Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ৩৯)

মাতৃত্বতা


এখন ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ মা বলে বিশ্বাস করা হয় যাকে তার বয়স ১১ বছর সেও তার শৈশব কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেও একটি শিশু তবু জন্ম দিয়েছে আরেকটি শিশুর। সে ১০ বছর বয়সে গর্ভবতী হওয়ার পর ২০২১ এর জুন মাসের শুরুতে প্রসব করল – এবং তার পরিবার (বাবা মা) অজ্ঞাত ছিল যে সে গর্ভবতী ছিল। খবরে বলা হয়েছে, ৩০ সপ্তাহেরও বেশি সময় পর ডেলিভারি করা মা ও শিশু উভয়েই ভালো আছেন।
ডাক্তারি শাস্ত্রে বলছে সাধারণত মেয়েরা গড়ে গর্ভবতী হয় ১১ বছরে, কিন্তু ৮ থেকে ১৪ বছর উঠা নামা করতে পারে। মানে অনেকের ৮ বছর বয়সেও হতে পারে, আবার কারুর দেরীতে হয় ১৪ বছরে। এটা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে ঘটে।

অবাক হওয়ার কথা নয়। কারণ, আমাদের সমাজ পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকতে চায়। বাস্তবে যদি বিয়ের কোন বয়স না থাকত আইনে তা হলে অনেক অল্প বয়সী মেয়েই মা হতে পারত। আজ অবদি যতগুলি ঘটনা ঘটেছে অল্প বয়সের মাতৃত্বতা, সবগুলি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় কারুর স্বাস্থ্যের বা জীবনে কোন ক্ষতি আসেনি। তবু পন্ডিতগণ বলবে নানা কুকথা, বিয়ে অল্প বয়সে করলে নানা ক্ষতির সম্ভাবনা। আসলে এসব পশ্চিমী বিকৃত ধারণা।আর্থিক-সামাজিক অবস্থা দেখে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নানা চালাকি। আমার একান্ত ব্যক্তিগত ধারণা। লিনা মেদিনা (Lina Medina, a Peruvian girl from the Andean village of Ticrapo) ৫ বছরে মা হয়ে যদি আজও ৮৭ বছর বাঁচতে পারে, তো আপনি কি বলবেন? শুধু লিনা মেদিনা নয়, এরকম ইতিহাস অনেক।
এইচ(H) নামে এক মুসলিম মেয়ে ১৯৩২ সালের ১৮ই মার্চ পেটে টিউমার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার স্বাস্থ্য ভাল, বুদ্ধিও ভাল উচ্চতা ৩ফুট ১১ ইঞ্চি, তার বাবা জানাল তার বয়েস ৭ বছর।তার দুধের দাঁত ২টো বাদে সব রয়ে গেছে। হাসপাতালে পরীক্ষা করে দেখল তার গর্ভের বয়স সাড়ে ছয়মাস। প্রসব ব্যথা শুরু হয় ৭ইজুন ও তাকে অস্ত্রোপচার করে মেয়ে সন্তান প্রসব করালেন ডাক্তাররা(a girl weighing 4.19 lb (1.90 kg) at Victoria Zanana Hospital in Delhi, India. )। শিশু মা ও তার বাচ্চা দুজনেই দুর্দান্ত ভাল ছিল।৯ মাস তার বুকের দুধ বাচ্চাকে খাইয়েছিল। এইচের জন্ম হয়েছিল ১১ই অক্টোবর ১৯২৫ সালে।
আইনের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলেনা। গ্রামে গঞ্জে মেয়েরা বিয়ে বসে বয়েস বাড়িয়ে। আর যাদের ছোট বয়সে বিয়ে হয়

তাদের বিচ্ছেদ হতে শুনিনি।
অধিকাংশ বিয়ে যা বিচ্ছেদে পরিণত হয় তার কারণ নারী পুরুষ একে অপরের বিষয়গুলি মেনে নিতে পারেনা। কলেজ জীবনে প্রেম হয় (নাকি যৌন সুখের অভিজ্ঞতা নেয়) সেগুলি নেহাৎ ভবিষ্যতের ঘর বাঁধার পরিকল্পনায়। কিন্তু দেখা যায়, একবার যৌন সুখের অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা হলে কেউ একজনের মধ্যে সীমিত থাকেনা, বহু ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সাথে ঘটতে থাকে। দেখা যায় নারী পুরুষ যৌন সুখের পর বিয়ের সময় অন্য কাউকে বেছে নেয়। ফলে কেউ একজনের সাথে বিয়ের পর নিয়মিত যৌনসুখে তৃপ্ত হয়না।শুরু হয় অশান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা হারিয়ে যায়।
অল্প বয়েসে যাদের বিয়ে হয় অধিকাংশের পাত্র পাত্রীর বয়সের ফারাক অনেকটাই থাকে। কম করেও ১৫/২০ বা এর বেশি হয়। দেখা গেল ১৪ বছরের মেয়ের সাথে ৩০ বছরের রোজগেরে ছেলের বিয়ে হল। ১) বয়সে বড় থাকাতে শ্রদ্ধা/সমীহ থাকে স্বামীর প্রতি। স্বামীরও তার চেয়ে অনেক ছোট বলে কর্তব্য নিষ্ঠ থাকে। আর অল্প বয়সে স্বামীর বাড়ির আদবকায়দা আচার বিচার ইত্যাদি গ্রহণ করে নিতে অসুবিধা হয়না।
২) বুড়ো বয়সেও – নারী যখন ৫০ বছরের আসবে স্বামীর তখন ৭০ বয়স ফলে দুজনের একসাথেই যৌন সংগমের ইচ্ছা ফুরিয়ে আসবে। বিয়ের একটা শর্ত তো পুরুষের যৌন সুখ ও সেবা।
কলেজের ৫বছর সমবয়সীর সাথে প্রেম করে বিয়ে করলেও দেখা যায়, বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তার একটা কারণ সমবয়সী হলে কেউ কারুর কথাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেনা। দুজনেই কর্তৃত্ব ফলাতে চায়, নিজের অহমিকা বজায় রাখতে চায়। সাধারণত যে টাকা রোজগার করে সে অন্যজনের অধীনে কেন থাকবে?
বিয়ের মানে নিজের বংশ বিস্তার করা। কারুর সন্তান না হলে খুব দায় বদ্ধতা না থাকলে বিচ্ছেদ ঘটে ও পুনরায় বিয়ে হয়।

নিউইয়র্ক পোস্টের ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ এর প্রতিবেদনে বলেছে একজন মহিলা , নাম ক্লেয়ার পেপ (Claire Pape, 43, from Beverly, East Yorkshire in England, went through menopause at 13 years old after experiencing just one menstrual cycle.) তার জীবনে মাসিক স্রাব একবারই ঘটেছে, সেই ১৩ বছর বয়সে। তার বর্তমান বয়েস ৪৩বছর। ১৭ বছর বয়েসে ডাক্তার বলেছে তার কোনদিন সন্তান হবেনা। কিন্তু বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে গেছে ফলে সে আবার গর্ভ সঞ্চার করতে পেরেছে আই ভি এফ এর মাধ্যমে(in-vitro fertilization.)
চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।