অথ শ্রী উপন্যাস কথায় আরণ্যক বসু (পর্ব – ২৩)

শালজঙ্গলে বারোমাস ছয়ঋতু
এক টুকরো আকাশ থাকুক নীল,
কখনও মেঘ,কখনও উদাস চিল…
মন দোতারায় কলমে ফুটবে ছবি ?
এই বসন্তে পলাশ হবে তো কবি ?
সারাদিন রুটি রুজির জীবন যাপনে সাংবাদিক জীবনে খবরের সন্ধানে জেলার বেশ কিছুটা অঞ্চল জুড়ে দৌড়ে বেড়াতে হয় সাংবাদিক অমলেন্দুকে।বেশ গরম পড়ে গেছে।কষ্ট ,খিদে ,বয়স একটু একটু করে সারাদিন ধরে তাকে নাড়া দিয়ে যায়। আনন্দ বসন্ত শালজঙ্গলের আকাশে বাতাসে নিঁখুত তুলির আঁচড় কাটে। পলাশ ফুটতে শুরু করেছে । দিগন্ত জুড়ে কিংশুকের আগমনবার্তা যেন ! কাজের ব্যস্ততায় সে ঠিকমতো অনুভব করতে পারেনা। একটা পুরো ছুটির দিনের অপেক্ষায় থাকে। আরেকটা বসন্ত দিনের শেষে ঘরে ফিরে ক্লান্ত চোখে অমলেন্দু দেখলো– একলা ঘরের ডাকবাক্সে গোলাপী রঙের এনভেলাপে একটা চিঠি পড়ে আছে। অমলেন্দু কি কিছু আশা করেছিল ? প্রতিটি চিঠির প্রেরকের নাম না দেখা পর্যন্ত একটা অদ্ভুত শিহরণ থাকে । এই বয়সেও অমলেন্দু সেটা টের পায় । এ যেন রাজার চিঠির জন্য’ ডাকঘর’এর অমলের প্রতীক্ষা! ইদানিং মানুষের চিঠি লেখার অভ্যেস প্রায় চলেই গেছে। অমলেন্দুর সারাদিনের রুটিরুজির দৌড়ের ক্লান্তি কিছুতেই কৌতুহলকে টপকে যেতে পারলো না। বেশ ভারী খামে , কে লিখেছে এই চিঠি ? উন্মনা ? বেশ কিছুদিন হল উন্মনার সঙ্গে ফোনালাপ হয়নি,আপনি থেকে তুমিতে নেমে আসার পর। ক’দিন জেলা জুড়ে রাজনৈতিক অরাজনৈতিক খবরের জন্য অমলেন্দুকে দৌড়ে বেড়াতে হয়েছে।পুরোনো স্কুটিটা মাঝে মধ্যেই বিদ্রোহ করছে , অথচ নতুন স্কুটি কেনার জন্য একগাদা টাকা খরচ করতেও ইচ্ছে করছে না। এক অদ্ভুত নেশা অমলেন্দুকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছে। সকালের চায়ের কাপ নিয়ে প্রতিদিন যখন অগোছালো বাগানের দিকে তাকায় , তখন ভাবতে চেষ্টা করে — তার নিঃসঙ্গতায় হঠাৎ কবিতা কুটিরের স্বপ্ন তাকে এভাবে তোলপাড় করবে কোনোদিন ভেবেছিল ? শুধু উন্মনা নয়, একঝাঁক তরুণ কবি যেন ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত হয়ে তাকে ঘিরে আহ্বান জানাচ্ছে — আমাদের একটা সত্যিকারের কবিতার আঙিনা দাও , হে প্রিয়জন। এখন প্রায় প্রতিদিন রাতেই শুভ প্রলয় বা বিভিন্ন জেলার কয়েকজন নবীন প্রবীণ কবি তার সঙ্গে কবিতা সংগঠন নিয়ে কথা বলে। বসন্ত যাপনের সঙ্গে নতুন বছরের এই আগামী প্রতিশ্রুতি যেন অমলেন্দুকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখায়,বাঁচতে শেখায়। এমনকি লন্ডন