সাপ্তাহিক শিল্পকলায় শিল্পের জন্য শিল্প – লিখেছেন অ্যালবার্ট অশোক (পর্ব – ৬১)

একটি ভাস্কর্য ও বিতর্ক

একটা ভাস্কর্য নির্মাণ করেছিলেন স্যাম দুরান্ট। সাদা চামড়ার সাহেব। সেই ভাস্কর্য নিয়ে আমেরিকা তোলপাড়। কেউ শিল্পীকে মারতে চান, কেউ নির্মাণটি পুড়াতে চান। গ্যালারীর কিউরেটরের অলগা ভিসু Olga Viso র চাকরি গেল। মিছিল প্রতিবাদ কতকি। পাঠক নির্মানটি দেখুন আর একটি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুন। ঘটনাটি ২০১৭ র মে মাসের। পোস্টারগুলির ছবিতে কি লেখা আছে পড়ুন। বুঝতে পারবেন কত তপ্ত ঘটনা।
Scaffold / Sam Durant
মাফ চেয়ে নিচ্ছি আগেই। আমি কারুর বাছ বিচার করিনা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি নিয়ে আমার কোন কৌতূহল নেই। কিন্তু সমস্যা নজরে এলে আমি উত্থাপন করি মাত্র। কিছু কমন ফ্যাক্টর খুঁজি যাতে বিষয়টা চিহ্নিত করতে সুবিধা হয়। সমস্যার কোথায় শুরু আর তার সমাধানের জন্য মহান পন্ডিত ও কর্তৃপক্ষ আছেন, রাস্ট্র আছে। রাস্ট্রপুঞ্জ আছে। আছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বহুকাল হল ভাসমান মহাদেশগুলি অনেক দূরত্বে চলে গেছে। ফলে ভূগোল পালটে গেছে। আবার ঘটনাচক্রে এই পৃথিবীর সম্পদ ফুরাবার আগে যদি মহাদেশগুলি যদি কাছে আসে, হয়ত মানুষের জীবনও পাল্টাতে পারে।
আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, মানুষের শরীরের রঙ যত গাঢ় ও কালো হয়ে এসেছে, যেসব মহাদেশে, রাস্ট্রে, সেখানে মানুষের সমস্যা বেশী, অনুন্নত মানুষের জীবন। আপনার কোন যুক্তি আছে আমার এই মন্থব্যের? এমনকি, ফর্সা চামড়ার দেশেও যেখানে যার গায়ের রঙ চাপা সেখানে তার জীবনও চাপা। কালো বা বাদামী মানুষের সমস্যা বেশী, তারা অতি দুর্বল হয় মানসিক বোধ বুদ্ধিতে। ফলে সমস্যার সৃষ্টির কেন্দ্রে থাকে। আর তারা ঝামেলা পাকায় বেশী, সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক। তারা অনগ্রসর জাতি। কিছু কিছু ব্যক্তি মানুষ বা গোষ্ঠি ব্যতিক্রমও দেখেছি। আমি যে পয়েন্টগুলি আমার পর্যবেক্ষণ হিসাবে রাখছি তা হলোঃ
১। বিবর্তনের প্রথম মানবীকে পন্ডিতরা বলছেন আফ্রিকার থেকে উদ্ভব। মানে মানুষ জাতির বংশ নিগ্রোয়েড থেকে এসেছে। তার মানে কালো বর্ণ, কোঁকরানো চুল ইত্যাদি ইত্যাদি। এই কালো মানুষের শারিরীক শক্তি, সহ্য ক্ষমতা অনেক। কিন্তু দেখুন, আফ্রিকার ভুখন্ডের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবন বাকী সবগুলি মহাদেশের থেকে খারাপতম। ওয়ার্ল্ডব্যাঙ্কের ১০০টি দেশ ও কর্পোরেশনের ৩৩ টির মধ্যে আফ্রিকার গোটা ৫০টি দেশের কেউ নেই। এমনকি আফ্রিকার শরীর ছুঁইয়ে আছে