Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ৩৮)

বিবাহ সমস্যা আক্রান্তঃ প্রশাসন জানে
শীর্ষস্থানীয় মহিলা আমলা ‘স্ত্রীর সংজ্ঞা দাবি করেছেন, বলেছেন নারীরা আইনের অপব্যবহার করছে
(Theprint ইংরাজী খবর মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দাতা সানিয়া ধিংরা ১০ নভেম্বর, ২০১৭।)

অরুণা শর্মা (কেন্দ্র) সচিব, কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রণালয় | সূত্র: পিআইবি PIB
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের একজন শীর্ষ মহিলা আইএএস কর্মকর্তা, ইস্পাত সচিব (শ্রীমতী) অরুণা শর্মা একটু রাগান্বিত হয়ে মহিলাদের উপর একহাত নিলেন।বললেন, মহিলারা তাদের অধিকারের নামে খুবই সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভংগীর ( “narrow approach in the name of women’s rights”)হয়ে পড়েছেন। পুরুষরা মিথ্যা বিচারের গোলকধাঁধায় আটকে পড়ছে এবং বিশ্বাস হারাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন মহিলাদের দ্বারা আইনের ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে, এই ধরনের “সক্রিয়তা activism” এর ফলে পুরুষরা বিচারব্যবস্থা এবং বিবাহ প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে।
শর্মা ৩১ আগস্ট মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রককে to the Ministry of Women and Child Development একটি চিঠি লিখেছেন, যাতে মূল আইনি বিধানগুলিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।“The judiciary and policy makers cannot be prejudiced, It has to ensure that mechanisms are there for imparting proper justice, (an) innocent is not harassed, and heavy penalty (is given) to those who harass and try to frustrate the judicial system by using all tactics to delay justice and resort to extortion,”
“বিচার বিভাগ এবং নীতিনির্ধারকদের আগের থেকেই প্রতিকুল ধারণার বশবর্তী করা যাবে না,” তিনি লিখেছেন। “এটা নিশ্চিত করতে হবে যে যথাযথ ন্যায়বিচার প্রদানের জন্য যান্ত্রিক ব্যবস্থা আছে, (একজন) নির্দোষকে হয়রানি করা হবে না, এবং যারা বিচারকে দেরী করার জন্য কৌশল অবলম্বন করে এবং তোলাবাজি করতে চায় যাতে বিচার ব্যবস্থায় হয়রানি হয় এবং হতাশ করার চেষ্টা করে তাদের কঠোর শাস্তি (জরিমানা) হয়) দিতে হবে।
শ্রীমতী অরুণা শর্মা বলেন আগে ‘স্ত্রী’ শব্দের সংজ্ঞা নিরূপন হোক। না হলে এই সম্পর্ককে হাতিয়ার করে এক শ্রেণির মহিলা “তোলা ” তুলছেন।পণ ও নির্যাতনের নামে মিথ্যা মামলা আনছেন। বিয়ের নামে কারোর জীবন নরক করে তোলে, সন্তানহীন জীবন যাপন করে কয়েক বছর পর বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছেড়ে চলে গেলে তাকে স্ত্রী বলা যায়না।( “Women select a boy who is from (a) good family (who is) earning well, move to marry him, make life hell for a couple of years, ensure no child is born, walk out, and shoot multiple cases under domestic violence, (Section) 498A (of the Indian Penal Code), Section 125 (of the CrPC) for maintenance, (Section) 406 (IPC) to demand jewellery given by the boy’s family, so on and so forth.”) বিচ্ছেদের পর স্বামীর কাছে খরপোষ চাওয়ার বা স্বামীর পক্ষে খরপোষ দেওয়া উচিতও নয়। কারণ সেই পুরুষের আবার নতুন বিয়ে হলে সেই সংসার তাকে সঠিক চালাতে হবে। মহিলারা বৈবাহিক বাড়ি ও সম্পর্ককে গাড়ি পার্কিং এর জায়গার মতো মনে করে।