থেকে প্রিয় বন্ধু মেঘলাও দু’তিনবার কথা বলে , এই ব্যাপারে উৎসাহ ও প্রয়োজন মতো টাকা পাঠাবার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। কিন্তু প্রায় দু’সপ্তাহ হতে চললো উন্মনা আশ্চর্যজনক ভাবে চুপ করে গেছে। ‘আপনি ‘র দূরত্ব থেকে ‘তুমি ‘র অন্তরঙ্গতায় নেমে আসার পর মেয়েটার কি কোনো অন্যায়বোধ জেগেছে ? বহুদিন আগে অমলেন্দুর এক সিনিয়র সাংবাদিক আলতো নেশা জড়ানো গলায় বলেছিলো–ওহে অমলেন্দু, তোমার নামের মধ্যে তো অমল শব্দটা আছে।এবারে সুধা নামুক তোমার জীবনে।জানো তো ,দেশ বিদেশের গুণী ব্যক্তিরা বলেন — কোনো সাম্রাজ্য জয়ের থেকে একজন পরিপূর্ণ নারীর হৃদয় জয় করা অনেক কঠিন। যেদিন সত্যিই সেই চোখের ভাষা বুঝতে পারবে , সেদিন তোমার জীবনটাও কবিতার মতো হয়ে উঠবে। চশমাটা খুলে , চিঠিটা হাতে নিয়ে অমলেন্দু দাঁড়িয়েই আছে। কবেকার সেই কথা মনে করে তার সংশয় ক্রমশ প্রবল হচ্ছে চিঠিটাকে ঘিরে।চশমা খুললে তার কাছে পৃথিবীটা ঝাপসা । আবার চশমা পরলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে,কে লিখেছে চিঠিটা। অমলেন্দু কিছুতেই এই দ্বিধার দূরত্বটুকু পেরোতে পারছেনা।ফ্লাস্ক থেকে চা ঢেলে, শেষ পর্যন্ত চশমা পরে খামটার দিকে তাকালো অমলেন্দু।না , এটা উন্মনার চিঠি নয়। বাদল মেঘ ছদ্মনামের আড়ালে কেউ একজন তাকে চিঠি লিখেছে। উন্মনার চিঠি না হলেও , অবসন্ন অমলেন্দুর বিরক্তি এলো না। খামটা খুলে দেখলো — এটা কোনো কবির চিঠি । আট দশটা কবিতা পাঠিয়েছে , সঙ্গে দুপাতার চিঠি।
প্রিয় অমলেন্দু স্যার,
বাদল মেঘ আমার ছদ্মনাম।আমি পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘার কাছাকাছি একটা গ্রামে থাকি । প্রলয়দার ফোনে জানলাম,আপনাদের এই উদ্যোগের কথা । কবিজন্ম ও কবিতাজন্মকে ঘিরে আপনারা এত ভাবেন ! আশ্চর্য ! কয়েকমাস আগে ঝাড়গ্রামে আপনার কর্মশালায় আমিও ছিলাম। উন্মনাদিকে আমার খুব ভালো লেগেছিল। আর আপনার তো কোনো তুলনাই হয় না। আমি এই উদ্যোগে সামিল হতে চাই স্যার। আমি শিক্ষিত কিন্তু কাঠ বেকার। মন দিয়ে পড়াশুনা করেছিলাম। তাই ছাত্রছাত্রী পড়িয়ে কিছু রোজগার করি। আমার কবিতার আকাশে যে মেয়েটির নাম সন্ধ্যাতারার মতো জ্বলজ্বল করে , সে– তিথি। আমাদের দুজনের বয়সই সাতাশ। গত সাত বছর ধরে আমার কবিতাকে ও প্রাণিত করে চলেছে । মানুষ হিসেবে আমার কোনো ভবিষ্যৎ নেই জেনেও কিছুতেই আমাকে ও ছেড়ে যাবেনা। আমাদের দুজনের শ্রদ্ধাই সকলের প্রিয় অমলেন্দু স্যারকে ছুঁয়ে থাকে। আমরা দুজনেই