারপরেই প্রায় আধহাত জিভ বার করে বললো — ওহ , সরি গুরু , তুমি তো ধুমপান ছেড়ে দিয়েছো। পুরোপুরি উচ্ছন্নে গেলে গো তুমি। নাও, শুধু চা বিস্কুটই খাও। বিড়ির শেষ সুখটানটা মারার জন্য দম লাগে । বুঝলে গুরু ? সবঐ ভাইগ্য। চায়ে চুমুক দিয়ে অমলেন্দু খুব গভীরতা থেকে বললো–গান শোনাবি না? বিন্দাস মুহূর্তটাকে যেন লোপ্পা ক্যাচের মতো লুফে নিয়ে বললো — সেই জন্যেই তো টেনে আনলাম তোমাকে। শহরে যাওয়ার আগে আমার নতুন গান শুনবে না ? তোমার বান্ধবী মেঘলাদি বিদেশ চলে যাওয়ার আগে আমাকে ফোনে গানটা শিখিয়ে দিয়ে গেছে । একটা পুরো রবীন্দ্রনাসঙ্গীত । শুনবে ? অমলেন্দু যেন আকাশ থেকে পড়তে পড়তে বললো — সে কি ? মেঘলা ? কোন গান শিখিয়েছে ? উত্তরে বিন্দাস ঠোঁটের উপর আঙুল চাপা দিয়ে বললো — চুপ। তারপর চায়ের দোকানের মেঝেতে থেবড়ে বসে পড়ে আকাশ বাতাস ও শিমুলের শাখা হয়ে গেয়ে উঠলো–
এ কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ , প্রাণেশ হে…
অমলেন্দুর চায়ের কাপ ঠোঁটের কাছেই থেকে গেলো। এই পাগলটাকে সে এতদিন অগভীর বলেই ভেবে এসেছে। তার গলায় ঝরছে রবীন্দ্রনাথের বসন্তের গান ! যে গান গাইবার স্পর্ধা অনেকেরই হয়না , সেই গান শত ঝর্ণার মতো বেজে চলেছে–

বিকশিত প্রীতিকুসুম হে

পুলকিত চিতকাননে ॥

জীবনলতা অবনতা তব চরণে।

হরষগীত উচ্ছ্বসিত হে

কিরণমগন গগনে।

একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ প্রাণেশ হে….

