সাপ্তাহিক শিল্পকলায় “হেলেন জনসনের প্রদর্শনী ও মহিলা শরীরের সম্ভাব্যতা”- লিখেছেন আলবার্ট অশোক (পর্ব – ১২)

ভূমিকা
একযুগ আগে, নিজের ছবিকে একটা উন্নত জায়গায় পৌছাবার জন্য শুরু হয় আমার পড়াশুনা ধরতে গেলে, ১২ বছরেরও উপর সময়কাল।আমি দেখলাম নারীরা স্তন ও যোনি প্রচার করছে শিল্প সাহিত্য ও পারফর্ম্যান্স আর্টে। তার অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক কিছু নতুন ভাবনা শিখলাম।
প্রথমদিকে আমার মনে ছবির মধ্যে যে একধরণের পলিটিকস থাকে আমার মনে হতনা। মোটামুটি, ছবির জগত ও সমসাময়িক শিল্পভাবনা ইউরোপকেও ছাপিয়ে আমেরিকাতে চলে গেছে। কারণ ঐখানেই সকল ভাবনা বেশ কয়েক দশক ধরে নতুন ভাবে উদ্ভাবিত হচ্ছে ও সারা বিশ্ব তা অনুসরণ করছে। এখন আর ছেলেদের আঁকা ছবি সাহিত্য ও শিল্পকে শিল্প রসিকরা বেশি আমল দিচ্ছেনা। আমল পাচ্ছে মেয়েরা। নারীবাদ বা নারী জাগরণ, প্রথম ভোট নিয়ে আমেরিকাতেই হয়েছিল। তারপর মহিলারাভোটের অধিকারকে সাফল্য ভেবে আমেরিকাতে তিনটে আরো তরংগ নিয়ে এল। ১৯৪৯ সালে সিমোন দ্য বোভোয়ার সেকেন্ড সেক্স প্রকাশনার থেকে নারীচেতনা প্রকাশ পেতে লাগল। ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ সময়টা আমেরিকার প্রমীলাদের ২য় নারীবাদ তরঙ্গ। এখান থেকেই শুরু হল সামাজিক ভাবনার পট পরিবর্তন।নারীরা বলল, মেয়েরা সুন্দর ও দুর্বল, এই ভাবনাটা পিতৃতান্ত্রিক ভাবনা। ফলে মেয়েরা কাজে মজুরী কম পায়। মেয়েদের এই ভাবনাটা পাল্টাতে হবে।তারা নারী শরীরের বাস্তবিক মুক্তি আনার জন্য স্তন, ও যোনিকে শিল্প সাহিত্যে ব্যবহার করা শুরু করল। ৩য় তরঙ্গে, তারা উঁচু গোড়ালি জুতা, হাতে সিগারেট ও স্তনের বিভাজিকা দেখিয়ে ছেলেদের মত একটা শক্ত প্রকৃতি চেহারাতে আনার চেষ্টা করল। এগুলি পড়াশুনা না থাকলে ছবি বোঝা অনেক কঠিন ও মনে হবে অশালীন। এই তরঙ্গ গুলি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। অকারনে নারীদের উলঙ্গ দেখানো, একটা কালচারে পরিণত।
লন্ডনের পিলার কোরিয়াসে এজেন্সি, হেলেন জনসনের প্রদর্শনী মহিলা শরীরের সম্ভাবনাময়কে এবং চিন্তাভাবনার বিতর্ক, আত্ম-সচেতনার জন্য, শুধু অস্তিত্বের জন্য এবং আরও অনেক কিছুর উদ্ভাবন করতে চাইছে।

Helen Johnson Agency Pilar Corrias শিল্পী রা হলেন
Sofia Mitsola ক্রিস্টিনা কোয়ারলেস, হেলেন জন্সন (Born 1979, Melbourne, Victoria. Lives and works Melbourne) American artist Tschabalala Self

Christina Quarles Always Brightest Before Tha Dusk
একজন মহিলা শিল্পী। গত ১৯৫০ এর পর থেকে পশ্চিমের মহিলা শিল্পীরা, দার্শনিকগণ, নিজেদের শরীর, গোপনাঙ্গ- যেমন যোনি ও স্তন, ইত্যাদি নিয়ে কবিতা, ছবি, বিশ্লেষণ বা প্রদর্শনীর নামে প্রকাশ্যে জনসমাবেশে, নিজেদের স্তন ও যোনি জনসাধারণকে ধরতে দিচ্ছেন ও বলতে চাইছেন, এতে কৌতূহলের কিছুই নেই আপনি ধরে দেখুন। আমি জানিনা এইভাবে পুরুষকে যোনিমূখী করে তোলা বা মহিলা প্রভাবে অধীনে টানার কৌশল চলল কিনা। কিন্তু আমরা দেখলাম , এই প্রভাব পশ্চিমে ও পূবের আধাশিক্ষিত দেশগুলিতে মহিলারা অপ্রয়োজনীয় যৌনতা সাহিত্যে শিল্পে অপটু হাতে সমাজকে দেখাচ্ছেন। আপনি লক্ষ করে দেখবেন অধিকাংশ মহিলা কবির কবিতা যোনি নিয়ে, এবং তার সাথে পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ জন্মিয়ে।এইরকম সংস্কৃতি সমাজকে কোনপথে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই।