ভবিষ্যতে আপনাদের সংগঠনে কাজ করবো । আমার কবিতা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ছাপা হলেও তার ভিত্তিভূমি যে খুব শক্তপোক্ত , তা কিছুতেই বলতে পারবোনা। কলকাতার কোনো নামী পত্রিকায় আমার কবিতা আজও ছাপা হয়নি। তবুও আমার প্রকাশিত অপ্রকাশিত কবিতা নিয়ে তিথির উচ্ছ্বাস দেখে আমি লড়ে যাচ্ছি। আমার স্মার্টফোন নেই । তাই আপনার ঠিকানা জোগাড় করে চিঠি লিখলাম। আমার বা তিথির বা আরো অনেকের যে অভিযোগ আপনাকে ঘিরে , তা হলো — কেন আপনি নিজে কবিতা লেখেন না? কোথায় বাধা স্যার? অথচ বাংলা ভাষার আবহমান কালের কবিতারা আপনার কন্ঠে কী অপূর্ব প্রাণ পায় ,আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনি।এবার আমার একটা দুর্বলতার কথা বলি। আপনি প্লিজ বকবেন না। কেন জানিনা আমার মনে হয়,যতক্ষণ বাচিকশিল্পীরা তাঁদের পরিশীলিত কণ্ঠের জাদুতে কোনো তরুণ বা অপরিচিত কবির কবিতা তুলে না ধরছেন , ততক্ষণ সেই অপরিচিত কবির কোনো ভবিষ্যৎ নেই । আমার একগুঁয়ে জেদি প্রেমিকা তিথি আমাকে অনেকবার বারণ করেছে , তবু আমি ফোন নম্বর জোগাড় করে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের বাচিকশিল্পীদের অনুরোধ করি আমার কবিতা বলবার জন্যে। সিগারেট খেতাম , সেটা ছেড়ে দিয়েছি শুধু বিভিন্ন জায়গায় কবিতা পাঠাতে অনেক পয়সা খরচ হয় বলে। রাণীগঞ্জ , কুলটি, রূপনারায়ণপুর , আসানসোল, পুরুলিয়া ,বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর , উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা , হাওড়া,হুগলি…বহু কৃতি বা সাধারণ মাপের আবৃত্তি শিল্পী আমাকে চেনেন।ফোন করলে উৎসাহ দেন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই । আবৃত্তি করার সময় শুধু বিখ্যাত কবির কবিতাই করেন । আমার মতো অচেনা অজানা কবিকে খুব একটা পাত্তা দেন না। আমার কবিতাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ভালো বলার জন্য অনেক স্তাবক আছে , কিন্তু চোখে চোখ রেখে আত্মসমালোচনা করবার শিক্ষা আমি তিথির মতো একজন বন্ধুর থেকে পেয়েছি।তিথিই আমার প্রথম ও শেষ কবিতা । নিচে আমার ফোন নম্বর দিলাম। আপনি আমাকে ফোন করে কড়া ধমক দিন। কিন্তু আমার কবিতাগুলোকে আপনার স্নেহ থেকে বঞ্চিত করবেন না। তারা যেন আপনার কোমল ও শিক্ষকসুলভ দৃষ্টির স্পর্শ লাভ করে ধন্য হয়। তিথি বলে– আমার সবথেকে বড় ত্রুটি এই যে–আমি নাকি সবসময় কবিতাকে আবৃত্তিযোগ্য করে তোলবার জন্যে লিখি। ওর সঙ্গে তর্ক করলেও আপনার