কোনো এক আষাঢ়ের বিকেলে মনের ভিতরের সবুজ গুল্মগুলো বৃষ্টিতে সদ্যস্নাত হয়ে পাতা হতে চেয়েছিল। মন উড়ে গিয়েছিলো স্বপ্ন ভেলায়, আকাশের বুকে এঁকেছিল রামধনু।
সেই প্রেম ছিলো নিষ্পাপ,নিষ্কলঙ্ক। তাতে শুধুই মাখানো ছিলো নব্য প্রেমিকের অহঙ্কার আর আকাশচুম্বি স্বপ্ন।
ভালোবাসতে যে ভালো লাগে সেই অদ্ভুত অনুভুতির প্রথম ছোঁয়া।
একদিন কোনো এক শীতের দুপুরে সেই প্রেম অতর্কিতে হারিয়ে গেলো।
মনের সবুজ গুল্মগুলো হঠাৎ হয়ে গেলো সম্পূর্ণ পাতাবিহীন।
নীল আকাশে সাতরঙা রামধনু হলো সম্পূর্ণ রঙহীন।
সাড়ে তিন দশক ধরে খুঁজেছি পৃথিবীর সব প্রান্তে হারানো প্রেম। খুঁজে পাইনি।খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়েছি। বিশ্রাম নিয়েছি কোনো বট গাছের ছায়ায়। আবার শুরু করেছি অনন্ত সেই খোঁজা। সেই পথ চলার মধ্যে উন্মত্ত করেছে কতো উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন।
মনের মধ্যে জমে থাকা কতো অভিমান, উষ্মা,হতাশা।
একদিন খুঁজে পেলাম জীবনের পরন্ত বিকেলে সেই ভালোবাসা। কিন্তু সে তখন অন্য কারুর সুখী ঘরণী।
কি অদ্ভুত, খুশী হলাম তার সুখে।মনের ভিতর জমে থাকা সমস্ত দ্বিধা দ্বন্দ মুহূর্তে হলো শেষ।
সেটাই কি ভালোবাসা ? যাকে একদিন নিজের বলে ভেবেছিলাম তাকে সাড়ে তিন দশক পরে সুখী দেখে
আনন্দ পাওয়া।
অপূর্ণ প্রেমেও যে এতো মাধুর্য সেটা তো আগে কখনো বুঝিনি। তাতেও কি অদ্ভুত অনুভুতি।
আসলে আমাদের শৈশব, সদ্য ফোটা যৌবন কোনোদিনও হারায়ে না। মনের কোনো এক কোনে সেটা সর্বদা বিরাজমান। মৃত্যুতেই তার শেষ।
পরজন্মে আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু যদি সেটা সত্যিই থাকে তাহলে আমি আমার প্রথম ভালোবাসাকে আবার খুঁজে বের করবো।
আমার আবার পথ চলা শুরু হবে অনন্তের পথে। অনন্তকাল হয়ত।