Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ১০)

পৃথিবীটা কার? আপনি বিচার করুন (৪)

মানুষের বিবর্তনের সর্ব্বকালে মহিলা তো ছিলই পুরুষের পাশাপাশি। তাহলে মহিলারা তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেনি কেন, এবং মাতৃতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে পারলনা কেন? এই প্রশ্নটার জবাব আমি কারুর কাছে পাইনি। মহিলারা একটা কথা শিখেছে, কাউকে দোষ দাও ও তাকে ছোট বানাও। এটা একটা চালাকি। ফলে মহিলারা চালাকি করে বলে, পুরুষ তান্ত্রিক সমাজ মহিলাদের দমিয়ে রাখে। তারা এটা কখনো বলেনা কৃতজ্ঞতা নিয়ে, পুরুষ আমাদের পেটের অন্ন, পরিধানের বস্ত্র ও বাঁচার সুরক্ষা দিয়ে আসছে আদিম কাল থেকে। মহিলারা চিরকাল অকৃতজ্ঞ।

মহিলাদের পুরুষ, শিকল দিয়ে ঘরে বেঁধে রাখেনি। তারা যদি মনে করত, স্বাধীনতা অতি সহজ, অন্ন, বস্ত্র, সুরক্ষা অনায়াসে পাওয়া যায় তা হলে তারা অনেক দিন আগেই পুরুষকে লাথি মেরে বেরিয়ে যেত। কিন্তু তা তারা করতে সাহস পাচ্ছেনা।

প্রকৃতির বুকে যেকোন প্রাণিকে সংগ্রাম করে বাঁচতে হচ্ছে। যারা সংগ্রামে হেরে যাচ্ছে তারা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই বিলুপ্ত হওয়ার দায় কে নেবে? কেউ নেওয়ার নেই, স্বাভাবিকভাবেই। মহিলাদের চাল চলন যেরকম, তারা যদি পুরুষের পাশে ছায়া হয়ে না থাকত তবে বিলুপ্ত হয়ে যেত

ব্রোঞ্জের Bronze (৩০০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্ব)এবং অক্ষীয় যুগ Axial Ages (৮০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) বা মূল যুগে “pivotal age” প্রায় সমস্ত প্রাচ্য সমাজের কাছাকাছি অঞ্চল বেশিরভাগ পিতৃতান্ত্রিক ছিল, পুরুষতান্ত্রিক ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত ছিল। অক্ষীয়যুগে,(৫০০-৩০০ খ্রিস্টপূর্ব) ইউরেশীয় সমাজগুলিতে বেশিরভাগ মূল ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য উদ্ভূত হয়েছিল। জার্মান দার্শনিক কার্ল জ্যাস্পার্স (Karl Jaspers)”মূল যুগ”(Axial Age ) অর্থে, খ্রিস্টপূর্ব ৮ ম থেকে তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত প্রাচীন ইতিহাসের কালকে চিহ্নিত করেন। প্রাচ্যের সমাজ যেমন আক্কাডিয়ান, হিট্টাইটস, আশেরিয়ান এবং পার্সিয়ানরা( Akkadians, Hittites, Assyrians and Persians) মহিলাদের নীচু মর্যাদার ও অধীনস্থ অবস্থানে ফেলে দেয়। ব্যতিক্রম খুব কম আছে। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দে সুমেরীয়রা Sumerians নারীদের এমন একটি অবস্থান দেয় যা পুরুষদের তুলনায় প্রায় সমান ছিল, কিন্তু দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মধ্যে নারীর অধিকার এবং মর্যাদা হ্রাস পায়।পশ্চিমে মিশরীয়দের মধ্যে মহিলাদের অবস্থান উচ্চ ছিল এবং তাদের আইনী অধিকার পুরুষদের মতোই ছিল। খ্রিস্টপূর্ব তিন সহস্রাব্দি জুড়ে কয়েকজন মহিলা এমনকি ফ্যারাও pharaohs হিসাবে শাসন করেছিলেন।তবে ইতিহাসবিদ সারা পোমেরো Sarah Pomeroy ব্যাখ্যা করেছেন যে এমনকি সেই প্রাচীন পুরুষতন্ত্রগুলিতেও যে সমাজ ছিল তাতে কোনও মহিলা মাঝে মধ্যে রানী হয়ে উঠতে পারত, কিন্তু তার অবস্থান তার মহিলা বিষয় গুলিকে শক্তিশালী করতে পারেনি।

একটা পুরুষ রাজা হলে, তার পারিষদ আমলা মন্ত্রী, সৈন্য সামন্ত রান্নাঘর, ঝাড়ুদার ইত্যাদি সবাইকে সে পুরুষ দিয়ে চালাতে পারে, তার একটি মহিলারও দরকার পড়েনা। কিন্তু একজন রানী হলে তার পারিষদ আমলা মন্ত্রী, সৈন্য সামন্ত রান্নাঘর, ঝাড়ুদার ইত্যাদি সবাইকে মহিলা দিয়ে চালাতে পারেনা। সে চলে রাজার পুরুষ তন্ত্রকে খাটিয়ে। ফলে মহিলা উপরে উঠে, রাণী হয়, স্রেফ রাজার দয়ায় বা পুরুষের দয়ায়। বেগতিক দেখলে পুরুষরা রাণীকে কারাগারে লোপাট করে দিত। ইতিহাসে এমন ঘটনা অনেক আছে। ক্লিউপেট্রা, যেমন বহু মহিলা, ভাবে পুরুষকে জব্দ করার একটাই রাস্তা তা হল মহিলার যোনি। ক্লিউপেট্রা তার ১৮ বছর বয়সে নিজেকে জুলিয়াস সিজারের ভোগ্যমহিলা করে পাঠান। তিনি খুব সুন্দরী ছিলেননা। তার নাকটা বেশ আকর্ষনীয় ছিল। একটা পুরুষের কাছে যৌন সংগমের জন্য মোটামুটি উঠতি যৌবনা হলেই যথেষ্ট। তিনি রাজত্ব নিজে তৈরী করেননি উত্তরাধিকার সূত্রে পান তার পিতা টলেমির (assumed control of Egypt in 51 BC after the death of her father, Ptolemy XII,) মৃত্যুর পর।

 

 

ক্লিউপেট্রার ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

মোটামুটি দেখা যায়, খ্রীষ্টপূর্ব সময়ে মহিলারা পুরুষের সমান অধিকার সম্পন্ন ছিলেননা।

(চলবে)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।