অথ শ্রী উপন্যাস কথায় আরণ্যক বসু (পর্ব – ৭)

শালজঙ্গলে বারোমাস ছয়ঋতু
তুমি ডেকেছো,এসেছি আমি,
ঝাড়গ্রামে , নিভৃতে ;
খোলা ছাদে এই স্তব্ধ আকাশ
পাতা ঝরে যায় শীতে।
মেঘলার ফোনে একটা পুরোনো বাংলা গান বাজছে।অমলেন্দুর পেটে আসছে, মনে আসছে না সিনেমার নাম। অনামিকাদের তিনতলার ছাদে,চিলেকোঠার কার্নিশের নীচে সিঁড়িতে বসে, মেঘলা নরম দৃষ্টি মেলে দিলো অমলেন্দুর লাজুক চাহনির উপর — কী ব্যাপার ? গানটা শোনা শোনা মনে হচ্ছে না ?
— ভীষণ
— আশা ভোঁসলের গান।ছবির নামটা…
মেঘলা চুড়িভাঙা শব্দে হেসে উঠলো–আরে বোকা, জীবন সৈকতের গান ।
— এক্সাক্টলি। আহা! কী অপূর্ব !
দুজনে মিলে এই গানটা শুনতে লাগলো হাতে হাত রেখে–
রাত এখনো অনেক বাকি, কিছু তারা জেগে আছে,
তারই পানে এসো চেয়ে থাকি,
রাত এখনো অনেক…
— মনে আছে ? জীবন সৈকতের সেই আশ্চর্য রোমান্টিক জুটির কথা ? ভরা জোছনার অপর্না সেন , আর কাঁচা রোদের মতো সৌমিত্র চ্যাটার্জী ?
— ওহ মেঘলা , তুই পারিস বটে ! অমলেন্দু হেসে উঠলো। এই ছবির আরেকটা গান আছে না, সেটাও আশা ভোঁসলের গলায় ? আই ক্যান হার্ডলি রিমেম্বার … দীঘার সৈকতে শুটিং ছিল…
মেঘলা আবার ডানা মেলে দিলো —
সাগর… ডাকে, আয় আয় আয়…
আমার গানে, জীবন আনে, চলার ইশারায়,
আয় আয় আয়….
এবার অমলেন্দুও দরাজ গলায় গেয়ে উঠলো–
চঞ্চল জীবনের স্বপ্ন ছুঁতে ,
চিহ্ন রেখে যাই প্রেম সৈকতে…
দুজনে হা হা করে হেসে উঠলো। কার্নিশের দুটো পায়রার সুখী দাম্পত্য জীবনে হঠাৎ বিঘ্ন ঘটায় , একটু যেন ডানা ঝাপটে উঠলো। অমলেন্দু একটা বিড়ি ধরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে বললো– সরি , পারাবত যুগল, আমরা পুরানের সেই ব্যাধ নই যে , তোমাদের হত্যা করবো, বরং আমরা বাল্মীকির মতো গেয়ে উঠতে চাই– মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং তম গম শাশ্বতী সমঃ…
মেঘলা ওর হাতটাকে আরো শক্ত করে চেপে ধরে বললো– এই ব্যাটা , তুই এই শ্লোক কাল ওয়ার্কশপে সবাইকে শেখাবি তো ? অমলেন্দু কোন জবাব না দিয়ে বললো– তুই আমাকে বলেছিলি , তোর কিছু কথা আছে ; আগের দিন আসতে বলেছিলি । কিন্তু যেভাবে সারা বিকেল সন্ধে শ্রাবণের ময়ূরের মতো পাখা নাচালি, তাতে আর সেসব কথা মনে আছে বলে তো মনে হলো না। মেঘলা হঠাৎ ভীষণ গম্ভীর হয়ে , ওর হাতটা ছাড়িয়ে নিলো। মনে আছে বন্ধু , ভীষণভাবেই মনে আছে। জীবনের একটা ডিসিশন নেওয়ার আছে।তার আগে বলতো , তুই কি আদৌ আর সংসারী হবি না ? আমলেন্দু জোরে হেসে উঠতে গিয়ে আবার মুখ চাপা দিয়ে দিলো। সরি , আপাতত আমার জীবন নাটকে ওই সিন নেই। শোকেসেও নেই , গোডাউনেও নেই । যাঃ শালা ! মেঘলা যেন ডুকরে উঠলো । দীর্ঘশ্বাস চাপা দেওয়ার ভঙ্গি করে বললো– আমি তো ভেবেছিলাম , লন্ডনে চলে যাওয়ার আগে তোর বিয়ের ভোজটা কব্জি ডুবিয়ে খেয়ে যাব। মেনুও ঠিক করে রেখেছিলাম । আমাদের আমেদিবিনার সকলের সাথে এরকমই কথা হয়েছিল। সবাই বলেছিল –অমলেন্দু বরাবর তোর সফট টার্গেট । কাজেই ওকে পটাতে তোর মতো আর কেউ পারবেনা। এবার অমলেন্দু একটু গম্ভীর হয়ে গেল — শোন ,কাল সকালে আমাকে কিন্তু ঘন্টা তিনেক লড়ে যেতে হবে। শুনলাম ৩০-৪০ জন তরুণ কবি আসছে । তাদের কাছে উচ্চারণ, বাংলা ছন্দ, দ্রুত কথা বলা ,ব্যক্তিত্বের বিকাশ সবকিছু নিয়ে একটা ক্লাস নিতে হবে। একটু বিশ্রাম দরকার তো নাকি ?
