অথ শ্রী উপন্যাস কথায় আরণ্যক বসু (পর্ব – ৫৮)

শালজঙ্গলে বারোমাস ছয়ঋতু
যখন শরতে নামে শিউলি শিশির
নদীর ছলাৎ জলে — ও সোনার তরী…
তখন কবিতা আসে রাতের তারায়
যখন মেঘলা ভাঙা আলোর মঞ্জরী
ভোরের প্রথম আলোতেই ঘুম ভেঙে গেল অমলেন্দুর। গতরাতে উন্মনার কবিতা তাকে যেন নতুন করে জাগিয়ে দিয়েছে । উদ্দীপ্ত করেছে । নতুন করে জীবনের পথে ফিরিয়ে এনেছে। আহা , কি সুন্দর লাইনগুলো !
জীবনের সাথে ভালোবাসাবাসি যার
দুকূল ছাপানো কবিতা গানের ভাষা…..
এভাবেই চলে উপকথা ভেসে ভেসে
সাগরের জল এখনো নদীতে মেশে…
আহা, কি সদর্থক কবিতা ! ঘুম ভাঙানো প্রথম আলো অমলেন্দুর চোখের উপর আলতো স্পর্শ বুলিয়ে দিয়ে যেন বলে গেল — সে ও কবিতার নারী উন্মনা কোনদিনও বিচ্ছিন্ন হবে না।সংসার উন্মনার কর্তব্য ও ভালোবাসা। সেখানে তার দশভূজার মত অবস্থান। আর কবিতাজীবন তার প্রেম ও স্বপ্ন ! ধরা ও অধরা , পাওয়া ও না পাওয়া , ছোঁয়া ও স্পর্শের গভীর স্পর্শ ! সেটাই তার কবিতাজন্ম ও কবিতাজীবন । অমলেন্দুর মুক্তি নেই উন্মনার বৃন্ত থেকে। তার সুগন্ধি ছায়া ও লুপ্ত সভ্যতার মতো মায়া থেকেও মুক্তি নেই। অমলেন্দু যা কোনদিন খাতায়-কলমে ফুটিয়ে তুলতে পারবে না। আপ্রাণ চেষ্টা করলেও পারবে না ; তার কবিতার নারী উন্মনা সেই কথাগুলোই কবিতায় এঁকে দিয়ে যাবে । মেঘ রোদ্দুর নীল আকাশের মত সহজ ও অনায়াস দক্ষতায় । ভবিষ্যতে আরও ভালো লিখবে সে । কবি উন্মনা একটির পর একটি সার্থক কবিতা লিখবে, কথক ,বাগ্মী ও আবৃত্তিশিল্পী অমলেন্দু তার সার্থক রূপ দেবে। মঞ্চে, মাঠে, স্ট্রিট কর্নারে , বন্ধ কারখানা গেটে , ক্ষণিক বিশ্রামের মধ্য দুপুর বটতলায়, ছয় ঋতু ও বারো মাসে — কথক অমলেন্দু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শুভ, প্রলয়, বাদল, অর্ধেন্দু, অরুনিমাদের কবিতা আবৃত্তি করবে । তিথিও বলবে , উন্মনা নিজে বলবে , অরুনিমা বলবে তাদের নারী জন্মের কথা। শুভ, প্রলয়, বাদল, অর্ধেন্দু সুন্দর ভাবে তাদের নিজেদের কবিতা পরিবেশন করবে। এভাবেই রচনা হবে কবিতার দীর্ঘ দিগন্ত।
চা খেতে বসে হঠাৎ একটা অচেনা নম্বরের ফোন ভেসে এলো। ও প্রান্তে একটি অল্পবয়সী পুরুষকণ্ঠ। স্যার , আপনাকে প্রণাম। আমি শিমুল রহমান বলছি। আমার পাশে আমার স্ত্রী পারভিনও রয়েছে। আমি স্পিকার অন করেছি । ও আপনাকে প্রণাম জানাতে চায়। অমলেন্দু কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করল আপনারা কোথায় থাকেন ? শিমুলের নম্র কন্ঠ থেকে যেন প্রথম শিউলি ঝরে পড়লো –আপনি নয় স্যার , তুমি বলবেন আমাদের । আপনার মত আবৃত্তি শিল্পী এই বাংলায় বিরল। আমরা হুগলী জেলাতে থাকি । রাজা রামমোহন রায়ের