T3 || বর্ষ শেষে বর্ষবরণ || সংখ্যায় অনিন্দিতা ভট্টাচার্য্য

চৈত্রের চিড়ে ভিজুক সংক্রান্তির ছাতুতে….

বাঙালি মানেই তার বেশিরভাগ জুড়ে খাওয়া দাওয়া। আর বারো মাসে তেরো পার্বন এর কিছুটা অর্থ কিন্তু কবজি ডুবিয়ে বাঙালির ভুরিভোজ। তাই উৎসব আর খাওয়া দাওয়া বাঙালির জীবনের দুই যেন একেবারে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আর বাঙালির আর এক প্রিয় উৎসব হলো পয়লা বৈশাখ। চৈত্র মাস ছেড়ে গিয়ে নতুন হাওয়া বয় বৈশাখী বাতাসে। সে যেন এক আলাদাই রব। আর তার ঠিক আগে থাকে চৈত্র মাস। একদম কাঠ ফাটা গরমের মধ্যেই চৈত্র-বৈশাখ যেন উৎসবে সাজো সাজো দুই মাস।
আর এই চৈত্র বৈশাখ জুড়েই থাকে একের পর এক নস্টালজিক নিয়ম। যেমন গরম কালে ছাতু এবং চিড়ে যেন পেট ঠান্ডা রাখার এক দারুণ উপাদান। আর চিড়ে থাকবে আর ছাতু থাকবে না এমনটা হতেই পারে না!এই যুগে না হলেও বেশ কিছু বছর পিছিয়ে গেলে প্রত্যেকটা বাঙালি পরিবারের সকালের জলখাবার ছিল এই ছাতু চিড়ে। এখনকার দিনে চিড়ে টা কিছুটা হারানোর পথে গেলেও ছাতুর শরবত কিন্তু এখনও সমপরিমাণ জনপ্রিয়।
এই সূত্র ধরেই এক নস্টালজিক নিয়ম হলো ভাইয়ের হাতে ছাতু দেওয়া। চৈত্র মাসের শেষদিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিন সকাল বেলা উঠেই প্রথম কাজ হয় এই ছাতু দেওয়া। প্রতিটা দিদি তার ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় আঙুলের ওপর ছাতু দেয় এবং ভাইকে সেই ছাতু নাকের দাড়া নিশ্বাস প্রয়োগ করে ওড়াতে হয়। প্রথমে ভাই দুই হাতের দুটো বুড়ো আঙুল জোড়া করে আর তারপর সেই জোড়ার মধ্যে দিদি ভাইকে তিনবার ছাতু দেয়। এবং ভাই সেই ছাতু ওড়ায় নাকের নিশ্বাস দ্বারা। এতে মনে করা হয় বছরের শেষ দিন দিদি ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করে দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করে এবং সমস্ত রোগ শত্রু সবাই পিছু হটে। আর ছাতু অবশ্যই হতে হবে জবের। এই ক্রিয়ার ফলেই চৈত্র সংক্রান্তির দিন সকালে বেশি করে আসতো দুই-তিন প্রকারের ছাতু। ভাইকে ছাতু দেওয়া শেষ হলে ওইদিন সকালের টিফিন হতো ছাতু এবং তার সাথে কলা বা চিড়ে বা মুড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। তখনকার দিনে এই ছেলেবেলার অনাবিল আনন্দই ছিল অফুরান। প্রত্যেকটা উৎসবের দিন সকালে ঘুম ভাঙত একেক রকম উত্তেজনা নিয়ে।
এই আধুনিক কালে হারিয়ে যাচ্ছে সব সবই। সে নিয়ম হোক কিংবা বাচ্চাদের উচ্ছাস। সবকিছুই যেন আসতে আসতে বদ্ধ হচ্ছে চার দেওয়াল কিংবা শক্ত কংক্রিট অথবা নিত্য দিনের তুমুল ব্যস্ততায়।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।