নরনারীর যৌনপরিষেবা-২৮ পর্ব ৩৫
আত্মজ উপাধ্যায়
৭ই আগস্ট ২০২১
যৌন পরিষেবা কান্ডে ধর্ষণ একটি গুরুতর বিষয়। ‘ধর্ষণ’ সামাজিক যে পটভূমিকায় হয় তা সমাজের সৃষ্টি। একটু গভীর ভাবে দেখলে দেখা যাবে, সমাজের সঠিক শৃঙ্খলা মানুষকে দেয়নি , ফলে মানুষের সাধারণ চাহিদা কখনো সমাজ ধর্ষণ বলে আখ্যা দেয়। বিয়ে একটি সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক পথ বা জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবন চালাবার মতন পথ নয় যেখানে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে চীন নিয়ে বলছিলাম। চীনে মহিলা বা পুরুষকে আইনের উর্ধ্বে রাখেনা। সেখানে আমেরিকার মহিলাদের মত বেশ্যার ভুষণে পোশাকে রাস্তায় বা সাধারণের খোলা জায়গায় চলতে ফিরতে দেয়না। বা আধা ন্যাংটো হয়ে কোন আর্ট পারফর্ম করতে দেয়না। নারীবাদ নামক কোন ছদ্মশয়তানি করতে দেয়না। আর যদি কেউ রাস্ট্রের আইন ভংগ করে তার কপালে কি দুর্দশা আছে কেউ জানেনা। এবং তার কোন বিচার আচার নেই।
চীনে ধর্ষণের শাস্তি কম করে ৩ বছর আর বেশি হলে ১০ বছর। পার্টির মেম্বাররা নানারকম সুরক্ষা পান ফলে কোন ধর্ষণের শাস্তি অব্দি তাদের জন্য মুকুব হয়ে যায়। এছাড়া ধর্ষণ সম্পর্কে তাদের আইন পরিস্কার নয় যেখানে কেউ শাস্তি পেতে পারে। বিদেশি- আমেরিকার খবর অনুযায়ী, মহিলারা ধর্ষণ হলে পুলিশে রিপোর্ট করেনা। তার নানা ব্যাখ্যা আছে। তবু গত ১লা জুন ২০২১, দুজন শিক্ষকের দীর্ঘদিনের (২০০১ -২০২০) অল্পবয়েসী বালিকা ধর্ষণের অভিযোগে একজনের মৃত্যুদন্ড ও আরেকজনের ১৭ বছরের জেল হয়েছে।(surnamed Yang, was found guilty of raping nine young girls at Baisha primary school in Luxi county in Hunan. Eight of the girls were under the age of 14. The other perpetrator, surnamed Mi, joined Yang in a gang-rape of a 12-year-old female student) সূত্রঃ South China Morning Post
জাতিসংঘের ১৩০ টি রাস্ট্রের মধ্যে চীনে ধর্ষণ সংখ্যা অনেক কম উল্লেখ হয়েছে(According to a United Nations report based on police records of rapes in 130 countries from 2003 to 2012, the incidence of rape is not as high in China — at 2.1 per 100,000 people — as in the US (26.6), the UK (23.2), South Korea (12.7) and other countries)
এই নিয়ে যদিও বিবাদ আছে অনেকের। কারণ অনেক দেশে ধর্ষণকে গুরুতর কিছু মনে করেনা বা বড় করে দেখেনা। চীন রাজনৈতিকভাবে উত্তর পশ্চিম অংশে Xinjiang Uyghur Autonomous Region (XUAR) জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল (XUAR)। নিয়ে বিবাদ দীর্ঘদিনের। ১৯৪৯ সালে কম্যুনিস্ট বিপ্লবের পর চীন জিনজিয়াং অঞ্চলের উপর আধিপত্যতা বিস্তার করতে চাইল কিন্তু সেখানে উইঘুর মুসলিমরা তা হতে বাধা দেয়। ফলে চীনা সরকার কঠোর হাতে দমন করে রাখছে। ধর্ষণ হল তাদের একটা কৌশল যারা কম্যুনিস্ট বিরোধিতা করে। সে ছেলেই হোক আর মেয়েই হোক।
