ভারতে, যেহেতু বিবাহকে চুক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয় না, সেইজন্য আপনি কোনও দম্পতি প্রাক-বিবাহের চুক্তিঘটেছিল এমন শুনবেননা।
ভারতে প্রাক-বিবাহ চুক্তি অচল ধারণা বলে মনে হচ্ছে। পাশ্চাত্য দেশগুলিতে যেখানে বিবাহকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চুক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়, ভারতে বিবাহকে নারীপুরুষের আজীবন ধর্মীয় জুটি হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং সুতরাং ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে প্রাক-বিবাহ চুক্তি আইনত বৈধ নয়, তবে কিছু কিছু যা ঘটে তা ভারতীয় চুক্তি আইন, ১৮৭২ ( the Indian Contract Act, 1872) এর অধীনে হয়।
ভারতে একটা মহিলা সুবিধা হল, ভারতীয় বিবাহে বিচ্ছেদ হলে খরপোষ ভরণপোষণের টাকা দিতে হয়। পণ নেওয়া যেমন সুন্দর প্রস্তাব নয় তেমনি খরপোষের বোঝা একজন পুরুষের ঘাড়ে চাপানো তেমনি কুৎসিত। সেদিকে চুক্তি বিবাহ অনেক পরিষ্কার ভাবনা।
প্রাক-বিবাহ চুক্তিতে নারী ও পুরুষের , উভয়েরই যেসব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির প্রকাশ পায় বা বৈবাহিকীতে যুক্ত থাকে তা হল এরকমঃ
– সম্পদ/সম্পত্তি কি আছে এবং কি কি দায়বদ্ধতা থাকবে তার প্রকাশ
– আর্থিক বা আর্থিক অবস্থান
– রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি
– ভাগ করা সম্পত্তি
– সম্পত্তি বিভাজন
– পৃথক সম্পত্তি
– খরপোষ বা রক্ষণাবেক্ষণ
– শিশু্র হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ
– জীবন বীমা, মেডিকেল ইন্সুরেন্স,
– ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা যৌথ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা পরিবারের ব্যয়, বিল ইত্যাদির পরিচালনা
– গহনা, বাগদানের আংটি, মূল্যবান বিবাহের ব্যান্ড, ইত্যাদি আকারে উপহার
প্রাক বিবাহের আগে যে বিষয়গুলি নিয়ে উভয়পক্ষ সচেতন থাকে বা থাকতে হয়ঃ
– প্রাক-বিবাহ যথাযথ, যুক্তিসঙ্গত এবং যথাযথভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত।
– উভয় পক্ষের অ্যাটর্নিদের দ্বারা প্রত্যয়িত হওয়া উচিত।
– উভয় , স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তি এবং দায়বদ্ধতার একটি তালিকা অবশ্যই সংযুক্ত থাকতে হবে।
– একটি ধারাতে উল্লেখ করা আছে যে কোনও নির্দিষ্ট বিধান বাতিল থাকলেও, অন্যান্য বিধানগুলি আইনী এবং বৈধ থাকবে, সেগুলি বাধ্যতামূলকভাবে প্রাক বিবাহেরর আওতাধীন হবে।
– বিবাহ সম্পর্কে উভয় পক্ষই একসাথে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন বিবাহের পরবর্তীকালে/ ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ / প্রজনন, সম্পত্তির বিভাজন এবং দায়বদ্ধতার মতো সম্মত ইস্যুগুলির বিবরণ বিয়ে চুক্তির সময় চুক্তিপত্রে মধ্যে থাকা উচিত।
সমস্ত কিছুর পাশাপাশি ভাল মন্দ বিষয় থাকে প্রাক-বিবাহ চুক্তিতেও ভাল মন্দ আছে, যেমনঃ
প্রাক-বিবাহ চুক্তি হওয়ার সুবিধা হ’ল এটি বিবাহবিচ্ছেদ বা দুজন পৃথক হতে চাইলে (Divorce or Separation) এ ক্ষেত্রে উভয় অংশীদারদের যে দায়বদ্ধতার দায়বদ্ধতা রয়েছে সে সম্পর্কে একটি স্পষ্ট নির্দেশ থাকে।
– বিবাহ থেকে শিশুদের পাশাপাশি নাতি-নাতনিদের অধিকার সংরক্ষণ করা।
-বিচ্ছিন্নতা বা বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সম্পদ ও স্বার্থের সুরক্ষাঃ অন্য স্বামী / স্ত্রীর কেউ যদি অন্য একজনের উপর নির্ভরশীল থাকে চুক্তিতে লেখা সুরক্ষা।
যে স্ত্রীর কোনও ঋণ বা দায়বদ্ধতা নেই, তার থেকে বোঝা মুক্ত করা থেকে রক্ষা করা।
– বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ বা গৃহীত বন্দোবস্তের বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে, স্বামী / স্ত্রীকে আদালতে যেতে এবং আইনি লড়াইয়ের ঝামেলা থেকে রক্ষা
চুক্তি হলেও, ভারতের আদালত চুক্তির অনেক কিছুই অদল বদল করতে পারে। বা পরামর্শ দিতে পারে। এবং চুক্তির অনেক কিছুই অন্য আইনের আওতায় লঙ্ঘন হলে বাতিল হতে পারে।
কোন বাচ্চা বা সন্তান এলে বিবাহ বিচ্ছেদ বা পৃথক হবার সময় আদালত সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশন তুলতে পারে। হেফাজত বা সন্তানের পক্ষে যা কল্যাণকর হবে তা নিয়ে। এছাড়া বিচ্ছেদ বা পৃথক হবার পরও বাড়িতে থাকার অধিকার প্রশ্নে আদালত পরামর্শ দিতে পারে।