কোনো এক কালজয়ী জীবনের ইতিহাস পর্ব শেষে তুই আর আমি দুজনে মুখোমুখি হবো, জীবনের চলমানতার সুর বেসুরো তালে বাজিয়ে অভিমানের পাহাড়ের গোধূলি লগ্নে। তুই সেই একইরকম ত্রস্ত-ব্যস্ত-বিন্যস্ত। আর আমার সেই একই অগোছালো ভাব-ভঙ্গিমা। হাজারো অমিলের মাঝে সেদিন সৃষ্টি হবে এক অদ্ভুত মিল। থমকে দাঁড়াবো দুজনেই দুজনের চোখ রাঙানিতে। চিরাচরিত স্বভাবে সেইদিন ও তোর ওই গভীর কালো চোখের চাহনি দোলাচলে বয়ে যাবে আমার মনের খাদে। থাকবে না কোথাও এতটুকু ফাঁকের অবকাশ।
গোধূলির সোনালী আভা ও সূর্যের ম্রিয়মাণতা দুই-ই যেমন জানান দেয় দিনের অন্ত টেনে এক আচ্ছন্ন মাখা গভীর রাতের, ঠিক তেমন ই আমার মুখের রক্তিম আভাও ফ্যাকাশে হয়ে জানান দেবে তোর ক্ষত-বিক্ষত মনের। কিন্তু উপায় থাকবে না কারুর কাউকে স্পর্শ করার। গভীর খাঁদের কিনারে যে দাঁড়িয়ে। পায়ের এক চুল এদিক-ওদিক, কেড়ে নিতে পারে দুজনের প্রাণ। তাই দূরত্বের ব্যবধানেই চোখে চোখ স্পর্শ করবো দুজনেই। ঠিক যেমন একফোঁটা বৃষ্টির আশায় লাল টুকটুকে সূর্য্য টি ঝুপ করে ডুব দেয় মেঘের আড়ালে, তেমনি তোর মন ও অতল গভীরের বজ্রগর্ভ মেঘে ডুব দেবে শ্রাবনের ধারার আশায়। সারা মনের মেঘ উথাল-পাথাল হয়ে সৃষ্টি হবে কালবৈশাখীর। সূর্য্য যেমন মাঝে মাঝে সেই গভীর মেঘের আড়ালে তার আলো বিকিরণ করতে অপারক থাকে, সেরকম তুইও হাজার চেষ্টা করেও থামাতে পারবি না সেই কালবৈশাখীর ঝড়। আমিও বোধহয় পারবো না তখন সেই দূরত্বের ব্যবধানে থাকতে। প্রতি বারের মতো এই বার ও এক বুক সাহস সঞ্চয় করে ও প্রানের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যাবো তোর দিকে। সযত্নে আবারো একবার ভরসা দেওয়ার চেষ্টায় জড়িয়ে ধরবো তোকে।
কি অদ্ভুত…! সেদিন আর তোর মধ্যে থাকবে না আমার ছোঁয়ার বিরক্তির ভাব, বরং তোর প্রতিটা চোখের জলের বিন্দু আমার জামা সিক্ত করে জানান দেবে বিচ্ছেদের যন্ত্রনা। বার বার আঁকড়ে ধরবি ভালোবাসার এই আশ্রয়।
ততক্ষণ এ সূর্য্য পারি দেবে অস্তাচলে। বিকাল গড়িয়ে এক আকাশ তারা ও একফালি চাঁদের সহযোগে সৃষ্টি হবে নিভু নিভু সন্ধ্যের। সেই টিমটিমানি আলোতেই দেখতে পাবো তোর মুখ জুড়ে কালবৈশাখী ঝড়ের পরে রামধনু রঙের ছটা।
সব বন্ধন ছিন্ন করে আমার ঠোঁট নির্বিশেষে ছুঁয়ে যাবে তোর কপাল। কি সেই লজ্জাবরণ, কি সেই মোহময়ী চাহনি। আবারো একবার সব কিছু নতুন করে শুরুর আশায় দুজনে ডুব দেব ভালোবাসার অতল গভীরে। কিছুটা চাওয়া ও পাওয়ার উপন্যাস রচনায়……