সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে অর্পিতা বোস (পর্ব – ১০)

বৃত্ত

ঘুমের মাঝে ফোনটা বাজতেই ধড়মড়িয়ে ওঠে রূপসা। ঘোরের মধ্যে কোথায় আছে সেটা বুঝতেই কিছুটা সময় কেটে যায়। ধাতস্থ হতে মনে পড়ে বিকেল থেকে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা। সাত‍্যকী স‍্যার বাড়ি নিয়ে আসার পর মাকে দেখে কেঁদে ফেলেছিল রূপসা। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত শরীরে হেঁটে ঘরে যাওয়ার মতো ক্ষমতাটুকুও ছিল না। মা আর স‍্যার দুজনে ধরে রূপসাকে ঘরে নিয়ে আসে। অনেকটা সময় ছিলেন স‍্যার আজ। মা রূপসার সব অতীত জানায় সাত্যকী স্যারকে। চুপ করে বসেছিলেন স‍্যার কিছুক্ষণ। তারপর বাবার ওষুধের বাক্স থেকে রূপসাকে একটা ঘুমের ওষুধ খেতে বলেন । বাধ‍্য মেয়ের মতো রূপসা এক গ্লাস দুধ আর একটা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল। স‍্যার চলে যাওয়ার পর রূপসা বিছানায় শুয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল নিজেও জানেনা। চোখ কচলে দেখে হালকা ভোরের আলো জানালার কাচ বেয়ে ঘরে ঢুকছে। আধাঅন্ধকারের মাঝে হাজার ভাবনারা ঘিরে ধরে রূপসাকে। জীবনটা বারবার বদলে গেছে শুধুমাত্র রাহুল নামের রাহুর জন্য। সেই সর্বনাশা দিন মুছতে নতুন করে জীবন শুরু করেছিল। আবার সেই রাহুল এসে যেন ঘোর কালো বৃত্তে ঘিরে ধরল। সাত‍্যকী স‍্যার, বাবা সবাই যেন বহুদূরে হারিয়ে যাচ্ছে। আবারও মোবাইলটা বেজে ওঠে। এবার নিজেকে সামলে নেয় রূপসা। আসলে সব ঘটনা আর ঘুমের ওষুধের জেরে নিজেকে কেমন হারিয়ে ফেলছিল যেন। মোবাইলটা হাতে নিতেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে সাত‍্যকীর নাম। রিসিভ করে,
— ঘুমোচ্ছিলে জানি। কিন্তু একটা দরকার আছে। আমি তোমার বাড়ির গলির মুখে। আমার সাথে একটু যেতে হবে।
— কোথায়?
— আমার ওপর তোমার ভরসা আছে জানি। একটু তাড়াতাড়ি এসো দরকার আছে।
বুকটা কেমন মুচড়ে ওঠে। ফোনটা রেখে মায়ের ঘরে যায়। এত ভোরে বেরোনোর কথা বললে মা কিভাবে রিঅ্যাক্ট করবে জানা নেই। আসলে মা বড় নরম মনের মানুষ। খুব নিরাপদ ছিমছাম এক সুখী সংসারের বৃত্তে ছিল। হঠাৎই সব ওলোটপালোট হয়ে গেল রূপসার জন্য। সত্যিই রূপসাই সবার জীবন বদলে দিয়েছে। যদিও ইচ্ছাকৃত নয়। মায়ের ঘুমন্ত মুখটা দেখে বড় মায়া হলো। কিন্তু ডাকতেই হবে। সাত‍্যকী স‍্যার অপেক্ষা করছেন।
মাকে ডেকে সবটা বলতেই আজ মায়ের মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন চোখে পড়ল রূপসার। মাথায় হাত রেখে মা বলেন,
— সাবধানে যাস। আমার জন্য চিন্তা করিস না।
মোড়ের মাথায় আসতেই সাত‍্যকীকে দেখতে পেল গাড়িতে। উঠে বসেই রূপসা
জানতে চায়,…..

আগামী পর্বে সমাপ্ত

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।