T3 সাহিত্য দ্রুমের হাফ সেঞ্চুরি পর্বে অনিন্দিতা ভট্টাচার্য

কবিয়ালের অন্তরালে…

শস্য ক্ষেতের আলের ধারে হেঁটে চলা কোয়েকজোড়া খালি পা সাথে যদি হয় হাতের এক দোতারা… গান বাধবে কবিয়ালের দোহার। “দেখেছি রূপসাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা”- সেই সোনার সন্ধানেই এক প্রান্তর থেকে আরেক প্রান্তর পারি দেবে নিরন্তর কোয়েকজোড়া অক্লান্ত পা।
এরমই কোনো এক ছোট্ট গ্রামে এক ভালোবাসার কুঁড়ে ঘরে অপেক্ষারত এক মায়াবিনী। মনের কোন এক অতল গভীরে সেও হয়তো এক কলি গেয়ে ওঠে ” কে তোমার আর যাবে সাথে… কোথায় রবে ভাই বন্ধু সব… পড়বি যেদিন কালের হাতে “। যদিও বা তার সুরে সুর মেলাতে থাকবে না কোন দোতারার টুং-টাং কিংবা সেই কবিয়াল। তবুও ব্যস্ত দিনের কালান্তে সে সুর বাধবে সেই কবিয়ালের জন্য। কিন্তু তার মনের সেই কবিয়াল..
কোন এক ক্ষীণ টুং-টাং ও ঝড় তুলে যাবে সেই মায়াবিনীর বুকে। তবুও যেন অধরাই কবিয়াল।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে হঠাৎই এক সোহাগের চাঁদর জড়ানো গোধূলি বিকেলে দোতারা টুং-টাং যেন সেই মায়াবিনীর খুব কাছ থেকে বয়ে যাবে। সেই টুং-টাং এর মোহময়ী আওয়াজে যেন আজ আর সেই মায়াবিনী কিছুতেই নিজেকে আটকে রাখতে পারবে না। ছুটে বেরোবে সে তার কবিয়ালের আসায়। তবে এবার আর বৃথা নয়। সত্যি ধরা দেবে কবিয়াল।
কিন্তু… কিন্তু এ কি! এক মায়ার বেড়াজাল জড়িয়ে ধরেছে আসতে আসতে মায়াবিনীকে। হাজার চেষ্টা করেও পারছে না সে সেই বেরাজাল ছিন্ন করতে। ডাকার চেষ্টাও করছে তার কবিয়াল কে.. কিন্তু না তার গলা থেকে তো সুর বেরোচ্ছে না… হাজারও বৃথা চেষ্টার পর অবশেষে গোধূলির মিঠে রোদ অস্ত গিয়ে সন্ধ্যে নামবে, আকাশে জ্বল জ্বল করবে একফালি চাঁদ। ততক্ষনে যদিও বা কবিয়াল পারি দিয়েছে অন্য কোন আলের ধারে।
অপরাগ সেই মায়াবিনী সন্ধ্যের এক টুকরো চাঁদের আলোয় হেটে যাবে অন্ধকারের অতল গভীরে। হয়তো একই সময় দূরে কোন এক দোহারের দোতারার টুং-টাং থেকে ভেসে আসবে..
“আমার হাত বান্ধিবি পা বান্ধিবি , মন বান্ধিবি কেমনে?
আমার চোখ বান্ধিবি, মুখ বান্ধিবি, পরান বান্ধিবি কেমনে?”
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।