সৌদি আরবিয়ার র্যাঙ্ক ৩৩, ভারতের ২৪। যে দেশের টাকা নেই, সে দেশের অবস্থা খারাপ। সম্পত্তি সব দেশেই আছে। কিন্তু তার কেন্দ্রীভূত করণ যদি রাজা, মাফিয়া, প্রশাসন, ও কিছু ব্যক্তির মধ্যেই সীমিত থাকে। সবার মধ্যে ছড়ানো না থাকে বা সেই দেশে যদি নাগরিকরা বিত্ত থেকে শোষিত হয় বুঝতে হবে কিছু সমস্যা, অচেতনতা, দুর্বলতা আছে। আফ্রিকার থেকে যদি মানুষের বিকাশ বা বুদ্ধির বিকাশধারীদের উৎপত্তিস্থল ভাবি তাহলে আফ্রিকার তো সবচেয়ে উন্নত জাতি হয়ে থাকার কথা।
২। পৃথিবীতে যত কলহ, বো্মা বিস্ফোরণ, আতঙ্কবাদ, অবিচার, অভিযোগ ইত্যাদির অধিক ঘটে কালো রঙ ও বাদামী রঙের মানুষের দ্বারা, ও তাদের বসবাস চিহ্নিত স্থানগুলিতে, দেশগুলিতে। আর অধিক কালো মানুষের বিশ্বাস ধর্মে ও ঈশ্বরে, তারা রাজনীতির মূল অস্ত্র হিসাবে দেখে ধর্মকে। ধর্মকে ব্যবহার করে অশান্তি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর ‘বোকোহারাম’ মানে পূস্তক হল নষ্টের মূল; এই কথা ছড়িয়ে মানুষকে অচেতন ও অশিক্ষিত করে রাখার চেষ্টা করছে। বলি হচ্ছে শিশুকন্যা, তরুণী, ও অল্পবয়েসী মহিলারা তুলনায় বেশী ক্ষতিগ্রস্থ।
ককাসিয়ান Caucasian রা মূলতঃ ইউরোপ আমেরিকায় ছড়িয়ে থাকা সাহেবরা- এত দাঙ্গাবাজি ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর করতে দেখছিনা। তারা নিজেদের শিক্ষাদীক্ষা বাড়িয়ে নিজেদের সুখ শান্তি নিয়েই ব্যস্ত। এখন তাদের দেখে ঈর্ষায় কালো ও বাদামী মানুষগুলো ইউরোপ আমেরিকায় আশ্রয় খুঁজছে। নিজের দেশের উন্নতি ভাবছেনা। নিজের দেশের অচলায়তন সারানোর চিন্তা করছেনা। নিজের দেশের মাফিয়া ও অসভ্যদের, বর্বরদের, প্রশাসকদের টাকার পাহাড় , সম্পত্তির পাহাড় ভাঙ্গতে পারছেনা। আর এই আশ্রিতদের মধ্য দিয়েই ছদ্মবেশে আতঙ্কবাদ ইউরোপ আমেরিকায় পৌছে যাচ্ছে, মানুষ হত্যাকান্ড বাধাচ্ছে।
ব্যতিক্রম অনেক আছে। বিজ্ঞানী বা নৃতত্ববিদ্দের ভাবা দরকার; মহাদেশ ও রাস্ট্রগুলির মধ্যকার পিছিয়ে পড়ার কারণ সব। একসময় তো ধর্ম ছিলনা, ঈশ্বর ছিলনা। এত সমস্যাও ছিলনা। গত ১৬০০ থেকে ২০০০ বছরের মধ্যে মানুষগুলি তার পিছনের ইতিহাস ভুলে গেল? না, তরোয়ালের জোর ভুলিয়ে দিয়েছে? ভয়ে মুখে কুলুপ তুলেছে? ইতিহাস খুলে দেখুন। যেদিন আবার ধর্ম ও ঈশ্বরের মাথায় পা দিয়ে মানুষ দাঁড়াতে পারবে সেদিন কালো মানুষগুলো আবার ঘুরে দাড়াতে পারবে। মাথা তুলে দাড়াতে পারবে। কিন্তু তারা উগ্র জাতীয়তাবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, ও ধর্মের আফিম থেকে মুক্তি পেতে আরো কয়েক হাজার বছর লাগবে।