বাড়ির কাছাকাছি, খানাকুল গ্রামেই। আমি হাইস্কুলে পড়াই । আমার স্ত্রী পারভিন একটা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। আমরা দুজনেই আপনাদের এই কবিতা আশ্রয়ের কথা, লোকমুখে শুনেছি। এখন এই ব্যাপারটা চারিদিকে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে । আপনাকে এখন এক ডাকে সব মানুষ চেনে। কবিতার জন্য আপনাদের স্বপ্ন ও লড়াই আমরা অনেক দূরে থেকেও উপলব্ধি করি । আমরা মাঝে মাঝে আপনাদের কাছে যেতে চাই এবং কাজ করতে চাই। আমরাও একটি পত্রিকা অনিয়মিত ভাবে প্রকাশ করে থাকি। স্যার , আমার কথা থাক। পারভিন একটু কথা বলবে আপনার সঙ্গে। অমলেন্দু চুপ করে থাকলেও, ও প্রান্তে পারভিন খুব আনন্দের সঙ্গে বলল–স্যার, আমাদের খুব সৌভাগ্য যে আপনার সঙ্গে আলাপ করতে পারলাম। আপনি আমার প্রণাম নেবেন ।আমি যখন বারো ক্লাসে পড়ি , তখন আমাদের গ্রামে আপনি রবীন্দ্র জয়ন্তীতে এসেছিলেন । আপনার মুখে বিশ্বকবির “ঝড়ের খেয়া” এবং “এবার ফিরাও মোরে ” শুনে আমার মনে হয়েছিল যে , আবৃত্তি শিল্পকে আঁকড়ে ধরেই আমি বাঁচবো । শিমুলকে জীবনসঙ্গী পেয়ে আমার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে। কিন্তু আপনি এত দূরে থাকেন যে, শিক্ষক হিসেবে আপনাকে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে ভবিষ্যতে যদি কনফারেন্স কলের মাধ্যমে বা গুগুল মিটে আমরা দুজনে আপনার ক্লাস করতে পারি , তাহলে ধন্য হব । এরই মধ্যে আপনাদের এই কবিতা আশ্রয়ের কথা শুনে আমরা দুজনেই খুব উৎসাহিত হয়ে পড়েছি। কথা দিলাম , মাঝেমধ্যে আপনাদের কাছে যাবো। বাকিটা ফোনের মাধ্যমেই হবে। এখন তো তথ্যপ্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে। আফসোস লাগছে স্যার, সেই বারো ক্লাসে পড়ার সময় যদি আপনার ক্লাস করতে পারতাম তাহলে অনেক এগিয়ে যেতাম হয়তো। এতক্ষণে অমলেন্দু কথা বলল–আমি আশীর্বাদ করি তোমরা অনেক দূর যাবে । কারণ তোমাদের দুজনের হৃদয়ে কবিতা রয়েছে। আবৃত্তি নয় , আগে কবিতাকে ভালোবাসো। তুমি যে দুটি কবিতার কথা বললে , বিশ্বকবির সেই দুটি কবিতা সারা জীবন ধরে পড়লেও যেন শেষ হয় না। আমার একটা অনুরোধ রেখো তোমরা। বিশ্বকবির গীতাঞ্জলি, নৈবেদ্য, লিপিকা আর ক্ষণিকা এবং অবশ্যই সোনার তরী বারবার পড়বে । বিশ্বকবির জীবন দর্শন বুঝতে পারবে । ও প্রান্তের নীরবতাই বলে দিচ্ছিল তারা কতটা আপ্লুত। শিমুল বললো — স্যার , আপনার কাছে নাড়া বেঁধে পড়ে থাকবো। তবে যদি কিছু শিখতে পারি। আর, ধারে কাছে কোথাও যদি আপনার ওয়ার্কশপ হয় আমাদের অবশ্যই ডাকবেন, যতটা পারি আপনার থেকে শিখে নেবো । তারপর আমাদের গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কবিতা ও আবৃত্তি শিল্পের দিকে টেনে আনবো।
