বিবাহ। একটা অপরিহার্য কর্ম এই বিবাহ শব্দে যুক্ত। যৌনমিলন। আচার অনুষ্ঠান যত রকমই হোক, যৌনমিলন তার কেন্দ্রীভূত কেন্দ্র। যৌনমিলন বিবাহ ছাড়াও হয়। তখন তাতে বংশধর কাম্য নয়। অর্থাৎ নারী পুরুষের যৌনমিলন হবে কিন্তু তাতে বংশবিস্তার হবেনা। এইরকম জীবন ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, গোষ্ঠিভিত্তিক দেখা যায়। নারীকে দু’রকমভাবে দেখা হয়; একটা হল নারী-বস্তু, পণ্য, যাকে পয়সার বিনিময়ে সাময়িক বা যতদিন জীবিত পাওয়া যায়। আরেকটা হল নারী মানুষ। ঠিক যেমন ভাবে পুরুষকেও দুভাবে দেখা হয়, একটা ক্রীতদাস (বস্তু), আরেকটা স্বাধীন মানুষ। সুতরাং, নারী বস্তু বলে স্পর্শকাতরতা দেখাবার কোন স্থান নেই। বরং পুরুষ ক্রীতদাস হলে কি করুণ অবস্থা হয়, তা ইতিহাস দেখেছে। আপনি ক্রীতদাস প্রথা অধ্যায় বিশ্ব ইতিহাসে খুললেই দেখতে পাবেন।
আগেকার দিনে সারা বিশ্বেই, রাজা জমিদার বর্গের খুশীর উৎস নারীর যোনি ও স্তন, এই কারণে হাজার হাজার নারী উপহার হিসাবে এক রাজা অন্য রাজাকে দিত, যাতে তার রাজ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে।
গোষ্ঠিগত লুটপাটে, দস্যু বা শক্তিশালী নেতারা, সৈন্যরা অল্পবয়েসি নারীকে তুলে নিয়ে যেত যোনি সুখের জন্য।
সামাজিক ভাবে, স্ত্রী যৌনসুখ না দিতে পারলে ( মহিলারা যৌনসুখ দিতে পারেনা ৫০ বছ্রের কাছে এলেই, কারন তা জৈবিক, তাদের যোনি শুকিয়ে আসে, তখন স্বামীর অবস্থা করুন। পুরুষরা প্রায় ৭৫ বছর অবধি তার পুরুষাংগ সক্রিয় রাখতে পারে।)তখন গোপনে বেশ্যা বাড়ি জাতীয় স্থানে যাতায়াত করে।
রাজনৈতিকভাবে, গুপ্তচরবৃত্তির জন্য, কারুর চরিত্র পরীক্ষা বা স্থলনের জন্য, বা কোন পদউন্নতির জন্য, বা জনসাধারণের কাছে গ্রাহ্য করার জন্য ( সহকারী) বিশেষ লেনদেনের জন্য মহিলা যৌনবস্তু হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় ভয়াবহ ধারণ করে।
ধর্মীয়ভাবে যাদু , তন্ত্রমন্ত্রে, দেবালয়ে সারা বিশ্ব জুড়েই যোনির চাহিদা রয়েছে। এসব কোন অপমানকর বিষয় নয়। কেউ অপমানকর বিষয় হিসাবে দেখতেই পারেন। কিন্তু বাস্তব ও স্থান, কাল পাত্রপাত্রী এসবের ভিত্তিতে নারীকে বস্তু হিসাবে দেখা বা পুরুষকে ক্রীতদাসের মত দেখা মোটেই আপত্তিকর নয় বা বিকল্পহীন।
যেমন ধরুন বৈষ্ণব বৈষ্ণবী। সারা পৃথিবীর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষকে বাঁচতে দেয়না। দারিদ্রতা এমনই এক পরিস্থিতি, দু’বেলা পেটে দেবার জন্য একজন পুরুষকে অন্য মানুষের গোলাম হয়ে থাকতে হয় বা কিছু সমাজ গর্হিত কাজে জড়িয়ে গেলে জেলে থাকতে হয়। এবং লম্বা সময়ের জন্য। মহিলাদের যোনির মালিক হবার সুবাদে, তারা জেলে গেলেও খুব অল্পসময়ের জন্য যায়। সারা পৃথিবীতে কমবেশী ৯০ শতাংশ পুরুষ জেলে পচে মরে, কারণ তার একটা পুরুষাংগ আছে। যেমন ভারতের জেলে ৯৬ শতাংশ পুরুষ, আর ৪ শতাংশ মহিলা জেলে। এই জেলে যাবার সুবাদে পুরুষের পরিবার, ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ছেলে মেয়েকে মহিলা মানুষ করতে পারেনা। ছেলে মেয়ে তখন নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বা ছেলে মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক/ ১৮ এর কাছে এলে নিজেরাই নিজেদের পেট চালায়, আর মহিলা কারুর (অন্যকোন পুরুষের) সাথে জড়িয়ে পড়ে। সংসারের মায়া ত্যাগ করে ঈশ্বরের নামে ভিক্ষা ও পুরুষ নিরাপত্তায় চলে আসে।
