কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে অমল বিশ্বাস (গুচ্ছ কবিতা)

দু’আঙুলের ত্রস্ত অভ্যেস
খামে ছয়টি বোতাম
সেখান থেকে পাঁচটি টেবিলে সাজালো,
একটি খামের কোণায় লেপ্টে থাকতে
কামুক হলো দৃষ্টিপাত।
ব্যস্ত সুচসুতো
অলংকৃত করলো একে-একে পাঁচটিকে
শালিকে খাঁচার তার ভাঙতে বড্ড ব্যস্ত।
বাকি বোতামটি
কোণা ছিঁড়ে মেঝেয় পড়তে সরিয়ে দিলো
দু’আঙুলের ত্রস্ত অভ্যেস।
কামনার পূর্বাভাস
ষঢ়রিপুর দীর্ঘপ্রশ্বাসে মেতে উঠতে
বুক থেকে ছিঁড়ে গেল পাঁচটি বোতাম
একত্রিত হলো প্রথমার সাথে।
ঈশ্বরের হাতে মৃত্যু নেই
ঈশ্বরের হাতে মৃত্যু নেই
যতোক্ষণ কাঙ্খিত প্রেমে তুমি অঙ্কুরিত,
ততোক্ষণ আমি জীবিত।
চাও, কী-না চাও
সমুদ্রের স্পর্শে নদী বাঁচুক;
ঢেউ হয়ে সমুদ্রে বিসর্জিত হোক
সঞ্জীবনী সুধা!
ঢেলে দাও মৃত্যু ক্ষুধায় অমৃত যৌবন;
আমি অপেক্ষায় আছি।
ততোক্ষণ প্রেমে বাঁচি
যতোক্ষণ কাছাকাছি মাটি ও আকাশ,
নন্দিত বাতাসের বন্ধনে।
চাও, কী-না চাও
বুকের স্পর্শে ইচ্ছে আসুক;
অনিচ্ছার মৃত্যুতে পুনশ্চ জাগুক সৃষ্টি
ইহলৌকিক প্রেম!
তোমার কী ইচ্ছে নেই
কিঞ্চিৎ সান্নিধ্যে মিথ্যে হোক ঈশ্বর,
বন্ধ হোক মৃত্যুর তালা!
ঈশ্বরের হাতে মৃত্যু নেই
যতোক্ষণ তোমার অন্তরে আমার বন্ধন,
ততোক্ষণ তুমি জীবিত।
৫৮/ বিরহী কাজল
কিশোর ঘুমে
অবুঝ চুম্বনে দুই তীর ভাঁজ হয়েছিলো,
মধ্যবর্তী জলে নেমেছিলো গর্জন;
অর্জনে আনন্দিত একজন
নাম স্বপ্ন শোভন।
সন্ধির ঘুমে
নৌকার বুক তরতর করে পিঠ ছুঁয়েছিলো,
চাঁদের উল্টোদিকে কলঙ্কের সুখ;
বুকে প্রসারিত নিবিষ্ট হাত
নাম স্বপ্ন প্লাবন।
তরতাজা ঘুমে
গ্রীবার অন্তরালে বিস্তৃত হাওয়া নেমেছিলো,
দুইগালে পরিপক্ক রেণুর আন্দোলন;
চোখের পাতায় সম্পন্ন আহ্বান
নাম স্বপ্ন যৌবন।
লগ্নভ্রষ্ট ঘুমে
সজ্জিত শয্যা জুড়ে বর্ষার ধারা নেমেছিলো,
ধুয়ে গেলো সঞ্চিত অতীতের বোধ;
হারানো পাখির ঘরে ব্যাকুল ক্রন্দন
নাম স্বপ্ন সকাল।
আজকের ঘুমে
একাকীত্বের মাঝে জোছনা নেমেছিলো,
ভোরবেলা কষ্ট চোখে স্মৃতির উপোষ;
কবিতার পাণ্ডুলিপির দগ্ধ অহংকার
নাম বিরহী কাজল।