সামনে আমি অকপটে স্বীকার করছি –স্যার,আমি কিচ্ছু জানিনা। কবিতার অনুভূতি আমার মধ্যে থাকলেও তাকে সার্থক কবিতায় রূপ দিতে আমি হয়তো পারি না। কিন্তু আপনার মতো শিক্ষকের স্নেহ ও সাহচর্য পেলে,আমি নিশ্চিত, একদিন কবিতার ভাষা আমার করায়ত্ত হবে। আমার কবিতাগুলো আপনি ফেলে দেবেন না স্যার। প্লিজ পড়বেন। কবিতার নারী তিথি আমাকে কোনোদিন ছেড়ে যাবে না। আমরা দুজনেই ভবিষ্যতে আপনাদের কবিতার উঠোনে নিমগাছের ফাঁক গলে আসা একমুঠো রোদ্দুর হতে চাই । ঝিরঝিরে বাতাস হতে চাই। বাদল মেঘের মাদল হতে চাই্য। আপনি আমাকে আশীর্বাদ করুন , যেন সস্তা জনপ্রিয়তার মোহ থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারের কবি হয়ে উঠতে পারি । আমার সঙ্গে তিথিও আপনাকে প্রণাম পাঠাচ্ছে।আপনি গ্রহণ করবেন না ? ভালো থাকবেন। স্বার্থপরের মতো বলছি — আপনাকে বহুদিন বেঁচে থাকতে হবে — আমাদের জন্যে , একটি স্বপ্নের কবিতাজন্মের জন্যে , একটি সারা আকাশ কবিতা জন্মের জন্যে।
— ইতি বাদল মেঘ।
চিঠিটা পড়তে পড়তে অভিজ্ঞ অমলেন্দুর মুখে নানা রকম আলো খেলে যাচ্ছিলো। ক্রোধ,বেদনা, স্নেহ , ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল যেন। তাড়াতাড়ি কোনোরকমে রাতের খাওয়া সেরে , লেখার প্যাড টেনে নিয়ে বসলো অমলেন্দু।
প্রিয় কবিবন্ধু বাদল মেঘ ,
তোমার কবিতা আমি এখনও পড়ে দেখিনি। চিঠিটা পড়ে মনে হলো, কিছু কথা তোমাকে বলা দরকার । এই পর্যন্ত লেখার পর , গভীর হাওয়ার রাতে সে হাত গুটিয়ে বসে থাকলো । মনে হলো– রবীন্দ্রনাথ কি করে এত চিঠি লিখেছেন ? যে আজও বিশ্বকবির অপ্রকাশিত চিঠি পাঠকের সামনে আসে ! এত সাহিত্য রচনা করার পরেও কী করে এত চিঠি লিখতেন , সেটাই ভীষণ আশ্চর্যের বিষয়। ল্যাপটপটা চার্জে বসিয়ে মনে হলো — অফিসের কিছু জরুরী রিপোর্ট ওকে তৈরি করতে হবে ঘুমোবার আগে । ছেলেটিকে চিঠি লেখার চাইতে ফোন করাই বোধহয় ভালো । আর সেটা এই মুহূর্তে হলেই ভালো হয় । এই বাদল মেঘের বাদলের মধ্যে যে অবুঝপনা রয়েছে , সস্তা জনপ্রিয়তা পাবার প্রবণতা রয়েছে–তার অভিমুখ ঘুরিয়ে , লেখার জগতে ধ্যান দেওয়াটা খুব জরুরি । সেই কাজটাই অমলেন্দুকে করতে হবে । তিথির মতো একটি নিষ্পাপ মেয়ে বাদল মেঘের শ্রাবণ হয়ে নামার অপেক্ষায় বছরের পর বছর ধৈর্য ধরে রয়েছে । থাকবেও। তিথির মতো মেয়েরা কখনো নদীর ওপার থেকে — বিদায় বন্ধু… বলে , হাত নেড়ে চলে যায় না। কাজেই ছেলেটিকে প্রকৃত কবি হয়ে উঠে ,কবিতার নারীর সেই ঋণ শোধ করতে হবে । আবার , সেই