— সরি । মেঘলা একটু গম্ভীর হয়ে গেল। তুই বিড়িটা নিভিয়ে দে তো । আমার অসুবিধা হচ্ছে বিড়ির উৎকট গন্ধে। আমার স্বামী মৃণাল মাল খায় , কিন্তু বিড়ি সিগারেট খায় না । মাঝে মাঝে শুধু খোঁচা খোঁচা দাড়িতে আমার খুব অসুবিধে হয় । যাক ছাড় । তুই শুনতে চাচ্ছিস তো ? আমি বলছি। অমলেন্দু একটু ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলো– আমাদের সব থেকে স্মার্ট বন্ধুটা হঠাৎ মদ্যপানে অভ্যস্ত হলে কি করে বলতো ? এই নেশাটা ধরিয়েছে আমার স্বামী মৃণাল। আর ছেলে-মেয়ে না হওয়াতে ,ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে দুজনে মাঝে মধ্যেই মাঝরাত অব্দি ঢুকুঢুকু করি…
ছেড়ে দে । আমি শীতের দেশে যাচ্ছি ,ওখানে ওটা মানিয়ে যাবে। আচ্ছা, ঝাড়গ্রামে এসে আমি তো এক ফোঁটাও মদ খাইনি , তাহলে তোর আপত্তির কী আছে ? সেই ছোটোবেলার মতো হিংসুটে রয়ে গেছিস। যেই আমি বলেছি বিড়ির কথা , তুই ওমনি মদের কথা তুলে আমাকে খোঁচা মারলি ? যাক, শোন , তোর অপ্রস্তুত মুখটাকে একটু স্বাভাবিক কর,প্লিজ । ওরকম বাংলার পাঁচের মত তাকিয়ে আছিস কেন ? তোর বন্ধুটা তো যথেষ্ট সুন্দরী , একটু নরম চোখে তাকা।
— কার খপ্পরে পড়ে ইউরোপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলি ?
— তোকে একবার ফোন করে বলেছিলাম এক ভদ্রলোকের কথা । গোয়াতে একটা সাংবাদিক সম্মেলন কাভার করতে গিয়ে লন্ডনের এক মাঝবয়সী অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সাংবাদিকের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। হোয়াটসঅ্যাপে দারুণ সুন্দর কবিতা লিখে পাঠায় আমাকে। অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় । তবে ভারতবর্ষকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে । আসলে ওদের বংশের শিকড়টা ভারতবর্ষের মধ্যপ্রদেশে । কয়েক পুরুষ আগে ওরা ইংল্যান্ডে সেটেল করলেও আমাদের পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতার প্রতি একটা টান ওর থেকে গেছে। আমাদের হিমালয় , আমাদের মরুভূমি ,আমাদের সাগর-মহাসাগর, আমাদের সুন্দরবন ,আর ওর মধ্যপ্রদেশের কানহা জঙ্গলের চোরা আকর্ষণ ওর মধ্যে রয়ে গেছে । ভারতবর্ষে এলে এইসব জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। আমার স্বামী মৃণাল যখন ওর প্রেসিডেন্সির পুরনো বান্ধবীর সঙ্গে খানিকটা জড়িয়ে পড়লো বলে টের পেলাম , আমিও তখন আমার লাগামটাকে একটু আলগা করলাম। সেই গানটার কথা মনে আছে তোর ? কোনো ভূমিকা না করেই মেঘলা গেয়ে উঠলো–
তুমি কোন পথে এলে জানি না মোর জীবনে
সেই পথে এলো আমার ফাগুন ভুবনে
জানি না কখন কুসুমের মতো আমারে কুড়ায়ে লয়েছো
তুমি তো আপন হয়েছো…
আমি আপন করিয়া চাহি নি,তবু তুমি তো আপন হয়েছো,
জীবনের পথে ডাকি নি তোমায় ,
সাথে সাথে তবু রয়েছো…
অমলেন্দু সেই প্রথম যৌবনের মতো স্তব্ধ ,হতবাক। মেঘলা বলেই চলেছে–গোটা ব্রিটেন জুড়ে ওর কাজের পরিধি । সাংবাদিকতা ছাড়াও অনেক রকম কাজের সঙ্গে জড়িত । আমাকে ও আফ্রিকা আর আন্দিজ পর্বতে নিয়ে যাবে বলে কথা দিয়েছে। আমাকে ও ইনকা সভ্যতা দেখাবে বলে কথা দিয়েছে, আমাকে ও তাহিতির সমুদ্র উপকূলে নিয়ে যাবে বলে কথা দিয়েছে । অমলেন্দু মেঘলার চুপ করে থাকাটাকে অনেকক্ষণ ধরে উপভোগ করলো। তারপর ধীরে ধীরে বললো– মৃণাল মেনে নেবে এই বিচ্ছেদ ? ডিভোর্স নিয়ে যাচ্ছিস ?
