Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ১৮)

বিয়ের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

বিয়ে যখন শুরু হয়েছিল, প্রাচীনকালে, তখন তার স্বরূপ কি ছিল? আর আজ কি? ভবিষ্যতে কেমন  হতে পারে?
বিয়ের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল, মহিলাকে পুরুষের সাথে জুড়ে দেওয়া। যাতে এটা প্রমাণ হয় মহিলার সন্তান পুরুষের শরীরের উত্তরাধিকারী। বিয়ের মাধ্যমে, মহিলা পুরুষের সম্পত্তি বলে গণ্য হত। আজও এই প্রথা চালু। প্রাচীন গ্রীসে, বিয়ের সময়, মহিলার পিতা, একজন পুরুষের কাছে , অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বলতঃ আমি আমার মেয়েকে বৈধ সন্তান উৎপা্দনের জন্য দিচ্ছি। ইহুদীদের মধ্যে পুরুষরা অনেকগুলি স্ত্রী রাখতে পারত। গ্রীক ও রোমান পুরুষেরা তাদের যৌন ইচ্ছাকে মেটাবার জন্য অনেক রক্ষিতা রাখতে পারত। তারা বেশ্যাদের কাছে যেত, বা অল্পবয়েসী ছেলেদের সাথে যৌন ইচ্ছা মেটাতে পারত। অন্যদিকে মহিলারা ঘরেই থাকতে হত, ঘরের কাজকর্ম সামলাতে হত। মহিলারা সন্তান উৎপাদনে ব্যর্থ হলে তাদের, বাপের বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হত, ও পুরুষেরা   আবার বিয়ে করত। এই ছিল অতীত।
 আর বর্তমানেঃ
সময় পাল্টেছে।পাল্টেছে বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে, ধরুন ১৯২০ সাল ( ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিক থেকে কিছু মহিলা নিজেদের ভোটের অধিকার ও নাগরিক স্বীকৃতির ভাবনায় কাজ করছিল)। এটা ছিল আমেরিকাতে। আর রাশিয়াতে চলছিল, কমিউনিস্টদের আন্দোলন।১৯১৮ – ১৯২০ বলশেভিক বা রেড আর্মি,( Bolsheviks (also called the Red Army)) যারা মার্ক্সীয় মতবাদে লেবার পার্টি হয়ে মেনশেভিকদের (the anti-Bolsheviks, MENSHEVIKS (the White Army)) হারিয়ে রাশিয়াতে জয়ী হয়েছিল ও প্রতিষ্ঠা করেছিল, USSR (United Soviet Socialist Republic)। এই কমিউনিস্টরাই কতগুলি বিষাক্ত সামাজিক পরিভাষা ব্যবহার শুরু করেছিল, যে শব্দগুলি মানুষের কাছে নতুন চিন্তা মনে হয়েছিল। এই শব্দগুলির দ্বারা প্রতিটি পরিবারে ভাংগন শুরু হয়েছিল। যেখানে কলকারখানা ছিল, সেখানে শ্রমিকরা প্রলোভিত হয়েছিল। আসলে এটা একটা চক্রান্ত ছিল বা কৌশল ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধি লাভের। পরিভাষাগুলির মধ্যে ছিল  ‘শোষণ’, ‘সর্বহারা/ প্রলেতারিয়েত’, ‘বুর্জোয়া/ ধনীকশ্রেণী’, ‘মহিলাশ্রম’, ‘অধিকার’ ইত্যাদি। ক্যাপিটালিস্ট দের পণ্যায়ন। (a capitalist economic system, commodification is the transformation of goods, services, ideas, nature, personal information or people into commodities or objects of trade) যেখান থেকে উদবৃত্ত মূল্য তৈরি হয় ও ধণিক শ্রেণী টাকা বানায়। মহিলাদের বোঝানো হল তারা পুরুষদের কাছে শোষিত। তারা বিনা পয়সায় পুরুষের বেগার  খাটে। তারা একথা কখনোই বলেনি, বিয়ের মাধ্যমে মহিলা, পুরুষের উপায়ের ধন দৌলতে মূল্য হিসাবে পাচ্ছে। পুরুষের সম্পত্তি র মালিক হচ্ছে। খাচ্ছে পরছে স্ফুর্তি করছে পুরুষের উপর। আর কাজ না করলে কেউ খেতে দেয়না।
বিপ্লবে মহিলা সমর্থনের জন্য কমিউনিস্টরা মহিলাদের ঘর থেকে বের করে আনার জন্য অনেক মিষ্টি কথা বলেছিল, ও বিপ্লবে সামিল করেছিল। কিন্তু কমিউনিস্টরা কখনোই মহিলাদের অগ্রাধিকার দেয়নি, বরং অনেক ব্যাপারে চেপে রেখেছিল। কারণ কমিউনিস্টরা ফেমিনিজম সহ্য করতনা।

