Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ২৯)
বিবাহঃ নারী পুরুষের যৌনমিলনের অনুমতি? – ২১
Cassey from the United States,a 56-year-old successful businesswoman (Image: OWN)
ক্যাসি, আমেরিকায় থাকেন, ব্যবসায়ী মহিলা, এক টিভি শোতে এসেছেন, বিষয় হল তার বিয়ে টিকছিলনা ও তিনি সম্পর্ক কোথায় খারাপ হয়, তা বলতে। ক্যাসি ১০ বার বিয়ে করেছেন, সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক ছিল ৮ বছরের, আর সবচেয়ে কম সময়ের বিবাহিত জীবন ছিল ৬ মাসের। তিনি এখনো তার স্বপ্নের স্বামী খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মানে ১১ নম্বরের।
আমাদের কারুর কারুর কাছে খারাপ লাগতে পারে, যে একজন মহিলা ১০ বার বিয়ে করেছেন ৫৬ বছরে এসেও আবার বিয়ের পাত্রের সন্ধান করছেন।
বিয়েতে মানুষ শুধু যৌনসুখই চাহিদা করেনা, আরো অনেক কিছু চাহিদা থাকে। এই চাহিদার শেষ নেই।যেমন ধরুন, বিশ্বস্ত থাকা, সংগ দেওয়া, ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ তৈরি করা, দাসত্ব করা,খাওয়া পরার নিশ্চয়তা দেওয়া, আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর সুখগুলি যোগান দেওয়া। ইত্যাদি অনেক কিছুই। প্রকৃতি হিসাবে মহিলাদের একরকম আর পুরুষের অন্য রকম।বাস্তবে দুজন দুরকম ও কেউ কারুরটা বুঝতে ইচ্ছুক নয়। ছেলেদের কাছে, একটি মেয়ের প্রয়োজন শুধু যৌন সুখের জন্য। তার আর কোন গুরুত্বপূর্ণ দাবি নেই। এটা তার প্রাথমিক চাহিদা। ২য় অবস্থানে একজন পুরুষ চায় তার অবর্তমানে তার সমস্ত কিছু দেখভাল করা, ও তার হুকুম পালন করা। অন্যদিকে মহিলারা বিলাসী ও বস্তুলোভী, তারা চায় একজন পুরুষ সমস্তক্ষণ তার সাথে ছিনালীপনা আর গল্প/ মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তাকে খুশী রাখা, তার চাহিদার বস্তুটি তাকে উপহার দেওয়া। যে তার এইসব চাহিদা মেটায় তার সাথে সে যৌন সুখ করা। মহিলারা একজন পুরুষকে তার চাকর বানিয়ে রাখতে ভালবাসে। এতে তারা নিজেদের বীরত্ব খুঁজে পায়। সে আশা করে পুরুষ রোজগার করে এনে সকল কিছু মহিলার হাতে তুলে দেবে, এবং মহিলা পুরুষটিকে শাসন করবে।
এই দুরকম বোঝাপড়া ব্যবস্থায় নারী পুরুষ মিল খায়না।
সমাজে যে রোজগার করে সে তার অর্জিত ধন অন্যকে কেন দেবে? তার ধন কিভাবে খরচ করবে সম্পূর্ণ তার ইচ্ছা। এবং প্রতিটি ঘরে যিনি রুটি রোজগার করেন তিনি গৃহ কর্তা হন। তিনি মহিলা হলেও গৃহ কর্তা এবং তাকে সবাই মান্যতা দেয় ও সমীহ করে চলে। পরিবার একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মে চলে। প্রতিষ্ঠানে যেমন নানা পদ মর্যাদা থাকে, তেমন ঘরেও থাকে। একজন কর্তা ব্যক্তি, তার অধস্তন তার স্ত্রী, তার অধস্তন তাদের ছেলেমেয়েরা, যে সন্তান বড় তার অধস্তন ছোটজন এমন। এই ধাপগুলি না মানলে সংসারে অশান্তি আসে।
উপরে ক্যাসির ১০টি স্বামীর মত সারা পৃথিবীতেই বহু মহিলা বহু বিয়ে করেছেন। সমস্যা হয় ঘরের মহিলা রোজগেরে হলে তিনি স্বামীর ভূমিকাতে চলে আসেন, আর তার স্বামী স্ত্রীর ভূমিকাতে চলে আসে। মানসিকভাবে পুরুষ এটা মানতে চায়না।
মহিলারা, বাস্তবে, পুরুষের সমকক্ষ হয়না। আপনি আজ অবধি দেখাতে পারবেননা, একজন মহিলা শূন্য থেকে শিল্প পতি হয়েছে, বিশাল কর্পোরেট হাউস বানিয়েছে।
মহিলা হয়ে জন্মাবার সুবাদে, সারা পৃথিবীতে মহিলারা নানা উৎস পায় অর্জন না করে। যেমন ধরুন সংরক্ষন একটা সিস্টেম।একটা শিক্ষিত ও যোগ্য পুরুষ যেখানে একটি কোম্পানীর পরিচালক পদে নিযুক্ত হন নানা পরীক্ষা দিয়ে, সেখানে একজন মহিলা অনায়াসে সংরক্ষণ কোটায় পরিচালক হয়ে যান।
এবং তিনি পরিচালক হয়ে যে একজন পুরুষের মত দক্ষতা দেখিয়েছেন এমন নজির একদম বিরল। হয়ত দেখা গেল মহিলা যোগ্য না হয়ে একটা বড় চাকরি করে মাসে মাসে অনেক টাকা রোজগার করছে, আর তার স্বামী অতি বিদ্বান হয়েও একটা চাকরি জোটাতে পারছেনা। তাকে তার ঘরে স্ত্রীর কাছে গালি শুনতে হচ্ছে অকর্মন্য হিসাবে। অযোগ্য হিসাবে।
পুরুষকে একটা সুযোগ কিনতে হয় টাকা দিয়ে। যা পুরুষের কাছে এই বেকার অবস্থায় সম্ভব নয়। মহিলারা সেই সুযোগ অনায়াসে পায় তার শরীরের বিনিময়ে। অফিসের প্রমোশন থেকে শুরু করে, গ্ল্যামার জগতে, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী উপার্জনে সর্বত্র মহিলারা শরীর দিয়ে অর্জন করে। এসব তথ্য পত্র পত্রিকায় প্রচুর দেখা যায়।
ফলে পুরুষটি জানে মহিলা কিভাবে অর্জন করে সুনাম যশ,চাকরি ও টাকা।যেটা পুরুষ পারেনা।
একজন সাধারণ মহিলা এক জমিদ্রের সাথে প্রেম করে বিয়ে করে জমিদারের অর্ধেক সম্পত্তির ভাগীদার হয়ে যায়। এরপর বিচ্ছেদ হলে সে অর্ধেক সম্পত্তি নিয়ে জমিদারকে ভিখারী বানিয়ে চলে আসে। এই সিস্টেমগুলি পুরুষকে কুপিত করে। এবং অশান্তির বাতাবরণ করে।

Jeff Bezos and MacKenzie Scott The Amazon founder’s divorce reportedly cost him US$38 billion