Urumchi, the provincial capital of the Xinjiang Uyghur Autonomous Region (XUAR), এখানে নিয়মিত দাংগা লেগে থাকে চীনা সরকারের সাথে।
পৃথিবীর সব রাস্ট্রে নারী পুরুষের অনুপাত ঠিক নেই। কিছু রাস্ট্র ছাড়া অধিকাংশ রাস্ট্রেই নারী সংখ্যা পুরুষ সংখ্যা থেকে কম। এর কারণ নানা রাস্ট্রের নানা সমস্যা জড়িয়ে আছে। তুলনায় চীনে অধিক কম। বলা হয় ১৩৬ জন পুরুষ পিছু ১০০ জন মহিলা।২০১০ সালে এই অনুপাত ছিল ১১৭ জন পুরুষ পিছু ১০০ মেয়ে। ফলে নারীর চাহিদা বা যৌন চাহিদা তীব্র আকার ধারণ করে আছে। ১৯ ৮০ নাগাদ চীন প্রতি পরিবারে এক সন্তান নির্দেশ দিয়েছিল, এছাড়া তাদের সামাজিক অবস্থা এমন কঠোর প্রজনন করাও অসুবিধা জনক। ফলে নারী সংখ্যা কমে গেছে। সেই কারণেও ধর্ষণকে গুরুত্ব দিতে চীনা সমাজ অপারগ।
ডিভোর্স হার খুব কম। যদি ঘটে ২০ মিনিটের ব্যাপার। আর ১০ ইয়ুয়ান (. In just 20 minutes with 10 yuan (less than US$1.50) and two signatures, a Chinese couples can now sometimes untie the knot) আর দুজনের সই, ব্যস। ডিভোর্স।
এবার চীনে নারী পাচার বা আমদানী হয়। আমদানী হয় পাশাপাশি রাস্ট সংযুক্ত ছোট ছোট রাস্ট্র থেকে। যেমন ভিয়েতনাম থেকে একজন অনেক টাকার বিনিময়ে এক স্কুল ছুট মেয়েকে এক চীনার সাথে বিয়ে দেবে পাচার করে নিয়ে এসেছিল( China, and she sold her to a Chinese family for VND140 million for marriage to a man) ধরা পড়ে চীনের জেলে।
ভিয়েতনামের মহিলাদের খুব চাহিদা চীনে। অল্প বয়েসী মেয়ে আমদানী হয় তাদের সাথে যে অভিজ্ঞতা তা খুব ভাল নয় কারণ বন্দী জীবন আর নিয়মিত ধর্ষণ ঘটে।
ভিয়েতনামে আরেকটা খারাপ জিনিস ঘটে একজন অন্যজনের বৌকে ছিনিয়ে নেয় যেন টাকা পয়সা।
তারপর পাচার করে দেয় চীনে।
৮০ শতাংশ ভিয়েতনামী মহিলা চীনে পাচার হয়। এ এক বড় চক্র। চীনের পুলিশের সামনে দিয়েই হয়। যেহেতু চীনে মহিলাদের চাহিদা রয়েছে।
হাজার হাজার মায়ানমারে মহিলা কে চীনে সন্তান প্রসবের কাজে লাগান হয়। (More than 7,500 women from Myanmar were in forced marriages with Chinese men in the past five years, according to a new study)
পাকিস্থান থেকে লোভ দেখিয়ে চীনাদের কাছে বিয়ে দেওয়া হয়। এরকম এক মহিলা তার বিয়ের ফটো দেখাচ্ছে উপরে। মহিলার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত খারাপ। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে।
উত্তর কোরিয়ার মেয়েদের দিয়ে চীনে যৌন ক্রীত দাসত্ব করা হয়।