শিল্পী সাহিত্যিকরা তাদের ভাবনা যখন প্রকাশ করে, তখন চুলকানি উঠে যারা মধ্যযুগে বাস করে, যারা ধর্মের ষাঁড়ের দালাল, যারা ধান্ধাবাজ, এরমধ্যে শিক্ষিত রাজনীতির লোকেরাও আছে। পৃথিবীর অনেক নির্মাণ, যা সভ্যতাকে নতুন ভাবনা পথ দেখাতে পারত সব এই কালো ও বাদামী মানুষের দেশেই ধ্বংস হয়েছে। সব লোক নয়, কালো লোকেদের একটা এক তৃতীয়াংশ এবং ক্ষমতাশালীরাই ধ্বংস কান্ড ঘটিয়েছে। দুই তৃতীয়াংশ ভেড়ার মত দেখে ভয় পেয়ে ঘরে চলে যায়। ভারতে তথা, এশিয়া ও আফ্রিকায় বহু সাহিত্য, শিল্প, নির্মাণ নষ্ট হয়ে গেছে। বহু মানুষ নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে জীবন খুইয়েছেন। কষ্ট পেয়েছেন। এবং ইউরোপ আমেরিকায় আতঙ্কবাদীরাই এসব করে ও যা হয় তার একটা বড় অংশ কালো মানুষের তড়পানিতেই হয়। ইতিহাস দেখুন। ইউনাইটেড নেশন আবার বলে দিয়েছে জাতি বর্ণ, ধর্ম নিয়ে কথা না বলতে।
ইউনাইটেড নেশন পৃথিবীর সকম মানুষের জন্মগত অধিকার হিসাবে ৩০টি অনুচ্ছেদ প্রকাশ করেছে, তার মধ্য ১৯ নং হিউম্যান রাইটসে র অনুচ্ছেদে ১০০ভাগ অভিব্যক্তির স্বাধীনতার কথা বলছে। আবার পিছনে ২৫টি বিষয়ে আপনি নিজের মত প্রকাশ করতে পারবেননা সব রাস্ট্রগুলিই বলে । তার মানে কি দাড়াল? ১০০ভাগ স্বাধীনতা কারুর নেই। প্রত্যেকদেশ এই ২৫টি বিষয় তার মত করে তার সংবিধানে রেখে দিয়েছে। আর আপনার বাক্ স্বাধীনতার জন্য জেলের দরজা খুলে রেখেছে। ইউনাইটেড নেশনের অফিসের কিছু করার ক্ষমতা নেই। কারন ভন্ড দেশগুলি সেখানে ভোটের অধিকারী ও বিরোধচারী। তারা মানবিকতা মানেনা। তর্ক তোলে দেয়। জাতিও ধর্ম সমর্থন কারী দেশগুলি ছদ্মবেশে আতঙ্কবাদ সমর্থন করে।বামপন্থীরাও আতঙ্কবাদ ও বিচ্ছিন্নবাদে সমর্থন দেয়। বিতর্ক তুলে ভাল কাজ থামিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ সত্যি অসহায়। এশিয়া আফ্রিকার দেশগুলিতে অশিক্ষা, আর মাফিয়া রাজ- চলতি সরকারের সাথে প্রশাসনের সাথে গাঁটছড়া বেধে, অংশভাগ করে রাজত্ব করে। এই দৃশ্য ইউরোপ আমেরিকায় অনেক কম। কারণ তাদের দরকার টা কম।
স্থানীয় আমেরিকার একটা আদিবাসী গোষ্ঠি যাদের (Sioux) সুউ বলে তারা ডাকোটায় থাকত, দক্ষিন পশ্চিম মিনিসোটা র কাছে মিনিসোটা নদীর পার অন্য জায়গা থেকে কিছু রিফিউজি সাদা চামড়ার লোক এসে বসবাস করছিল। আমেরিকার সরকার ডাকোটার স্থানীয় আদিবাসী লোকেদের সাথে কিছু ভাতা দেওয়ার চুক্তি ছিল, যে, সাদা চামড়ার লোক এখানে থাকলে টাকা আর নানা জিনিস দিতে হবে। সেই ভাতা হয় দেরিতে পৌছুত বা চুক্তি ভঙ্গ হয়েছি ডাকোটার ইন্ডিয়ান আদিবাসী যাদের সুউ বলা হত, তাদের ভাষার নামও সুউ ছিল। ১৮৫০ সালে এই চুক্তি ১৮৬২ সালে ( Native American peoples, comprising the Lakota, the