ফোন রাখার পর অমলেন্দুর মনে হল–আরও বেশ কয়েক বছর আগে এমন ছাত্র-ছাত্রীকে কেন পেল না সে ? এদের কথাগুলোই যেন কবিতা হয়ে ফুটে উঠছে। মনে মনে বারবার আশীর্বাদ করলো–তোমাদের কন্ঠে যেন শতকুঁড়ি ফুল হয়ে ওঠে। শত কবিতা তার নীরবতার জগৎ থেকে বাগ্ময় হয়ে ওঠে।
ঠিক চব্বিশ ঘন্টা আগেও যে হতাশা তাকে গ্রাস করেছিল , কবিতার নারী উন্মনার ছোঁয়ায়, তার অসাধারণ কবিতায়, আর এই মুহূর্তে শিমুল ও পারভিনের সুন্দর আলাপচারিতায়, সেই সোনালি অভিমান ও দুঃখ যেন খড়কুটোর মতো ভেসে গেল। শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্র মাসে পা দিয়েছে প্রকৃতি। এবারে আশ্বিনের শেষ দিকে শারদোৎসব। তারপর কোজাগরী পূর্ণিমার ঠিক দুদিনের মধ্যেই রবিবার । যেভাবেই হোক ঐদিনেই পত্রিকা প্রকাশ ও কবিতাজন্মের প্রথম অধিবেশন বসবে তার বাড়ির আঙিনায়। কবিতার নারী উন্মনা যদি নাও আসতে পারে , সেই ক্ষতি ও ক্ষত মেনে নিয়েও এগোতে হবে সামনের দিকে । জটিল অংককে যেমন ছোট ছোট অংশ দিয়ে সমাধানের দিকে এগোতে হয়, ঠিক তেমন করেই এগোতে হবে। উন্মনা আসবেই । তার পায়ের আওয়াজে শিউলি , স্থলপদ্ম আর দোপাটির পাপড়িরা কেঁপে কেঁপে শিহরণ তুলবে । দিঘির শালুক-পদ্মে বিম্বিত হবে তার মর্মছায়া। সে আসবেই। আপাদমস্তক কবিতার মানুষ ছাড়া এই কবিতাজীবন অসম্ভব।
সকালের শেষ থেকে দুপুরের অন্তিম পর্যন্ত একটানা লিখে অমলেন্দু শেষ করল তার দীর্ঘ প্রবন্ধ — আবৃত্তি শিল্প ও কবিতার তৃতীয় ভুবন । আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি আসানসোলে যে নাটকের কর্মশালা তাঁকে পরিচালনা করতে হবে , তার জন্য প্রস্তুতি, ভাবনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গোছাতে সন্ধে পেরিয়ে রাত আটটা বেজে গেল। হঠাৎ মনে পড়ল কয়েকটা বিস্কিট আর চা ছাড়া সারাদিন কিছুই খাওয়া হয়নি।কিন্তু কাজের উৎসাহে , তাঁর শরীরে আজকে ক্লান্তি নেই। টিভিতে নিউজ চালিয়ে এক কাপ চা নিয়ে বেশ আয়েশ করে বসলো অমলেন্দু। তিথি আর বাদল আজ আসবে না। প্রলয়কে মেসেজ পাঠালো–শুভ আর তুমি রাত দশটা নাগাদ কনফারেন্স কলে আসতে পারবে ? একটা ডিসিশন আজ নিতে হবে। সারাদিনের আলস্য তাকে ঘিরে ধরলেও উঠে কোনো রকমের একটু ভাত ফুটিয়ে নিলো। হঠাৎ অমলেন্দুর মনে হলো , তার হঠাৎ খুব খিদে পেয়েছে , গরম ভাতের খিদে । মায়ের একটা কথা মনে পড়তে সে ফিক করে হেসে ফেললো। ছোটোবেলায় মা বলতো, যেদিন অন্নতে অরুচি আসবে , জানবি সেদিন তোর দিন ঘনিয়ে এসেছে। পঞ্চাশে পৌঁছেও অমলেন্দুর ভাতের খিদে জাগ্রত আছে দেখে সে নিজেই তৃপ্ত হলো । ডিম সেদ্ধ, আলু ভাতে , ঘি আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে গরম ভাত গোগ্রাসে গিলে, দু-একটা ওষুধ খাওয়ার পর মনে হলো, ঘড়িতে দশটা বাজে। কনফারেন্স কলে প্রলয় আর শুভকে ধরতেই , প্রলয় প্রথমেই বললো– উন্মনাদিকে ডেকে নেবো কলে ? কিছুটা অন্যমনস্কভাবে অমলেন্দু উত্তর দিলো — না থাক । ওকে ওর নিজের মতো থাকতে দাও। জানো তো, ছোটবেলায় ফুটবল খেলার মাঠে আমাদের কোচ অরূপদা বলতেন–ন্যাচারাল ট্যালেন্টেডদের নিজের মত করে খেলতে দিতে হয়। জীবনের যে কোনো ক্ষেত্রেই এটা সত্যি। সৃষ্টিশীলরা যদি নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটাতে না পারে , তাহলে খেলার মাঠ বা কবিতা কোথাও তারা তাদের সৃষ্টির স্বাক্ষর রাখতে পারে না। শুধু উন্মনা নয় , আমাদের এই কবিতা পরিবারে তুমি, বাদল এবং শুভ সেই ন্যাচারাল ট্যালেন্ট। আমার তো নিজেকে নিজের ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে যে , তোমাকে আমি সংগঠনের কাজে এত বেঁধে ফেলছি বলে। কতদিন তোমার কলম থেকে নরম সুন্দর প্রেমের কবিতা বেরোয় না বলতো। অথবা তীব্র প্রতিবাদের কবিতা ? আর শুভটাই বা কী করছে ? সবসময় পত্রিকা প্রকাশের কথা ভাবলে চলবে ? নিজের জন্য কিছুটা সময় তো নতুন নতুন কবিতা লেখার জন্য রাখতে হবে ! যাই হোক , যে কথা বলছিলাম….
এরপরে প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে, আগামী লক্ষ্মীপুজোর দুদিন পরের রোববারটাকে ঠিক করা আর অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তাদের মধ্যে তুমুল আলোচনা হলো। অমলেন্দু শুধু এটুকুই বোঝাতে পারলেন — যতটা বর্ণময় করে এই কবিতার অধিবেশন শুরু করব ভেবেছিলাম , হয়তো ততটা হবে না; কিন্তু কোথাও তো একটা শুরু করতেই হবে । তাই শরৎ ঋতুর অন্তিমটুকুই বেছে নিলাম। একটু ভালো করে ভেবে দেখে কালকে আমাকে জানিও তোমরা । ততক্ষণে শুভ আর প্রলয় মন খুলে অনেক কথা বলতে শুরু করেছে। অনেক স্বপ্ন পরতে পরতে খুলতে শুরু করলো। শুনতে শুনতে আবেগে অমলেন্দুর গলা ধরে আসছিল। গম্ভীর অমলেন্দু , স্থিতধী অমলেন্দু কিছুটা আবেগবিহ্বল হয়ে বললেন–একটা অকপট স্বীকারোক্তি তোমাদের সামনে করি আজ। এই এক বছর কবিতা জীবন নিয়ে ভাবতে ভাবতে, তোমরা হয়তো বুঝতে পেরেছো , উন্মনার সাথে আমি কিছুটা মানবিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি। আমরা দুজনেই এই ব্যাপারটা নিয়ে সিরিয়াস। কিন্তু ওর সাংসারিক বিপর্যয় ওকে খানিকটা বাধ্য করেছে ওর ভেঙে যাওয়া সংসারটাকে আবার জোড়া লাগাতে। কিন্তু আমি জানি বা ওর সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে , তাতে বুঝতে