পৃথিবীতে বিবাহের বহু বৈচিত্রতা আছে। বহু তথ্য আমরা জানিনা। বহু রকম সংস্কৃতি। প্রতিটা সংস্কৃতি তার নিজের লোকজনের মধ্যে সুন্দর প্রচলিত। সংস্কৃতি হল কোন জাতি বা গোষ্ঠির কোন আচার অনুষ্ঠান বহুকাল ধরে সময়ের সাথে সাথে মানুষকে পরিষেবা দিয়ে এসেছে। মানুষ তা পরাম্পরা ভাল মেনে স্বীকার করে এসেছে। সুতরাং সংস্কৃতিকে মন্দ বলা যাবেনা।
আমরা জানি মনোগামী (Monogamy) মানে একজন স্বামীতে/ স্ত্রীতে বিয়ে সারা জীবন। কিন্তু মনোগামির ও ধারাবাহিক হয় যাকে ইংরেজী শব্দে বলে Serial monogamy, যেখানে পুরুষ তার জীবনকালে বহু বিবাহ ধারাবাহিক করতে পারে। সিরিয়াল মনোগ্যামিকে সাধারণত বিবর্তনবাদী নৃবিজ্ঞানীরা a form of polygyny এক ধরণের বহু বিবাহ মনে করেন। অন্য কথায়, এমন একটি কৌশল যেখানে কিছু পুরুষ পুনরাবৃত্তি বিবাহবিচ্ছেদ এবং পুনর্বিবাহের মাধ্যমে একচেটিয়া একাধিক বিয়ে করেন। মহিলাদের মধ্যেও এমন ঘটতে পারে। তারা একাধিক স্বামী বিয়ে বিচ্ছেদ করে, পুনর্বিবাহের মাধ্যমে।
আসলে বিয়ে করে বংশের ধারা বজায় রাখার জন্য। এবং সন্তান সন্ততিকে সুরক্ষার জন্য। এটাই আদিম কাল থেকে, বিয়ে প্রতিষ্ঠান শুরুর আগে থেকে সকল জীবের মধ্যে ঘটে আসছে। এই বংশ গতি বা প্রজননের কারণে নারী পুরুষের শারিরীক পার্থক্য ভিন্নরকম ঘটে। উভয়েরই এই ভিন্নতায় সুবিধা অসুবিধা আছে। নারীদের যৌন বিনিয়োগের একরকম লাভ, পুরুষের অন্যরকম। সাধারণত ভাবা হয় পুরুষের দৈহিক আকার , শক্তি ইত্যাদি নারীর চেয়ে ভাল বলে তারা অধিক সুবিধা লাভ করে, কিন্তু নৃতাত্ত্বিকরা দেখেছেন, এমন ভাবার কারণ নেই মহিলাদেরও অনেক সুবিধা আছে। পিতামাতার বিনিয়োগ তত্ত্ব থেকে প্রাপ্ত ধারণা পশ্চিম তানজানিয়ায় (পিম্বুয়ে) প্রাথমিকভাবে উদ্যানতত্ত্ব জনসংখ্যার পুরুষ ও মহিলাদের (a primarily horticultural population ) মধ্যে দেখা গেছে (এক আদিম গোষ্ঠি আছে The Pimbwe are an ethnic and linguistic group based in the Rukwa Region of western Tanzania) সিরিয়াল মনোগ্যামিতে পুরুষরা উপকৃত হননা। মহিলারাই হন। অর্থাৎ মহিলারা যারা একাধিক বিয়ে করে।
দুজন গবেষক (A pair of researchers, one with the University of California, the other with the Max Planck Institute for Evolutionary Anthropology, In their paper published in Proceedings of the Royal Society B, Monique Mulder and Cody Ross) লম্বা সময় ধরে দেখেছেন, পূর্ব আফ্রিকান সম্প্রদায়ের মহিলারা একাধিক বিবাহ থেকে উপকৃত হন এবং পুরুষদের সেখানে ভোগান্তি রয়েছে বলে মনে হয়।
British geneticist and botanist Angus John Bateman (1919–1996) ১৯৪৮ সালে প্রস্তাব করেছিলেন যে প্রজনন সাফল্যের পরিবর্তনশীলতা মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যে বেশি। তিনি ডারউইনের যৌন নির্বাচন এ পুরুষদের সার্থকতা ও সাফল্য বেশি মনে করতেন এই ভাবনার সহায়ক। কিন্তু নৃতাত্ত্বিক ভিন্ন গোষ্ঠির মধ্যে যে পার্থক্য ও রয়েছে এখানে তাই দেখানো হল।
মুলদার ও রস Mulder and Ross, পিম্বুতে বসবাসরত প্রায় 2000 জন ব্যক্তির মধ্যে 20-বছরের সময়কালে ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন।
এই ডেটাতে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, জন্ম এবং মৃত্যুর এই ছোট্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকটি বাসিন্দার কার্যত প্রত্যেকের তথ্য ছিল। গবেষকরা অবাক করার মতো কিছু খুঁজে পেয়েছিলেন:
যে মহিলারা একাধিকবার বিবাহ করেছিলেন তাদের মধ্যে তুলনায় কমসংখ্যক বিয়ে করা মহিলাদের তুলনায় বেশি বেঁচে থাকা সন্তান রয়েছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হ’ল যে পুরুষরা বহু বিবাহ করেছিলেন তাদের কম বেঁচে থাকা সন্তান রয়েছেকমসংখ্যক বিয়ে করা পুরুষদের তুলনায়
গবেষকরা লক্ষ করেছেন যে পিম্বুয়ে অংশীদারদের অদলবদল করা বেশ সাধারণ, এবং বিবাহ একটি সাধারণ জিনিস। যেকোন যৌন সংগী যে কোনও সময় ছাড়তে পারে আবার ধরতে পারে। (swapping partners is quite common in Pimbwe, and marriage is a rather loose term—either partner is free to leave at any time. )