Tom Wesselmann – Contemporary Art
টম ওয়েসেলমেন এর একটা কাজ; নারী অংগ, উষ্ণ রঙ্গে ফ্ল্যাট করে চাপানো। অনেকটা সমকালীন ও নারীকে কামনার বস্তু হিসাবে দেখানো, প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাবাহিককতা।
নগনতাকে শিল্পের মহিমায় পুরুষেরা এনেছেন দক্ষ হাতে, এ গত ৪০০ বছরের ইতিহাস দেখলেই বুঝবেন।

The Odalisque, 1861, Mariano José María Bernardo Fortuny y Marsal; June 11, 1838 – November 21, 1874
মানুষ বিপরীত লিংগের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে, দর্শক অন্তত এটাই ভাবে। কিন্তু একজন মহিলা হয়ে যদি পুরুষের ছবি দক্ষতা দিয়ে আঁকতেন হয়ত অধিক ভাল মনে হত। কিন্তু না, নগ্ন শিল্প বিক্রী হবে, ও মহিলারা নিজেদের শরীর এঁকে বিক্রী করছেন আপনি ভাবতে পারেন।
সৃজন শীল শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির লোক অনেকেই আছেন লাখো লোকের ভিড়ের মধ্যে। তাদের মনের খোরাকের দরকার পড়ে। তাই তারা নতুন ছবি ভাস্কর্য দেখেন , নতুন সাহিত্য পড়েন, নতুন নাটক দেখেন, এই সব নতুনের অধিকাংশই পরে দেখা যায় জঞ্জাল, দু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া। এই দু একটিকে খোঁজের জন্য অগুনতি জিনিস ঘাঁটতে হয়। এর নাম চর্চা। চর্চা না হলে নতুন ভাবনা তৈরি হয়না।
এখানে গত বছর কিছু ভাল ছবির প্রদর্শনী হয়ে গেল শিল্প সমালোচকরা বলছেন। আমার কাছে ও খারাপ লাগেনি। আপনারা একটু মন দিয়ে দেখুন। মন ভাল রাখুন নতুন উৎসাহ পাবেন।

Helen Johnson at Pilar Corrias Gallery
Amedeo Modigliani অনেক নগ্ন ছবি এঁকেছেন কিংবা Egon Schiele অনেক মহিলা নগ্ন ছবি এঁকেছেন, তাদের যেই দক্ষতা ছিল সেই দক্ষতা ও নান্দনিক সৌন্দর্যবোধ কিন্তু মহিলারা তাদের শিল্পকর্মে , সাহিত্যে দেখাতে পারেননি।

Seated Nude, 1917 (oil on canvas) by Modigliani, Amedeo (1884-1920); 114×74 cm; Koninklijk Museum voor Schone Kunsten, Antwerp
এরকম একটা প্রেক্ষিত থেকেই প্রশ্ন উঠে, মহিলারা কি করতে চাইছেন, টাকা রোজগার না শিল্প সৃষ্টি?
এখানকার ছবিগুলি সোফিয়া মিতসোলার, Sofia Mitsola (জন্মঃ ১৯৯২), বর্তমানে লন্ডনে থাকেন এবং কর্মরত আছেন। তিনি ২০১৮ সালে স্ল্যাড স্কুল অফ ফাইন আর্ট, ইউসিএল থেকে স্নাতক হয়েছেন তার সাম্প্রতিক একক প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত আছে: জেরউড সলো প্রেজেন্টেশান ২০১৯, জেরউড স্পেস, লন্ডন (২০১৯)। তার সাম্প্রতিক গ্রুপপ্রদর্শনীতে স্বপ্নের বাঘেরা, 125 চ্যারিিং ক্রস, লন্ডন (২০১৯)। মিটসোলা টিফানি অ্যান্ড কো এক্স আউটসেট স্টুডিওমেকার্স পুরষ্কার (২০১৮) এবং লন্ডনের রয়্যাল একাডেমি অফ ব্রিটিশ ইনস্টিটিউশন স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন (২০১৮)।
দড়িতে, গিঁট না থাকলে, দড়িতে কিছু আটকানো অসম্ভব। জীবনেও গিঁট না থাকলে আপনি কিছু পাবেননা বা রাখতে পারবেননা। সুতরাং গিঁট বুঝতে শিখুন, গিঁট দিতে শিখুন, গিঁট খুলতে শিখুন। আবার গিঁটের অপব্যবহারের ফল কিন্তু আপনার হাতে নাতে। সঠিক ব্যবহারও শিখুন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।