Santee, the Yankton, and the Yanktonai, inhabiting the northern Great Plains from Minnesota to eastern Montana and from southern Saskatchewan to Nebraska. Present-day Sioux populations are located mainly in North and South Dakota, Minnesota, Montana, and Nebraska.) ডাকোটার লোকেদের সাথে রিফিউজিদের দারুন সংঘর্ষ হয় তাতে ডাকোটার লোকেরা, আদিবাসী গোষ্ঠিগুলি রিফিউজিদের সাদা চামড়ার প্রায় হাজার লোককে মেরে ফেলে। রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা হয়। আব্রাহাম লিঙ্কন তার ২য় বছরের ভাষনে বলেন ৮০০ মরেছে। আসলে বেসরকারি মতে অনেক। তখন আমেরিকার সৈন্যরা প্রতিশোধমূলক বদলা নেয়, ডাকোটার আদিবাসী গোষ্ঠিগুলি সাদা চামড়ার লোকদের তাদের এলাকায় ঢুকতেই দেবেনা। ফলে আমেরিকার সৈন্যরা কড়া হাতে দমন করে সুউ দের. আব্রাহাম লিঙ্কন সেনা পাঠিয়ে ১৮৬২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব ঠান্ডা করে দেয়। এই আক্রমন ও রেইড Raid ডাকোটার আমেরিকান ইন্ডিয়ান দের উপর এত নিষ্ঠুর ভাবে হয়েছিল তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবেনা। নারী শিশু কেউ বাদ যায়নি। এক চীফ বা সর্দারের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিল, জন্মদেওয়ার সময় এগিয়েছিল। তার পেট কেটে জীবন্ত বাচ্চাকে পেরেক পুঁতে দিয়েছিল – এরকম বীভৎস অত্যাচার ও ৩৮জন ডাকোটার গোষ্ঠির আদিবাসীকে ফাঁসীতে চড়ানো হয়েছিল। পরবর্তী কালে লেখকরা এই গৃহযুদ্ধের সত্যিমিথ্যা ভয়ঙ্কর বর্ণনা করেছেন। আজ প্রায় দেড়শ বছর পর সেই ঘটনার কোন জীবন্ত ব্যক্তি নেই যে সত্যি ঘটনার সাক্ষী। এখানে রঙ বা গায়ের বর্ণ, ও জাতি দাঙ্গা নামেই ইতিহাসে উঠেছে। কালোরা সাদা চামড়া দেখলে কেউ তার কাছে উপহার চায় আবার কেউ সাদাকে হিংসা করে ।
স্যাম দুরান্ট Sam Durant। একজন আমেরিকান ভাস্কর। তিনি ২০১২ সালে একটি ভাস্কর্য বানান। নাম দেন Scaffold (2012) স্ক্যাফোল্ড। আসলে শিল্পী একটা মঞ্চ বানান।ইতিহাস থেকে কনসেপ্ট নিয়ে। কাঠের পাটাতন বানিয়ে। সেখানে ফাঁসী দেওয়ার মত ব্যবস্থার অনুকরণে, সম্ভবতঃ আমেরিকায় আগে যেভাবে ফাঁসীতে চড়ানো হত অনেকটা ঠিক সেইভাবে, ডাকোটার দেড়শ বছর আগেকার ঘটনা স্মরণ করে নির্মাণটি করেন, ওয়াকার আর্ট সেন্টারের বাগানে। মিনিসোটাতে। এই ভাস্কর্য নির্মান টি ইউরোপে আগে প্রদর্শিতও হয়েছিল।