হতবাক অমলেন্দুর মনে হল –দূরের শিমুল গাছের নীচে দাঁড়িয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ যেন প্রাণভরে শুনছেন পাগলা বিন্দাসের গান ।
অনেক রাতে নিজের নির্জন কোটরে ফিরে এসে শুকনো রুটি তরকারিতে যখন হাত ছোঁয়াতে যাবে , তখনই বেজে উঠলো ফোন। প্রলয়ের ফোন। খাবার থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে ওপ্রান্তের কথা শুনতে লাগলো অমলেন্দু । ঘরের ভেতরে গুমট ,জানলা খুললে এখনও নরম গ্রামীণ ঠাণ্ডা ‌। হ্যালো ! এত রাতে ? কোনো বিপদ আপদ নয় তো ? ও প্রান্তে উচ্ছ্বসিত প্রলয় — উন্মনাদির সাথে অনেক কথা হয়েছে । আমরা মার্চ মাসেই একটা বড় কবি সম্মেলন ও আলোচনা সভার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। অমলেন্দু আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়েও থমকে গেলো — প্রলয় , আমাদের উদ্দেশ্যটা কিন্তু আরও বড়। শুধু কবি সম্মেলন বা আলোচনা সভা নয় ; একটা কবিতা কুটির গড়ে তোলা । অন্তত দশজন অভাবের সঙ্গে লড়ে যাওয়া কবির থাকার ঠিকানা গড়ে তুলতে হবে‌। সেখানে ‌নিয়মিত কবিতা ও জীবনের পাঠ দেওয়া হবে।সবাই সবার থেকে শিখবো। সেখানকার জীবন যাত্রা হবে নেশাহীন সহজ সাধারণ। মদের গেলাস বা গাঁজার কলকে কিছুই থাকবে না সেখানে । দশ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের জন্য অনেক টাকা তুলতে হবে। তরুণ কবিদের একটা কবিজন্ম উপহার দিতে হবে প্রলয় । এক দশক পরে সেখান থেকে যে কবিকণ্ঠ উঠে আসবে , যে কবিতা পত্রিকা উঠে আসবে, তা বাংলা সাহিত্যে চিরদিনের আসন লাভ করবে — একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। বাংলার প্রত্যেক জেলা থেকে কবি প্রতিনিধি নিয়ে এ বিষয়ে একটা কর্মসমিতি গড়ে তুলতে হবে । কিন্তু ধরে রাখো–তুমি,আমি,শুভ,উন্মনা –আমরাই হব চালিকাশক্তি। অর্থাৎ কাজটা আমাদেরই করতে হবে। বাকি সবার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে কোনো টালবাহানা চলবেনা। বাধা এলেও থেমে গেলে চলবেনা। আমার এই আধভাঙা কুটির ঘিরে , যেখানে কয়েক কাঠার অল্প একটু জায়গা আছে, সেখানেই এই কাজটা শুরু হতে পারে। মার্চ মাসে আমরা নিশ্চয়ই বসবো, কিন্তু এপ্রিলের মাঝামাঝি বা শেষে কাজটা শুরু করবো।প্রথমেই হয়তো আখড়া গড়ে তুলতে পারবোনা। কিন্তু ধীরে ধীরে চেষ্টা করবো।আমার একলা জীবনের যা কিছু সঞ্চয় ,সেই কয়েক মুঠো উড়ো খইকে ঢেলে দেবো এই আরাধনার অঞ্জলিতে ।
রাত বাড়ে । খাবার ঠাণ্ডা হয়।প্রলয় মন্ত্রমুগ্ধ। অমলেন্দু ঘোরের মধ্যে বলে চলে–আমার বয়স বাড়ছে, এনার্জি কমছে । তবু এখনও বেশ কিছুদিন লড়ে যেতে পারবো। মানুষের জীবনে সত্যিকারের কবিতাজন্ম আছে কিনা –তার অনুসন্ধানেই আমার এই নদীর মতো বয়ে চলা। প্রলয় , তোমার‌ ওপর আমি সবথেকে নির্ভর করি । উন্মনা , শুভ এবং আরও যাদেররকে মনে করো,তাদের বিষয়টা বুঝিয়ে বলার দায়িত্ব তুমি নাও। মার্চের মাঝামাঝি আমরা কোথাও একটা বসবো । তবে সেটা মাইক্রোফোন নিয়ে কবিতা বলার জন্য নয় ,মনের কথাগুলোকে কবিতা করে তোলার জন্য। জনা দশেকের বেশি যেন সেই সভায় না থাকে। শোনো , তুমি এক কাজ করো , আমাকে পাঁচ মিনিট সময় দাও। দুটো রুটি কোনোরকমে গিলে নিই। তারপর,যদি সম্ভব হয় ,উন্মনা ও শুভব্রতকে কনফারেন্স কলে ধরো । বলো ,খুব জরুরী দরকার।
জরুরি দরকারের কনফারেন্স কল রাত প্রায় বারোটা পর্যন্ত গড়ালো। চরাচর স্তব্ধতার মধ্যে,তিনজন কবি ও একটি প্রাজ্ঞ কবিমন– কবিজন্ম ঘিরে কত স্বপ্ন দেখলো ! আলোচনার পরতে পরতে অমলেন্দু লক্ষ্য করলো– কবিতার প্রতি তার তিন অসমবয়সী বন্ধুর কী সুগভীর টান ! তারা যে কোনো মূল্যে কবিতাকে আঁকড়ে বাঁচতে চায় । এই পৃথিবীর যুদ্ধ-সফলতা , মিথ্যেকে সত্যি প্রতিপন্ন করার যাবতীয় দম্ভ, সংসার ও সমাজের প্রতি মুহূর্তের খুঁটিনাটি , পাওয়া না পাওয়ার লড়াই– সবই চরম ও নির্মম সত্যি ; তবু , সমস্ত আলো আঁধারকে ছাপিয়ে জেগে ওঠে জীবনের ফুটতে চাওয়া কুঁড়িগুলো। যে কুঁড়িগুলোই আসলে কবিতার ফুল হয়ে উঠবে । এই পৃথিবী যেদিন শান্ত সমুদ্রের মতো দিকভুল নাবিককে অনামী বন্দরে ফিরিয়ে দেবে , যেদিন বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো ফেরারী ফৌজ , সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কাছে ধরা দেবে , যেদিন একটি মা ও শিশু ভোর থেকে শেষরাত পর্যন্ত ভালোবাসার পৃথিবীতে ভয়হীন স্থান পাবে , সেদিন পৃথিবীর সমস্ত ভাষায় মানুষের কথা , প্রকৃতির কথা লেখা হবে কবিতায় কবিতায়।