আর তন্ত্র হলঃ ভারতীয় তন্ত্রে গুরু শিষ্যের যে নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরম্পরা রয়েছে, সেখানে যৌনাচারের কথা শোনা যায়। বিশেষত কৃষ্ণের সঙ্গে গোপীদের যে কামার্ত প্রণয়ের কথা প্রচলিত, সেখানে যৌন সম্পর্ক থাকতে পারে। তন্ত্রের একটা দিক হল ( এর অনেক দিক ও জটিল ব্যাখ্যা আছে) মানুষের খাদ্যের শরীরের , কামনা ও বাসনার মুক্তি দিয়ে আধ্যাত্মিক দিকে চলা। এই খাদ্যের শরীর হল পেটে ও তলপেটের খাবার বাসনা যার নাম প্রণয় আসক্তি। আধ্যাত্মিক উত্তরণের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন সদ্গুরুর ভিন্ন মতামতের একটা হল, “তন্ত্র যোগের সহজ নীতি হল – যে সমস্ত উপকরণ জীবনকে নিম্নগামী করে, সেগুলিকে প্রয়োগ করেই জীবনের উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। সাধারণ ভাবে বিবেচনাহীন খাওয়া, মদ্যপান ও যৌনতা – এই তিনটিই মানবজীবনকে নীচে নামিয়ে দেয়। তন্ত্র যোগের ক্রিয়ায় ওই তিনটি উপকরণই জীবনের উত্তরণ ঘটানোর লক্ষ্যে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ যৌনাচারের মাধ্যমে যেখানে নিম্নগামী শক্তির প্রকাশ হয়, তন্ত্রের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চারণ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ মাত্রাকে সক্রিয় করা হয় ও সেই উচ্চতম স্তর থেকেই শক্তির বিকিরণ হয়। মানব দেহের ১১৪টি চক্রের মধ্যে তিনটি শীর্ষ চক্রকেই শক্তি সঞ্চারণ প্রক্রিয়ার উচ্চতম স্তর বলে ধরা হয়। ওই উচ্চতম স্তরের সান্নিধ্যে আসার জন্য যৌনাকাঙ্ক্ষা, আবেগ, বাহ্য বুদ্ধিবৃত্তি, জীবনধারণের প্রবৃত্তিকে শক্তির উত্তরণ ঘটানোর লক্ষ্যে ব্যবহার করা প্রয়োজন।এই প্রবৃত্তিগুলিকে কেন্দ্র করে যাবতীয় কাজকর্মের জন্য ব্যবহৃত শক্তিকে ওই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে স্থাপন করাটাই হল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এক্ষেত্রে শারীরিক যৌন আচরণের মধ্যে পড়ে গেলে শক্তির উত্তরণ ও তার মূল লক্ষ্যটিই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।“
তো এরকম অনেক ভাবনায় যোনি ও পুরুষাংগ আটকে পড়ে। এছাড়া যোনি অস্পৃশ্যতাও আছে, মানে নারী বর্জিত জীবন।
মানুষ হিসাবে বিবর্তন বেশি দিনের নয়, জোর ৪০/৫০ হাজার বছর হবে। নারীকে ঘিরে গোষ্ঠি। নারীর যোনির অধিকার নারীর ছিল। সে কার সাথে যৌনমিলন ঘটাবে এটা একমাত্র তারই সিদ্ধান্ত ছিল। খাদ্য ছিল সংকটে। পশু শিকার ও ফলমূল পুরুষকেই করতে হত। যে পুরুষ নারীকে খাদ্য দিত সে ছিল নারীর বিচারে সেরা, নারী তাকেই যৌনসংগমের জন্য নির্বাচন করত। এ নিয়ে পুরুষদের ক্ষমতার লড়াই, ও খুনোখুনি হত্যা ছিল। পশু ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য অনেক দূর পুরুষকে যেতে হত, অন্য পুরুষ সেই সুযোগে নারীকে ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে পালিয়ে যেত ও যৌন সংগম করত। এসব পুরুষদের মধ্যে শত্রুতা ও অন্য গোষ্ঠি সৃষ্টি করত। ফলে এক শ্রেণী মনে করত, নারীই অশান্তির কারণ। নারী বর্জিত জীবন অনেক শান্তির। তারা নারী থেকে দূরে থাকত। পৌরাণিক কাহিনীগুলিতে এসব অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। যিশুখ্রীষ্ট নিজে বিয়ে করেননি। ফলে তার অনুগামীরা আগেকার দিনে বিয়ে করতনা (যাজক শ্রেণী)। ব্রহ্মচর্য জীবন।
নারীর যোনির জন্য লড়াই (The Invader By Leon Maxime Faivre)