“Women workers take up your rifles” – A revolutionary poster of 1917.

 

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আমেরিকা ও রাশিয়া ছিল বড় শক্তিধর দেশ। এশিয়ার লোকেরা তাদের বেশি অনুকরণ করত। সোভিয়েট রাশিয়া যখন দেখন নারীবাদ বা নারী জাগরণ তাদের পথকে জটিল করে দিচ্ছে তখন  থেকেই মহিলাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাখল। এদিকে ১৯২০ তে আমেরিকাতে মহিলারা ভোটের অধিকার পেয়ে, কেউ কেউ ভাবতে লাগল মহিলাদের পুরুষদের চেয়েও সেরা। তারা মহিলা স্বাধীনতার কথা ভাবতে লাগল।

 

 

March 8, 1917: A women’s march at St. Petersburg, demanding “Bread and Peace”. Photo: Getty Images

১৯১৭র  ৮ ই মার্চ, রাশিয়ার বিপ্লব চলছিল, মহিলারা রুটি ও শান্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এগুলি অব্দি ঠিকই ছিল। আমেরিকাতে ১৯১৯ সালে সেপ্টেম্বরে CPUSA ( Communist Party USA ) তো কমিউনিস্ট পার্টির লোকেরা দেখল তাদের সদস্য ৪০ শতাংশ মহিলা। কিন্তু মহিলারা অভিযোগ করছে তারা ছেলেমেয়ে, সংসা্‌ ছেড়ে আসতে অসুবিধা হচ্ছে। তখন কমিউনিস্ট পার্টি বোঝাল “male chauvinism” অর্থাৎ পুরুষদের বলতে হবে শেখাতে হবে, তারা যেন ঘরের কাজ সমান ভাবে করে। মহিলারা ক্রীতদাস নয়। বাচ্চার ন্যাপি পালটানো রান্না করা শুধু মেয়েরা একা কেন করবে?
 মেয়েরা এসব কথা ও ভাবনা তাড়াতাড়ি গ্রহন করল।(, “Families are stronger and happier if the father knows how to fix the cereal, tie the bibs and take care of the youngsters.”)
 মেয়েরা শিখল তারা মূল্যহীন গৃহ কর্ম করছে, তাদের পরিশ্রমের মূল্য তারা পাচ্ছেনা।
এসব বলে কমিউনিস্টরা মহিলাদের ঘরের বাইরে এনে বিপ্লবের কাজে লাগাল। রাশিয়াতে মহিলাদের পুরোপুরি অলিখিতভাবে মহিলা অধিকার খর্ব করে দিল। কিন্তু আমেরিকাতে মহিলা স্বাধীনতা বেড়ে উঠল।
the party newspaper The Daily Worker. Feminists began a campaign against “male chauvinism” and “sexism.”
বর্তমানে এই নারী স্বাধীনতা এমন চেহারা নিয়েছে, যে তারা ঘর সংসার ভেংগে বিশৃংখল জীবনে চলে গেছে।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।