— না , সেরকম কোনো ইচ্ছে নেই । আমি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করি। আমার যা এক্সপিরিয়েন্স, তাতে ওখানে সাংবাদিকতা জুটে যাবে ,আর ইংরেজিটা তো খারাপ লিখি না । খারাপ বলিও না। কাজেই মানিয়ে নিতে অসুবিধে হবে না । বয়স ষাটের কোঠায় গেলে , লিভটুগেদারের পাঁচিলটাকে ভেঙে আবার ভারতেই ফিরে আসবো,শিকড়ের টানে । আবার সেই রিজেন্ট পার্কের ফ্ল্যাটে মৃণালের বাহুডোরে ধরা দেবো। ও তেষট্টি , আমি ষাট, ও আদিগঙ্গা আমি ভাঙা ঘাট।
অমলেন্দু এবার সত্যি জোরে হেসে ফেলে বলল –তুই চিরদিনই সবাইকে ছাপিয়ে যাওয়া মানুষ এবং সত্যি সত্যি হিপোক্রেসিহীন একজন সুন্দর অবয়ব। ঠিক আছে বন্ধু , তোর জীবনযাপনের পাশে আমিও থাকলাম ।
এই ঘাটের মড়া , মেঘলা এবার ধাক্কা মারলো অমলেন্দুকে — খুব শিগগির বিয়ে করে একটা ফুটফুটে বাচ্চা নিয়ে ইংল্যান্ডে আসবি। ইংল্যান্ডের অসাধারণ কাউন্টি গুলো ঘুরে ঘুরে দেখাবো। স্কটল্যান্ডে নিয়ে যাব। এক ফাঁকে প্যারিসও দেখিয়ে নিয়ে আসবো তোদের । আইফেল টাওয়ারের সর্বোচ্চতে উঠে ৩৬০ ডিগ্রির প্যারিস দেখবো সবাই মিলে । তোকে সংসারী না দেখলে যে আমার খারাপ লাগবে ।আমি যে সত্যিই তোকে খুব ভালোবাসি রে ।কলেজে তোর কবিতা আর গান শুনে অনেক কষ্টে নিজেকে চেপে রেখে দিয়েছিলাম এই ভেবে যে , সমবয়সী ক্লাসের বন্ধুর সঙ্গে প্রেম করা যায় , বিয়ে করা যায় না, আর তাছাড়া আমাদের গ্রুপটা তো ছিল অন্যরকম ,তাই না ? অমলেন্দু এবার সিরিয়াস হয়ে জিজ্ঞাসা করে ,আচ্ছা মৃণাল কিভাবে জীবন কাটাবে , তুই ভেবে দেখেছিস ? ও তো তোকে খুব ভালোবাসে !