পেরেছি, আমাকে নয় ,ও কবিতার জীবন ছেড়ে কোথাও কোনদিন চলে যেতে পারবে না এবং সেটাই আমি চাই। তুমি, শুভ, উন্মনা, বাদল এই তিন চার জন আমার কাছে প্রকৃত কবিমনের মানুষ। আমি তো কবিতার কথক মাত্র। তোমরা সৃষ্টি করবে আর আমি হেমন্তের অরণ্যে ,বৈশাখের ঝড়ে, শ্রাবণের মেঘে মেঘে শরতের পড়ন্ত বেলায় সেই কবিতা সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেবো। শুধু একটাই রিকোয়েস্ট , জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে তোমরা আঁকড়ে ধরে থেকো । ছিটকে যেতে দিও না । কক্ষচ্যূত হতে দিও না। তোমাদের বৃত্তেই আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। তোমাদের সৃষ্টি আর আমার সৃষ্টির মিলিত প্রয়াসেই এই কবিতাজন্মে আমাকেও টিঁকে থাকতে হবে । এই কবিতার আশ্রয়েই আমি বেঁচে থাকবো। শুভ , প্রলয় অনেকদিন তোমাদের কবিতা শুনিনি, শোনাবে ? জানো,জাঁকজমক করে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানটা করবো ভেবেছিলাম,অনেক লোককে ডাকবো মনে করেছিলাম; কিন্তু উন্মনা হঠাৎ থমকে যাওয়ায় আমিও কিরকম দমে গিয়েছিলাম । ভাই,তোমাদের উপর খানিকটা জেদ করেই বলছি , আশ্বিনের শেষ রবিবার, আমাদের এই কবিতার আশ্রয় সকলের জন্য বুক পেতে দেবে। গ্রামেরই কোনো সাংস্কৃতিপ্রেমী বয়স্ক মানুষকে দিয়ে এর উদ্বোধন করাবো । তাঁকে ফুলের মালা পরাবে ছোট্ট একটি শিশু । এই দুই প্রজন্মের কবিতাতেই মুকুলিত হবে আমাদের কবিতাজন্ম। আর কোনো কথা নয় । শুভ-প্রলয় তোমাদের নতুন কবিতা শোনাও।
একটু কেশে নিয়ে,শুভ পড়ে গেল তার নতুন কবিতা।কবিতার নাম–
মনোবাসনা ও দৃষ্টিপাত
যেদিন কবিতা লেখা হয় , সীমান্তের কাঁটাতারে স্বাগতম এঁকে রাখে চৈত্রের ঝরাপাতা ও বৈশাখের পাপড়ি ।
যেদিন কবিতার জন্ম হয় — সেদিন বাংলা ভাষার দিগন্তে ভালোলাগায় কেঁপে কেঁপে ওঠে জীবনানন্দ থেকে বিনয় মজুমদারের কবিতারা ।
যেদিন কবিতা ভুমিষ্ঠ হয় ,
একুশ ও আঠারোর হাত চিঠিতে লেখা হয় লতা-হেমন্তের চিরদিনের গান —
দে দোল দোল দোল, তোল পাল তোল…
যেদিন মানুষের মুখের ভাষা হবে কবিতা ,
কান্নার ভাষা হবে গান ,
সেদিন …..
উত্তরে মৌন থাকলেন গভীরতার অমলেন্দু।ভালোলাগায় স্তব্ধ হয়ে থাকলেন।
এরপর প্রলয় শুরু করলো তার কবিতা–
অরণ্যের ভাষা
বনস্পতির নিবিড় আশ্রয়ে যে কিশলয় ,
নরম ঘাসের বিছানায় আঁকে
বিগত জন্মের মুখশ্রী ;
তখন বৃক্ষদেবতা তাকে পড়ে শোনায় কিশোর কবি সুকান্ত’র ছাড়পত্র ও আগামী।
অবাক কিশলয় শোনে
আর দিন গোনে।
কবিমন অমলেন্দু স্তব্ধ হয়ে ভাবেন, কবিতার অতলে সীমাহীন নীরবতার কথা!
চারিদিকে রাত গভীরের স্তব্ধতা,স্তব্ধতা,শুধুই স্তব্ধতা ।
ক্রমশ
খুব সুন্দর