কিন্তু ডাকোটার স্থানীয় ইন্ডিয়ানরা এই ভাস্কর্য দেখে অন্যভাবে বিশ্লেষণ করেন। তারা বলতে চান ডাকোটার ঐ ফাঁসীগুলির প্রতি মানে যারা ১৮৬২ সালে, যারা সেদিন মারা গেছিলেন ডাকোটার স্থানীয় চীফরা/ সর্দাররা তাদের প্রতি অসম্মান করানো হচ্ছে। প্রথমে মিছিল তারপর মিডিয়া প্রচার অবশেষে দাঙ্গা বাঁধার উপক্রম। নানা পত্র পত্রিকায় ছড়িয়ে পড়ল। সরকার, প্রশাসন, গ্যালারী, আর্টিস্ট ও ডাকোটার প্রতিনিধিদের সাথে ৩ ঘন্টা বৈঠক করে স্থির হল এই ফাঁসীর মঞ্চ ভেঙ্গে পুড়িয়ে ফেলা হবে, উপস্থিত থাকবেন ডাকোটার আদিবাসীদের স্থানীয় বয়স্করা। শিল্পী একটা লিখিত বার্তা ও ক্ষমা চানঃ (পড়ুন নীচে ক্ষমার বয়ান)
ঠ আমি আমার ভাস্কর্য নিয়ে বক্তব্য পেশ করছি, কারণ এটা সাম্প্রতিক কালে প্রতিবাদের একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, অথচ যখন আমি ২০১২ সালে ইউরোপে প্রথম প্রদর্শন করেছিলাম অতটা ভাবিনি।
স্ক্যাফোল্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার জাতিগত মাত্রার কঠিন ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়, যার মধ্যে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা, পুড়িয়ে মেরে ফেলা থেকে গণ কারাবাস থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত। আমার উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় গুরুত্বের এই সমস্যাযুক্ত এবং জটিল ইতিহাসগুলিকে সামনে আনার কিন্তু বেদনা বা যন্ত্রণার কারণ তৈরি করা নয়, তবে এই গল্প এবং প্রান্তিক marginalization জনগণের সমর্থনে কথা বলা এবং তাদের তাত্পর্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
আমার ভাস্কর্য স্ক্যাফোল্ড আজকের এই সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা এবং অতীতের অনুরণনকে তুলে ধরার চেষ্টা করে, বিশেষ করে এমন একটি সময়ে যখন ক্রমাগত প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ, এবং চলতি অমানবিককরণ এবং বর্ণের লোকদের ভয় দেখানো।
স্ক্যাফোল্ড আজকের এই আখ্যানগুলির সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা এবং অনুরণনকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করে, বিশেষ করে এমন একটি সময়ে যখন ক্রমাগত প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ, এবং চলমান অমানবিককরণ এবং বর্ণময় মানুষদের people of color ভয় দেখানো চলছে। ভারা বা মঞ্চ (Scaffold) স্মারক বা স্মৃতিস্তম্ভ নয়, এবং প্রচলিত ধারণা এবং আদর্শ ইতিহাসএর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।
এটি অতীত ভুলে যাওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে। এর মাধ্যমে,স্ক্যাফোল্ডের জন্য আমার আশা খোলা আলাপ আলোচনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রস্তাব করা এবং ভাবনা বিনিময় করা,শুধুমাত্র আমাদের অতীত নয়, আমরা একসাথে যে ভবিষ্যত গঠন করি তা নিয়ে প্রশ্ন করার জায়গা হবে।
