T3 || আমি ও রবীন্দ্রনাথ || বিশেষ সংখ্যায় অনিন্দিতা ভট্টাচার্য্য
by
·
Published
· Updated
সময়ের রবি…
রবি ঠাকুর নিয়ে যত বার লিখতে বসি, ততবারই যেন হারিয়ে যাই ছোটবেলার স্মৃতিতে। রাবীন্দ্রজয়ন্তী মানেই যেন ছিল আলাদা এক উৎসব। বিভিন্ন জায়গায় প্রোগ্রাম। সকাল বেলায় প্রভাত ফেরি, নাচ গানের উৎসব। সব মিলিয়ে যেন আলাদাই মোহ।
ছোটবেলার রবি মানে ছিল একটা আনন্দের দিন, একটু সাজগোজ, কিংবা মায়ের শাড়ি পরে একটু বড় সাজার শখ। কখনো বা মাথায় ফুল গোঁজা। কিন্তু সময় আর বয়সের বাড়বাড়ন্ত আমায় বুঝিয়েছিলো ‘রবি’ বাঙালির জীবনের সাথে ঠিক কতটা প্রাসঙ্গিক। জীবনের প্রত্যেকটা ওঠাপড়ায় ‘রবি’ এক অদ্ভুত মিল। “সঞ্চয়িতা” কিংবা “গীতবিতান” এ বর্ণিত প্রত্যেকটা লাইন থেকে শব্দ বুঝিয়ে দিত রূপ রস রঙ এর কি গভীর মিল।
ছোটবেলার প্রভাত ফেরি তে গাওয়া “আয় তবে সহচরী” থেকে নিভৃতে “এসো হে প্রাণে প্রাণ সখা” যেন ছুঁয়ে যায় প্রথম বসন্তের হাওয়া। শুধু কি এই বসন্তই ঋতুর বসন্তের সাথে মিলিয়েও ‘রবি’ গেয়েছিলো “নীল দিগন্তে ওই ফুলের আগুন লাগলো”।
বয়সের প্রতিটা ধাপে যেন ‘রবি’ ছোঁয়া বড্ড আবশ্যিক। সময়ের প্রত্যেকটা ধাপ বোঝাতে থাকে ‘রবির’ অপরূপ সৃষ্টির মানে। ‘রবি’ যেমন আনন্দের সঙ্গী সেরকম দুঃখ ঝড়েও যেন একমাত্র অবলম্বন। একদিকে যেমন “প্রাণ চায় চক্ষু না চায়, মরি একি তোর দুস্তর লজ্জায়” আবার অন্যদিকে সেরকমই “যে রাতে মোর দুয়ার গুলি ভাঙলো ঝড়ে”। কি অপরূপ মানে!
সময়ের সাথে সাথে ‘রবি’ হয়ে ওঠে আমাদের পরম ভালোবাসার জায়গা। তাই শেষ বয়সেও যেন ‘রবির’ সুরেই গাইতে ইচ্ছে হয় “যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, তখন আমায় নাই বা ডাকলে”….
সব শেষে একটাই যেন কথা বারবার বলে যাবে যুগের প্রতিটা ক্ষণ..
“এ রবির উদয় আছে অস্ত নেই
এ রবি মানুষ হয়েও ঠাকুর তাই”