— ইয়েস , ভালোবাসে বলেই তো ছেড়ে দেবে । আমিও তো ওকে ধরে রাখছি না।ওর প্রেমিকা নীলাঞ্জনা একজন মাঝ বয়সি উইডো। একটা হ্যান্ডসাম চাকরি করে বিদেশি ব্যাংকে। আর কি চাই ? তুমি তোমার জীবন কাটাও। আমি আমার জীবন কাটাই। প্রিয় বন্ধু , আমার মনটা যে এই রূপসী বাংলার পথে প্রান্তেই বাঁধা থাকবে ! তোর প্রিয় পাহাড়,জঙ্গলে সঙ্গে কেউ যদি না থাকে ,তাহলে , বারোমাস ছয়ঋতুতে কল্পনায় অন্তত আমার কোমরটাকে আলতো করে ছুঁয়ে থাকিস , কাঁধে হাত রাখিস ! কিরে, এত সেন্টিমেন্টাল হয়ে পড়ছিস কেন ? আমাদের ষাট বছরে তো আবার দেখা হবে । ততদিন একটু বহির্বিশ্বটা ঘুরে আসি না হয় ! আর , তুই তোর বন্ধুকে নিশ্চিন্ত মনে একজন ভালো মানুষের কাছে ছেড়ে দিচ্ছিস ,মনে রাখবি । ও সাদা চামড়া , আর আমি বাদামি চামড়া । পার্থক্য শুধু এই। রক্তের রং একই । লাল। আকাশ তো সমান নীল । দুজনের হৃদয়ের একটাই ধর্ম । মানবিকতা। গোত্রও তো এক । গোত্রের নাম বন্ধুত্ব।
এই ,আমার একটা রিকোয়েস্ট রাখবি ? ঘড়ি দেখিস না। মারব এক থাপ্পড়। অমলেন্দু হাই তুলে বললো — বল।
— অনুরোধ রাখতে হবে কিন্তু। তবেই বলবো । প্রমিস ?
–আচ্ছা প্রমিস করলাম।
–আজকের এই মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করে রাখবার জন্য একটা গান শোনাবি ? বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটিতে কাজুবাদাম গাছের ছায়ায় সবাই মিলে বসে কতবার তোর মুখে এই গান শুনেছি বলতো ! আমাকে এরপরেও বলে দিতে হবে ,কোন গানটা ? –না ,তা বলতে হবে না– অমলেন্দু মৃদু হাসলো- তবে একটা কথা বলতে ভুলে গেছিস।বাইরের দোকান থেকে ওই আড্ডায় অনেকবার ভাঁড়ের চা এসেছে। মনে আছে ? সঙ্গে ঝালমুড়ি ?
মেঘলা নিঃশব্দে ওর হাতটা ছুঁলো– গানটা ধর । মনে কর অভিনেতা কালি ব্যানার্জি ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেলুলয়েডের পর্দায় । একজন নিঁখুত চীনাম্যানের চরিত্রে যেন লীন হয়ে গেছেন , সেই অসামান্য অভিনেতা । দশ দিগন্ত আলো করে হেমন্ত মুখার্জী গাইছেন– ঈশ্বরের মত গাইছেন, প্রকৃতির মত গাইছেন , মহাবিশ্ব মহাকাশ ছাপিয়ে গাইছেন— অমলেন্দুও শক্ত করে চেপে ধরল প্রিয় বন্ধু মেঘলার হাত। কোথা থেকে অনভ্যাসের গলাতেও সুর এসে গেলো–
নীল আকাশের নিচে এই পৃথিবী, আর পৃথিবীর পরে ওই নীলাকাশ , তুমি দেখেছ কি.. আকাশ আকাশ , শুধু নীল,ঘন নীল , নীল আকাশ.. সেই নীল মুছে দিয়ে আসে রাত, পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে– তুমি দেখেছো কি ? তুমি রাতের সে নীরবতা দেখেছো কি, শুনেছো কি মানুষই কান্না ? বাতাসে বাতাসে বাজে…
তুমি দেখেছো কি… অমলেন্দুর কণ্ঠস্বর যখন তারসপ্তক ছুঁয়েছে, গানের ওই জায়গাটায়—
অসীম আকাশ, তারই নিচে চেয়ে দেখো ঘুমায় মানুষ… জাগে শুধু কত ব্যথা হাহাকার… ছোট ছোট মানুষের ছোটো ছোটো ব্যথা , কে রাখে খবর তার , তুমি শুনেছ কি ?
গান শেষ হয়ে যাওয়ার অনেকক্ষণ পরেও ওরা হাত ধরে বসে থাকলো । বিচ্ছেদের আগে এই আবেগঘন মুহূর্তটুকু যেন উপলব্ধি করলো সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে। দূরে ঝাড়গ্রামের ফ্লাই ওভারের আলো পেরিয়ে পথ চলে গেছে দহিজুড়ি, শিলদা পেরিয়ে বেলপাহাড়ির দিকে… এই আলো-আঁধারের বৃন্তচ্যুত বিরল ক্ষণটিতে ওরা দুজনেই নিশ্চিত জানে, স্বর্গের পারিজাত বনে ফুল হয়ে ফুটে থাকা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ও এই গানে এখন আচ্ছন্ন হয়ে আছেন।
ক্রমশ