আমি স্ক্যাফোল্ডকে আমার মতো লোকেদের জন্য শেখার জায়গা হিসাবে তৈরি করেছি, সাদা মানুষ যারা সাদা আধিপত্যবাদী white supremacist সমাজের প্রভাব ভোগ করেনি এবং যারা সচেতনভাবে জানে না যে আধিপত্যবাদ বিদ্যমান। এটা আমার বিশ্বাস হয়েছে যে শ্বেতাঙ্গ শিল্পীদের সাদা আধিপত্য এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশের সমস্যাগুলি সমাধান করতে হবে। শ্বেতাঙ্গরা জাতি/বর্ণবৈষম্য ধারণাটি তৈরি করেছে এবং শতাব্দী ধরে আধিপত্য বজায় রাখতে এটি ব্যবহার করেছে, শ্বেতাঙ্গদের অবশ্যই এর ধ্বংসের জন্য কাজ করতে হবে। যাইহোক, আপনাদের প্রতিবাদ আমাকে দেখিয়েছে যে আমি একটি গুরুতর ভুল গণনা করেছি যে কীভাবে আমার কাজ একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দেখে। একজন শ্বেতাঙ্গ শিল্পী হিসাবে আমার অবস্থানের উপর ফোকাস করে সেই শ্রোতাদের জন্য কাজ করে আমি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি যে ভাস্কর্যে ডাকোটা ৩৮(Dakota 38) এর অন্তর্ভুক্তি ডাকোটা জনগণের জন্য কী বোঝাতে পারে। আমি আমার চিন্তাহীনতার জন্য আমার গভীরতম ক্ষমাপ্রার্থী। মানকাটোর কাছাকাছি ওয়াকার আর্ট সেন্টারে (Art Center in proximity to Mankato.)ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হবে তা জানতাম সেই মুহূর্তে আমার ডাকোটা সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানো উচিত ছিল৷
আমার কাজটি শ্বেতাঙ্গদের জন্য অস্বস্তির একটি অঞ্চল তৈরি করার ধারণা নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, আপনাদের প্রতিবাদ এখন আমার জন্য অস্বস্তির একটি অঞ্চল তৈরি করেছে। সচেতনতা বাড়াতে আমার প্রয়াসে আমি গভীর কিছু শিখেছি এবং এর জন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এটি কি আমাদের সকলের জন্য, ওয়াকার, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পী এবং বৃহত্তর সমাজের জন্য একটি শেখার অভিজ্ঞতা হতে পারে? আমি উন্মুক্ত এবং আপনার সাথে একসাথে কাজ করতে প্রস্তুত।
এই মঞ্চ তিনি আর কোথাও বানাবেননা।
ভারতেও অনেক ঘটনা মানুষের বিস্মরণে চলে যাচ্ছে। কিন্তু তা নিয়ে কেউ কাজ করতে চাইলে নানা শ্রেণির লোক সাথে রাজনীতি ও মাফিয়া যোগ হয়ে সেই কাজ করতে দেওয়া হয়না। পদ্মাবতী সম্প্রতি একটি উদাহরন।
রাজনীতির শয়তান ও মাফিয়ারা কোন কথা বোঝেনা। ক্ষমতা আর শয়তানির জোরে ভয় দেখিয়ে বটগাছকে আমগাছ বানিয়ে দেবে। তারা শিক্ষা সংস্কৃতির ধার ধারেনা। তাদের মর্জি হল সব। আর এসব হয় এশিয়া আর আফ্রিকা ও যেখানে কালো ও চাপা অন্ধকার থাকে।