বৈবাহিক ধর্ষণের ক্ষেত্রে, শ্রীমতী শর্মা মনে করেন এই অভিযোগ দুতরফেই হতে পারে। “It (marital rape) is having intercourse when one of the partners unwilling, it is possible by both genders — and it is word of one against another, what are we trying to hint at? If the woman is undergoing harassment, she can separate from the partner.” ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা মহিলাদের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে দিয়েছে। যার ফলে পুরুষদের অন্তহীন আইনী গোলকধাঁধায় পাক খেতে খেতে বিচার ব্যবস্থা ও বিবাহ প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা হারায়।
দেশের পরিবেশ আধুনিক লুঠেরা (“modern-day dacoit”) মহিলাদের বানিয়েছে।
যদিও শর্মা মাতৃত্বকালীন ছুটি সমর্থন করেন কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে মহিলারা “প্রকৃতির দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত”। মাসিকস্রাবের ছুটি প্রসংগে, তিনি বলেছিলেন: “এটি আবার অধিকারের আড়ালে (স্থান) নিচ্ছে … যদি নারী কর্মচারীরা সাম্যতা চায়, (তারা) অনিশ্চিত হতে পারে না পিরিয়ড ছুটির নামে অফিসে যোগদান করবে কিনা … এটি এমন কিছু যা মহিলারা প্রাচীনকাল থেকে পরিচালনা করে আসছে এমনকী জন্মদেবার সময়েও । আগামীকাল সিনিয়র পর্যায়ে যাবেন, তখন মাসিক স্রাব বন্ধ বলে ছুটি নিতে পারেন। ছুটি হতে পারে যা দীর্ঘমেয়াদী, এমনকি (একজন) মহিলা বস হিসাবেও, এটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। “This is again taking (place) in the garb of rights… If women employees want equity, (they) cannot be unpredictable in attending office in (the) name of period leave… this is something women working even as labour have been managing from time immemorial. Tomorrow at senior level, there could be menopause leave that is long term, even as (a) woman boss, it is definitely unacceptable.”
চিঠির শেষে লিখেছেন , এটা নিশ্চিত করতে হবে আইন আদালত মহিলাদের জন্য নয় শুধু পুরুষদের জন্যও। “I think the time has come to speak out and ensure justice is (meted) to not only wronged girls, but also (to) wronged boys,”
শ্রীমতী অরুণা শর্মা ৮টি প্রস্তাব দেন যাতে পুরুষদের মিথ্যা হয়রানি থেকে রক্ষা পায়।
১। গার্হস্থ্য নির্যাতন বা হিংসার অভিযোগগুলি আদালতে কেবলমাত্র মেডিকেল রিপোর্ট বা পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান দ্বারা সমর্থিত হলে স্বীকার করতে হবে
২। ধারা ৪৯৮ এ বা যৌতুক আইনের অধীনে অভিযোগগুলি কেবলমাত্র আয়কর রিটার্ন সহ ব্যয়ের নথিপত্র প্রমাণিত হলেই স্বীকার করা হবে
৩। পারিবারিক গহনা যার প্রকৃত মালিকানা শাশুড়ির, বরের পরিবার দ্বারা বজায় রাখা হবে, কারণ পাত্রী শুধু একজন জিম্মাদার/ দায়িত্বের, মালিক নয়।
৪। নারীরা যোগ্য এবং কাজ করতে সক্ষম হলে ফৌজদারীর ১২৫ এর ধারা এর অধীনে কোন রক্ষণাবেক্ষণ দেওয়া যাবে না।।
৫। বিবাহ থেকে যদি কোন সন্তান না হয়, তাহলে কোন ভরণপোষণ দেওয়া যাবে না।
৬। স্ত্রীর অর্থ সংজ্ঞায়িত করতে হবে যাতে এমনি কেবল বিয়ে করে , কয়েক বছরের জন্য জীবনকে নরক বানিয়ে এবং কোন সন্তানের জন্ম না হয় তা নিশ্চিত করে ছাড়াছাড়ি করে চলে যায়।
৭। তোলাবাজির জন্য স্বামীর হয়রানি দীর্ঘায়িত রোধ করার জন্য ৬ মাসের মধ্যে বিচ্ছেদ দিতে হবে।
৮। মিথ্যা হলফনামায় কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে বা মেয়েটির জন্য ১০ বছরের জেল দিতে হবে।