সম্মিলিত ফোনালাপ শেষ হয়ে যাবার পরেও বেশ কয়েক মুহূর্ত নিঃশব্দে কাঁদছিল অমলেন্দু । তার হৃদয়ের কথাগুলো যখন সে ধরা গলায় বাকি তিনজনকে শোনাচ্ছিল,বুকের ডুকরে ওঠা কান্নাটা কোনোরকমে সামাল দিচ্ছিলো তখন ।‌ এখন সব আবেগ যেন ঝরে ঝরে পড়ছে । ক্লান্ত শরীর নিয়ে শোবার আয়োজন করতেই, ফোনটা আবার বেজে উঠলো। স্ক্রিনে উন্মনার নাম । হ্যালো ,স্যার আপনি কি রাগ করলেন ?
না তো ! কী ব্যাপার ?
আগে বলুন , আপনি কি খেয়েছেন ?
হ্যাঁ খেয়েছি । তুমি কিছু বলবে ?
হঠাৎ কি করে ‘আপনি’ শব্দটা ‘তুমি’ হয়ে বেরিয়ে গেলো ? নিজের বিশ্বাসঘাতক ঠোঁট দুটোকে শাসন করে , সরি বলতেই ও প্রান্ত থেকে নিঃশব্দ হাসির ছোট্ট তরঙ্গ।
থাক । তুমি শব্দটাই থাক।একবার যখন বলে ফেলেছেন ,তখন ফিরিয়ে নিতে হবেনা । তাছাড়া আমি তো আপনার চেয়ে বয়সে অনেক ছোটো।
অমলেন্দুর মুখে কোনো কথাই আসছে না। শুধু বিড়বিড় করে বললো–
তুমি কি কিছু লিখেছো ? আবার ফোন করলে যে !
হ্যাঁ লিখেছি।
সবার সামনে পড়লেনা কেন ?
পড়া যায়না । শুধু আপনাকেই শোনানো যায় । শুনবেন ?
রাত গভীরতার বৃন্তে পৌঁছে যেন থরথর করে কাঁপছে। বসন্ত , বসন্ত ,আজ বসন্ত সমারোহ !
অমলেন্দু কোনোরকমে বললো– হ্যাঁ বলো,আমি শুনছি।
উন্মনা ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করলো–

তোমাকে দেখেছি আমি মেঘ রজনীতে
তিলার্ধ বেদনা হয়ে জঙ্গলের শীতে
তোমাকে পেয়েছি বুকে
ভরা জ্যোৎস্নার সুখে
আমার অস্তরাগে দাহ জ্বেলে দিতে
গান হয়ে জেগে থাকা বুকের নিভৃতে।

কবিতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও দুটি শান্ত হৃদয় চুপ করে বসে থাকে।উন্মনা চিরদিনের নারী হয়ে , প্রকৃতি হয়ে , যেন আবহমানের পুরুষকে বলে — জানেন , আপনাকে আমারও তুমি বলে ডাকতে ইচ্ছে করে । আপনি কি রাগ করবেন ? সেই আবহমানের পুরুষ , যাকে পরিচিত বিশ্ব অমলেন্দু বলে চেনে , সে কোনো উত্তর দেয়না। শুধু বলে — তোমাকে একটা চিরদিনের কবিতা শোনাই । শুনবে ?
নারী নাকি প্রকৃতি ও প্রান্তে চুপ।
অমলেন্দু বলে চলে–
গত শতকের চারের দশকের কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্যের একটি কবিতা —

কবিতার নাম —

প্রেম

মনে থাকবেনা !
এই আলো,এ বিকেল,এই বেচা কেনা,এই কাজ–প্রেম,রাঙা জীবনের দেনা
এ নিবিড় পৃথিবীর,নিজেদের হঠাৎ এ চেনা
মনে থাকবে না।

তবু কিছু থাকবে কোথাও,
এই আলো এই ছায়া যখন উধাও
বিকেলের উপকুলে বিকেলের শ্বাস ফেলে চুপচাপ ঝাউ
আলো-লাগা ,ভালো-লাগা মন– নেই তা-ও
তখনো হয়তো কিছু থাকবে কোথাও।

তখনো থাকবে ছবি তোমার- আমার।
দেখবে,পারো না একা ,হৃদয়ে তাকাতে তুমি আর,

যতোবার
তাকাবে,দেখবে কেউ আছে তাকাবার ;
অপলক চোখ যেন কার,
তোমার চোখের পাশে–হয়তো আমার।

‘আপনি’র সম্মানজনক দূরত্ব থেকে ‘তুমি’র নিভৃত অন্তরঙ্গতায় এসে দুটি অসমবয়সী উন্মুখ হৃদয় থরথর করে কাঁপতে লাগলো…
এসো পলাশ , এসো শিমুল, এসো কৃষ্ণচূড়া…
আজ বসন্ত !

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।