মুহূর্তেই অমলেন্দুর মনে হল– আরেকজন কবিতার নারীর কথা– উন্মনা। ফাগুন বাতাসের লজ্জার আঁচলে মুখ লুকিয়ে ঘুমের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও সে হয়তো সাইলেন্ট মোডে রাখা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে । আচ্ছা , দুজনের কেউই কেন প্রথম তুমির লজ্জা ভেঙে একে অপরের চোখের গভীরে হারিয়ে যেতে পারছে না ? কবি বাদল মেঘ আর তিথির কথা তো এই মুহূর্তে উন্মনাকেই সবচেয়ে বেশি জানাতে ইচ্ছে করছে । অমলেন্দুর প্রফেশনাল প্রাজ্ঞতার মধ্যে যে এমন একটা ছটফটে প্রেমিক যুবক আছে , সেকথা সে নিজেই কি ছাই জানতো ? ধীরে ধীরে দরজা পেরিয়ে, উঠোনের খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে , অমলেন্দু এই মুহূর্তে উচ্চারণ করছে জীবনানন্দের কবিতা– হাওয়ার রাত।
গভীর হাওয়ার রাত ছিল কাল–অসংখ্য নক্ষত্রের রাত ; সারারাত বিস্তীর্ণ হাওয়া আমার মশারিতে খেলেছে; মশারিটা ফুলে উঠেছে কখনো মৌসুমী সমুদ্রের পেটের মতো,
কখনো বিছানা ছিঁড়ে
নক্ষত্রের দিকে উড়ে যেতে চেয়েছে ;
এক-একবার মনে হচ্ছিলো আমার — আধো ঘুমের ভিতর হয়তো–
মাথার উপরে মশারি নেই আমার ,
স্বাতী তারার কোল ঘেঁষে নীল হাওয়ার সমুদ্রে শাদা বকের মতো উড়ছে সে !
কাল এমন চমৎকার রাত ছিল।
সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা কাল জেগে উঠেছিলো–আকাশে এক তিল
ফাঁক ছিলো না ;
পৃথিবীর সমস্ত ধূসর প্রিয় মৃতদের মুখও সেই নক্ষত্রের ভিতর দেখেছি আমি ; অন্ধকার রাতে অশ্বত্থের চূড়ায় প্রেমিক চিলপুরুষের শিশির-ভেজা চোখের মতো
ঝলমল করছিলো সমস্ত নক্ষত্রেরা ;
জ্যোৎস্নারাতে বেবিলনের রানীর ঘাড়ের উপর চিতার উজ্জ্বল চামড়ার
শালের মতো জ্বলজ্বল করছিলো বিশাল আকাশ!
কাল এমন আশ্চর্য রাত ছিলো।
……………….
…………………
দুজনের কাউকে ফোন না করে অনেকক্ষণ চুপ করে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলো অমলেন্দু।চমক ভাঙলো একটা ভ্যান রিক্সার হর্ণের শব্দে । পাড়ার দীনু সর্দার ওকে চেঁচিয়ে বলে গেল–ও দাদাভাই,ওভাবে দাঁড়িয়ে থেকো না।ঠান্ডা লেগে যাবে যে । তুমি জ্বরে পড়ে গেলে আমাদের খবরগুলো শহরে পৌঁছোবে কি করে ? উত্তরের আশা না রেখে , দীনু ঘটর ঘটর করে ভ্যান চালিয়ে গ্রামের ভেতরে আঁধারের আরও গভীরে চলে গেলো । রাত যদি নারী হয় ,তাহলে তার ফাগুন ভালোবাসা মেখে কাজের অমলেন্দু , কবিতার অমলেন্দু , বিষণ্ণ অমলেন্দু একরাশ অন্ধকার হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো ।
ক্রমশ